ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মেক্সিকোর গির্জাতেও বিশ্বকাপ ফুটবল

মেক্সিকোর গির্জাতেও বিশ্বকাপ ফুটবল
×

আহসান হাবিব সম্রাট

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১১:১৭

বিশ্বে তরুণদের মাঝে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি ধর্মের প্রতি আগ্রহ কমছে। স্বনামখ্যাত জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার ও গ্যালাপ পোলিংয়ের জরিপে দেখা গেছে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে ধর্মীয় আচার পালনে মানুষের অনীহা বাড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি তিনজনের একজন গড়ে সপ্তাহে এক দিন গির্জায় যান। যেটা আগের দশকগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম। বিশ্বকাপ সামনে রেখে ধর্ম প্রচারে গির্জায় ফুটবল ম্যাচ সম্প্রচারসহ নানা উদ্যোগ দিয়েছে টুর্নামেন্টের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর একাধিক ধর্মীয় সংগঠন। স্থানীয় গির্জাগুলো তরুণদের আকৃষ্ট করতে একসঙ্গে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার আয়োজনসহ ফুটবলকেন্দ্রিক নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করেছে।

১১ জুন যখন মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের সূচনা হয়, তখন মেক্সিকো সিটির ইগলেসিয়া বাউতিস্তা এস্ত্রেলা দে বেলেন গির্জায় উপস্থিত ১০০ জন করতালি ও উল্লাসে ফেটে পড়েন। ওই গির্জার ৬৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ক্রীড়া ইভেন্ট প্রদর্শন করা হয়। বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন গির্জার সদস্যরা। আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ২-০ ব্যবধানের জয় উপভোগ করেন তারা। তবে সেখানে ফুটবল ম্যাচের বিরতি চলাকালে কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিটের বিরতিতে গির্জার যাজক ইসরায়েল আমারো উপস্থিত লোকদের উদ্দেশে ধর্মীয় ‘বয়ান’ করেন। তিনি বলেন, ‘বিরতির সময় খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে আকর্ষণীয় একটা ব্যাপার ঘটে। কোচেরা তখন খেলোয়াড়দের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করেন, দলে প্রয়োজনীয় রদবদল ঘটান এবং খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করে তোলেন। তারা জানেন, এসব না করলে ম্যাচে জয় পাওয়া সম্ভব হবে না। তেমনি বাইবেল আমাদের শেখায়, এটি আমাদের জীবনের মধ্যবিরতির মতো। যখন আমরা জীবনের গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারি।’

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ প্রদর্শন উপলক্ষে চার্চের পক্ষ থেকে সদস্যদের আহ্বান জানানো হয়েছিল, তারা যেন এমন বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানান, যারা যিশুখ্রিষ্ট সম্পর্কে জানেন না। যারা বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন, তারা দেখতে পান  গির্জার  মাল্টিপারপাস হলরুমটি বিভিন্ন দেশের পতাকা ও ফুটবল আকৃতির বেলুন দিয়ে সাজানো। পাশাপাশি দুটি বড় টেবিলে সোডা পানীয়, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, হট ডগ ও চীনাবাদাম রাখা হয়েছে। হলের সামনের দিকে ছিল তিনটি বড় পর্দা, যাতে ম্যাচটি দেখানো হচ্ছিল এবং একটি স্ট্যান্ডের ওপর রাখা ছিল ‘ট্রিওন্ডা’ ফুটবল। যেটি এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল। গির্জার যাজক আগতদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘ঈশ্বরের বাণী না শুনে কেউ এখান থেকে ফিরে যাবেন না।’

এর আগে ৬ জুন গির্জার সদস্যরা গির্জা থেকে সামান্য দূরের বিনোদন কেন্দ্র পার্ক দে লস ভেনাদোসে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা এলাকার কিশোরদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন এবং বল শূন্যে ধরে রাখার ‘কিপি আপি’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, যেখানে বিজয়ীদের জন্য ছোটখাটো পুরস্কারের ব্যবস্থাও ছিল। যাজক বলেন, ‘শুরুতে তারা (কিশোররা) কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল এবং কাছে আসতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু ফুটবল আমাদের এমন সব মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে, যারা সহজে মিশতে রাজি হতো না।’

এদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেক্সিকোর বাইবেল সোসাইটি অব মেক্সিকো এমন সব লিফলেট তৈরি করেছে, যার এক পাশে রয়েছে বিশ্বকাপের খেলার সময়সূচি এবং অন্য পাশে বাইবেলের গুরুত্বপূর্ণ বাণী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক ধর্মীয় সংস্থা ইভানটেল স্থানীয় গির্জা ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ধর্মপ্রচারকদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বকাপ চলাকালে ফুটবলভক্তদের সঙ্গে কীভাবে কার্যকর যোগাযোগ ও বার্তা বিনিময় করা যায়, তা শেখানো।

আরও পড়ুন

×