ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

এগিয়ে চলার স্বপ্ন

এগিয়ে চলার স্বপ্ন
×

‘আমেরিকান ফ্যাক্টরি’ এর পরিচালকদের সঙ্গে ওবামা দম্পতি

অদিতি মুস্‌তাফী

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:২৫

'এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না, যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না, যদি এদেশের মানুষ- যুবক যারা আছে তারা চাকরিনা পায়...।'
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতায় এই নিখুঁত ছবি স্বচ্ছন্দ ভাষায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল। এই ভাষণটি যেমন ছিল আবেগঘন, তেমনই ছিল দিকনির্দেশনামূলক। সদ্য স্বাধীন একটি জাতির রাজনৈতিক বিভিন্ন দিক আর আর্থ-সামাজিক উপাদানগুলোকে কত সহজ কথায় বিশ্নেষণ করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার! কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৪৯ বছরপূর্তির প্রাক্কালে আমাদের এই প্রিয় স্বদেশ বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে কতটুকু সার্থক করতে পেরেছে? পেরেছে কি তার নির্দেশনাগুলোকে ধারণ করতে? হয়তো আমাদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসেবে গরমিল ও অতৃপ্তি রয়েছে বিস্তর। সেই সঙ্গে এ প্রশ্নও রয়ে যায়- এ দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ করার জন্য আমরাই-বা কতটা সততা আর দেশপ্রেমের সঙ্গে নিজ কর্তব্য পালন করতে পেরেছি? পুরোনো বছর যায়, নতুন বছর আসে; কিন্তু এই সহজ প্রশ্নের উত্তরটা যেন সবসময় আমাদের কাছে জটিল। নানাবিধ দুর্ঘটনার চিত্র থেকে শুরু করে হত্যা, ধর্ষণ, নদী দখল, দুর্নীতির থাবা, মাদকের বিস্তার, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, আর্থিক বিভিন্ন কেলেঙ্কারি থেকে পেঁয়াজের ঝাঁজ বৃদ্ধির খবর কিংবা নুসরাত হত্যার মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ড যেমন নাগরিক মনোজগৎকে আলোড়িত করেছে; তেমন সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের মেধাবীদের দ্বারা সংঘটিত আবরারের বর্বর হত্যাকাণ্ড সবাইকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রশ্ন জাগিয়েছে মানবতাহীন, মূল্যবোধহীন শিক্ষা অর্জন করে শুধু 'মেধাবী' তকমা গ্রহণের লাভ-ক্ষতি নিয়েও।
এত কিছুর মাঝেও আমরা স্বপ্ন দেখি প্রতিদিনের নতুন সকাল যেন নতুন বাণী শোনায় আমাদের। বঙ্গবন্ধুর বলে যাওয়া 'আমরা হার মানব না, আমরা হার মানতে জানি না'- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা এত নেতিবাচকতার সঙ্গেই প্রতিদিন জীবনযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। নানাবিধ হতাশার সমান্তরালে আমাদের প্রিয় স্বদেশ এগিয়ে চলে নিজ কর্মমহিমায়।
এখন বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। প্রতি বছর বাড়ছে আমাদের প্রবৃদ্ধি ও আয়। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী এশিয়ার মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। দারিদ্র্যের হারও কমেছে বর্তমানে। সম্প্রসারিত হচ্ছে রপ্তানি খাত। পোশাক শিল্পের সঙ্গে ইস্পাত, সিমেন্ট, ইলেকট্রনিক্স, সিরামিক ইত্যাদি শিল্পও এগিয়ে চলেছে ব্যাপক গতিতে। বাড়ছে মোবাইলভিত্তিক বিভিন্ন আর্থিক সেবা। প্রাণ সঞ্চার হয়েছে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির গতিতেও।
শুধু তাই নয়, আমাদের প্রতিদিন উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায় তরুণ প্রজন্মের অগ্রগতি। তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক অবদান যেন বঙ্গবন্ধুর স্বনির্ভর বাংলাদেশের ধারণাকে সত্য রূপ দেয়। তাই তো গতানুগতিক পেশার বাইরে খুদে উদ্যোক্তা, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ভিডিও কনটেন্ট মেকার, প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার, ইভেন্ট ম্যানেজার, ওয়েব ডেভেলপার, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার, কোয়ালিটি কন্ট্রোলারসহ কত বৈচিত্র্যময় পেশায় এখন বিচরণ! এই নতুন পেশার সংযোজন যেমন কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগগুলোর দ্বার উন্মুক্ত করেছে, তেমনি তরুণ প্রজন্মকে করে তুলেছে দক্ষতাকেন্দ্রিক। ভাষা দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সফটওয়্যার দক্ষতা পুঁথিগত বিদ্যার্জনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কারণেই আবশ্যক হয়ে উঠছে।
শিক্ষক, সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

আরও পড়ুন

×