সিয়াটলে ইরানি ‘থ্রিলার’
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ১১:০৩
একটি সফল ছোটগল্পের শুরু ও শেষটা ভালো হতে হয়। মিসরের বিপক্ষে সেই ছোটগল্প লিখতে চেয়েছিল ইরান। ৯০ মিনিটের ম্যাচে সে কী লড়াই! রহস্য উপন্যাসের পাতায় পাতায় লুকিয়ে থাকা শিহরণের মতো রোমাঞ্চ-জাগানিয়া শুরুর ১৫ আর শেষের ১০ মিনিট। ইরানের আক্রমণের তোড় এবং গোলবঞ্চিত হওয়া হলিউডের কোনো থ্রিলার মুভির দৃশ্যায়নের কথা মনে করাচ্ছিল সিয়াটলে। কে জানত, এই রোমাঞ্চের সমাপ্তি লেখা হবে এমন বিয়োগান্ত। ইরানের নিশ্চিত জেতা ম্যাচ ড্র হলো ১-১ গোলে। এই ড্র মিসরকে সরাসরি তুলে দেয় সেরা ৩২-এ। তাই মোহামেদ সালাহদের কাছে এই ড্র জয়ের সমান। ইরানের জন্য তা হতাশার। গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচে ড্র করা দলটির আপাত ঠিকানা ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’। যাদের সেরা ৩২-এ খেলা নির্ভর করছে ‘জে’, ‘কে’ ও ‘এল’ গ্রুপের কিছু ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
বিশ্বকাপে ইরানের পথচলা থেমে যাবে কিনা জানা যাবে আজ সকালে। ইরানিরা ভোর দেখবেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। ‘জে’ গ্রুপে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ম্যাচের ফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ জয়-পরাজয়ে শেষ হলে জয়ী দলের পায়ে পায়ে এগিয়ে যেতে পারে ইরানও। ভাগ্যের শিকে ছিঁড়তে পারে রাতেও। বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রচণ্ড বৈষম্যের শিকার হওয়া ইরান মেক্সিকোর বেস ক্যাম্প থেকে দেশে ফেরার বিমান ধরবে, না হাজার বছরের পারস্যের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারকরা বিশ্বের কাছে নিজেদের তুলে ধরবে আর একবার? উন্নত শিরে প্রবেশ করতে পারবে কি যুক্তরাষ্ট্রে? নিউজিল্যান্ড আর বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র করে মর্যাদা নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসকে বিদায় জানিয়েছিল। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি জিতে গেলে রাজার মতো গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে বেলজিয়ামের সঙ্গী হতো সেরা ৩২-এ। আসলে নিয়তি যেখানে লুকোচুরি খেলে, সেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে আকাঙ্ক্ষা। ফুটবলের ঈশ্বর যে বর দিয়ে রেখেছেন প্রাচীন সভ্যতার আরেক দেশ মিসরকে।
লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়ার সময় ইরানের ফুটবলাররা লকার রুমে রেখে গিয়েছিলেন হাতে লেখা আবেগী এক চিঠি। যেখানে সমর্থক ও স্থানীয় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, যুদ্ধে শুধু হত্যার প্রতিবাদে হ্যাশট্যাগ ও শান্তির বার্তা ছিল। মিসরের সঙ্গে গতকাল শনিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচ শেষে ফিফার সমালোচনায় মুখরও হলেন সেই তারা। দেশটির অধিনায়ক মেহদি তারেমি ক্ষোভ উগরে দেন, ‘এটি জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা।’ বিশ্বসভ্যতার কাননে গোলাপের সৌরভ ছড়ানো পারস্যের ধারক ইরানিরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশেও অকৃপণ। জাতির প্রতিনিধি হয়ে তারেমি যেমন প্রশংসায় ভাসান মেক্সিকোকে– ‘তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকে ভালোবাসি।’
সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ে ইরান। পঞ্চম মিনিটে আলিরেজা বেইরানভান্দের পায়ের ফাঁক গলে বল জালে পাঠান মাহমুদ সাবের। গুছিয়ে ফুটবল খেলা ইরান সমতা ফেরায় ৯ মিনিটের ব্যবধানে। ম্যাচের চতুর্দশ মিনিটে গোল করেন রামিন রেজাইন। একাদশ মিনিটে তারেমি পেনাল্টি মিস না করলে ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারত তারা। শেষদিকের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। বল দুবার ক্রসবারে লেগে ফিরে এসেছে। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলও পেয়েছিল ইরান। পুরো দল বিজয় উদযাপনও করে ফেলেছে, কিন্তু রেফারি ভিআর প্রযুক্তি দেখে গোল বাতিল করেন। গ্যালারিতে যে আনন্দ ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সমর্থকদের, সেই আকাশ মুহূর্তে ছেয়ে গেছে হতাশার আষাঢ়ে কালো মেঘে।
- বিষয় :
- ইরান
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬
