ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

শিশু সুরক্ষা ও দিবাযত্ন কেন্দ্র

শিশু সুরক্ষা ও দিবাযত্ন কেন্দ্র
×

ফাইল ছবি

মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২০ | ১২:১৬

বদলে যাচ্ছে পরিবার কাঠামো। কেমন এ পরিবর্তন? একসময় যৌথ পরিবারকে কেন্দ্র করে মুখরিত ছিল পরিবার। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজছে একক পরিবারে। মানুষ যেন স্বেচ্ছায় একাকিত্বকে বরণ করছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে নারীর কর্মসংস্থান। যে পরিবারে একজন 'মা' সন্তান বা পরিবার-পরিজনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। 'বোন' হলেন পরিবারে স্নেহ-ভালোবাসার অনন্য ক্ষেত্র। নারীর কর্মসংস্থানের কারণে পরিবারে মা-বোনের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। 'নারী উন্নয়ন' ও 'নারীর ক্ষমতায়ন' ধারণায় নারী আজ ঘরের কোণে আবদ্ধ নয়। সর্বক্ষেত্রে নারীর সার্থক অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। ফলে কর্মজীবী নারীর সন্তান লালন-পালন ও শিশু সুরক্ষা সংকটের মুখে পড়েছে।
দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। সভ্যতার যুগে এ ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় পুরুষের জীবন-সংগ্রামের সফলতার পেছনে একজন নারীর ভূমিকা অনন্য। প্রথাগত সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা সম্পত্তির মালিকানা চায় না। বরং প্রত্যাশা করে, স্বামী-পরিবার-পরিজনের কাছে ভালোবাসা, সম্মান ও নিরাপত্তা। প্রথাগত ঐতিহ্যের কারণে বাঙালি সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা আজও কার্যত ক্ষমতাহীন। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। বর্তমান সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক দর্শন 'নারীর ক্ষমতায়ন'। মানুষের 'ক্ষমতা' কী? ক্ষমতা হচ্ছে মানুষের যোগ্যতা, প্রভাব বা শক্তি। 'ক্ষমতায়ন' হচ্ছে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদে রয়েছে- 'রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন' এবং ২৯ (১) অনুচ্ছেদে রয়েছে- 'প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।' বর্তমান সরকার নারীর সার্বিক কল্যাণে 'জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১' প্রণয়ন করেছে। নারীর ক্ষমতায়নে সরকারপ্রধান হিসেবে বিশেষ ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকটি আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত হয়েছেন।
সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নারী উন্নয়নের অন্যতম দিক। এর মাধ্যমে কর্ম ও অর্থোপার্জনে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। উপার্জিত অর্থের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ ও আয়-ব্যয় করার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। 'নারী কর্মসংস্থান' নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য একান্ত আবশ্যক। শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, বিচারক, কৃষিবিদ, প্রশাসনিক পদ, পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে কর্মজীবীর সংখ্যা ৫ কোটি ৪১ লাখ। নারী কর্মজীবীর সংখ্যা এক কোটি ৬২ লাখ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তা ১৬ হাজার ৬৯৭ জন। দেশে নারীর কর্মসংস্থান ২০০৩ থেকে ২০১৬ সালে ২৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
দেশে ক্রমেই নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে নানা চ্যালেঞ্জ আছে, আমরা কি ভাবি সে কথা? পরিবারের মৌলিক সদস্য নারী যদি কর্মক্ষেত্রে থাকে, সেই পরিবার পরিচালনা অত্যন্ত জটিল। বিশেষত যৌথ পরিবারের ভাঙনের মুখে একক পরিবারে এ সমস্যা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে থাকাকালীন সন্তানের নিরাপত্তা, লালনপালন, স্কুলে পাঠানো, রান্নাবান্না, গৃহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি বিষয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভোগেন কর্মজীবী নারীরা। কারণ একজন কর্মজীবী নারীকে এক হাতে সংসার, অন্য হাতে সামলাতে হয় অফিস। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা কর্তৃক 'শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন-২০২০' অনুমোদিত হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় সরকারি ভর্তুকিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সমাজে নারী-পুরুষ পরস্পর পরিপূরক। দেশের জন্য নারী সমাজ এগিয়ে আসছে। জাতীয় স্বার্থে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে নারী সমাজের প্রশান্তি।
সহকারী পরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়, চট্টগ্রাম
[email protected]

আরও পড়ুন

×