ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে মাঠ মাতাচ্ছেন অভিবাসীরা

বিশ্বকাপে মাঠ মাতাচ্ছেন অভিবাসীরা
×

ফ্রান্স বিশ্বকাপ দলটি অভিবাসী ফুটবলারে গড়া। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, স্পেনের তারকা ফুটলাররাও অভিবাসীর সন্তান। তেমনই একজন ফরাসি ফুটবলার মাইকেল ওলিসে

আহসান হাবিব সম্রাট

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৬

ইয়াসিন আয়ারির গল্পটা আমরা সবাই জানি। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া গোল করেও উদযাপন করতে পারেননি সুইডেনের এ মিডফিল্ডার। পিতৃভূমির বিপক্ষে গোল করায় উল্টো তিউনিসিয়ান সমর্থকদের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রাইটনের এ ফুটবলার। তবে এবারের বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন যেন অভিবাসী ফুটবলাররাই।

বিশ্বকাপে অভিবাসী ফুটবলারদের অন্যতম পোস্টার বয় যুক্তরাষ্ট্র দলের ফোলারিন বালোগান। নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত এ ফুটবলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিকরা।

তবে আয়ারি ও বালোগান যেন বিশ্বকাপে অভিবাসীদের ফুলবাগানের দুটি ফুল মাত্র। এবারের টুর্নামেন্টে দ্রুততম হ্যাটট্রিক উপহার দেন ফরাসি দলের উসমান দেম্বেলে। মালি বংশোদ্ভূত এই প্যারিস সেন্ট জার্মেই তারকা এই আসরে চার গোল করে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার। টুর্নামেন্টের অপর চার গোলদাতা ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও একজন অভিবাসীর সন্তান। ১৬ গোল করে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। এমবাপ্পের বাবা ক্যামেরুন ও মা আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত, সেটি অনেকেরই জানা।

চলতি আসরে আলোচিত অভিবাসী ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার জোনাথন ডেভিড। হাইতিয়ান মা-বাবার সন্তান ডেভিড এরই মধ্যে টুর্নামেন্টে তিনটি গোল করেছেন। তাঁর নৈপুণ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কানাডা। বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত অভিবাসী খেলোয়াড় জার্মানির দেনিজ উনদাভ এরই মধ্যে তিনটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। একইভাবে টুর্নামেন্টে নিজেদের মেলে ধরেছেন আরও তিন অভিবাসী– মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি, নেদারল্যান্ডসের ব্রায়ান ব্রবি ও সুইজারল্যান্ডের জোনাথন মানজাম্বি। আসরে এখন পর্যন্ত প্রত্যেকেই তিনটি গোল করে নিজেদের জাত চিনিয়েছেন। এসব ফুটবলারের নৈপুণ্যে ভর করে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের জায়গা নিশ্চিত করে জার্মানি, মরক্কো, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ড। সেনেগাল ও অস্ট্রেলিয়া দলের সাফল্যের মূলেও রয়েছেন দুই অভিবাসী ফুটবলার। নেস্টোরি ইরানকুন্ডা ও ইব্রাহিম এমবায়ে টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া ও সেনেগাল দলের পোস্টার বয়।

কেপ ভার্দে থেকে শুরু করে মরক্কো– আফ্রিকার অধিকাংশ দেশের সাফল্য এসেছে অভিবাসী ফুটবলাদের ওপর ভর করে। গত বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো নিজেদের অধিকাংশ ম্যাচেই একাদশ সাজাচ্ছে অভিবাসী খেলোয়াড়ে। একই কথা প্রযোজ্য কেপ ভার্দের ক্ষেত্রেও।

টুর্নামেন্টের আফ্রিকান দলগুলো এবার বিশ্বকাপে রূপকথা রচনা করেছে। ১০টি দলের সাতটিই জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। এসব দলের সাফল্যের চালিকাশক্তি মূলত তাদের অভিবাসী ফুটবলাররা। ছোট্ট একটি পরিসংখ্যানেই বোঝা যাবে এবারের বিশ্বকাপে অভিবাসী খেলোয়াড়দের দাপট কতটা। মরক্কোর ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলের ১৯ জন, কুরাসাওয়ের ২৫, কঙ্গোর ২২, বসনিয়ার ১৯, কেপ ভার্দের ১৪, সেনেগালের ১২, ক্রোয়েশিয়ার ১১, ঘানার ৮ এবং কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড দলের সাতজন করে অভিবাসী ফুটবলার রয়েছেন। এমনকি অভিবাসী ফুটবলার দিয়ে দল সাজিয়েছে এশিয়ার দুই কুলীন শক্তি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও।

আরও পড়ুন

×