ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

শতবর্ষে বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়

শতবর্ষে বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়
×

কাজী সবুর

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২০ | ১৫:১১

ঐতিহ্যবাহী বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয় পালন করছে শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসব। এই শতবার্ষিকী উৎসবকে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের হৃদয়ে চির জাগ্রত করে প্রাণে প্রাণে মিলনে আবদ্ধ করার একটি মহান প্রয়াসে আজ ৩ মার্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান। বিশ শতকের প্রথম দিকে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত তদানীন্তন মাদারীপুরের কালকিনির প্রত্যন্ত অঞ্চলে বীরমোহন পরগনার মানুষের সর্বজনীন কল্যাণ সাধনে বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সমাজসেবক, দানবীর ব্রিটিশ শাসিত যুগের সেশন জজ, স্বর্গীয় রায় বাহাদুর রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। চাকরি জীবনের শেষে শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন পরগনার নামে বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়। তার মহান উদ্দেশ্য ছিল, জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সবাই যাতে শিক্ষা পেতে পারে, যাতে শিক্ষার আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ছিলেন সব সংকীর্ণতা, সব হীনতার ঊর্ধ্বে একজন মহৎ প্রাণের মানুষ। এই বিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্বীকৃতি লাভ করে ১৯২৩ সালে। কালকিনি থানার এটিই সর্বপ্রথম বিদ্যালয় হিসেবে সেই সময় পশ্চিমে কোটালীপাড়া থেকে পূর্বে কালকিনি এবং উত্তরে মাদারীপুর থেকে দক্ষিণে বরিশালের বার্থী পর্যন্ত বিরাট এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল এই বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়।

আজ এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় রায় বাহাদুর রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়কে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আলোকিত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

ঐতিহ্যবাহী বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের গৃহনির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত লস্করবাড়ির দুর্গামন্দিরেই ক্লাস হতো। স্কুল প্রতিষ্ঠাতা রজনীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িকেই লস্করবাড়ি বলা হয়। লস্করবাড়ি সংলগ্ন জমি স্কুলের নামে দান করে লস্কর পরিবার এবং এ পরিবারের দান করা ৬ একর জমির পরিধি নিয়ে স্মৃতি হয়ে আছে সর্বজনীন অধিকারপ্রাপ্ত এ স্কুলটি। সর্বস্তরে শিক্ষা বিস্তারের সৈনিক হয়েছিলেন প্রতিষ্ঠাতার পুত্রদ্বয় রাজেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। পেশাগত আইন ব্যবসায় যোগ্যতাসম্পন্ন হয়েও বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষকের হাল ধরেন দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং পরবর্তীকালে প্রধান শিক্ষকের পদ অলঙ্কৃত করেন রাজেন্দ্রনাথ চট্টেপাধ্যায়। রায় বাহাদুর রজনীকান্তের যোগ্য উত্তরসূরি পুত্রদ্বয়ের শিক্ষকতার দক্ষতায় তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে এ বিদ্যালয়টি প্রথম শ্রেণির বিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত হয় এবং পরীক্ষার ফলের যোগ্যতার মাপকাঠিতে তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সদয় সন্তুষ্টি চিত্তে তখন থেকেই বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয় স্থায়ী স্বীকৃতি লাভ করে। তথ্য সংগ্রহকারী লেখক ও ষাটের দশকের শেষ দিকে এ বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। তখন স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে দৃশ্যপটে যা দেখেছি, তা চেতনালব্ধ হয়েই আছে। ঐতিহ্যবাহী লস্করবাড়ির সবুজ-শ্যামল বাগানবাড়ি সংলগ্ন তিন দিক ঘেরা স্কুল গৃহ ও উত্তর দিকের টিন সেডের বাউন্ডারি গেট এবং মাঠের পূর্বপাশে বিশাল পুকুরের ফটলা ও বাঁধানো সিঁড়িতে শিক্ষার্থীদের জীবনের স্মৃতি জড়িত থাকলেও তা কেবল ঐতিহ্য হিসেবে আছে নামেমাত্র। স্কুল প্রতিষ্ঠাতা রজনীকান্তের বাগানবাড়ির সৌন্দর্যের লীলাভূমি যেমনি ভোগ করছে না শিক্ষার্থীরা, তেমনি বাগানবাড়িতে রজনীকান্ততনয় প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্রনাথের মৃত আত্মার স্মৃতিস্তম্ভটিরও নির্দিষ্ট ঠিকানা খুঁজে আর পাওয়া যাচ্ছে না।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মূল্যবান বাণী দিয়ে স্মরণিকার শ্রীবৃদ্ধি করে আমাদের কৃতার্থ করায় আমরা তাদেরকে সশ্রদ্ধা চিত্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বরেণ্য প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকমণ্ডলী, সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হোক।

মুক্তিযোদ্ধা, প্রাক্তন ছাত্র ও সভাপতি, বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ

আরও পড়ুন

×