মেক্সিকো ঢেউয়ের সামনে ইকুয়েডর
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১২:১১
মেক্সিকো ওয়েভ (ঢেউ) বিশ্বকাপ ফুটবলের নস্টালজিয়া। সেই আশি-নব্বই দশকে মেক্সিকোর ফুটবল পারফরম্যান্সের মতো আলোড়ন তুলেছিলেন দেশটির সমর্থকরাও। গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হয়ে গেলেও কেন যেন আলোচনায় নেই মেক্সিকো ওয়েভ। বিশ্বকাপের সহআয়োজকরা নিজেদের ম্যাচগুলো খেলছে দেশের মাটিতে। মাঠের পারফরম্যান্সে হৃদয় দোলানো ঢেউ তোলেন তাদের খেলোয়াড়রা। হুলিয়ান কুইনোনেসদের বীরত্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে টেবিলের শীর্ষে থেকে জায়গা করে নেয় সেরা ৩২-এ। এর পরও সেভাবে বিশ্বকাপের গ্যালারি কাঁপেনি মেক্সিকো ঢেউয়ে। কাল বুধবার নকআউটে ইকুয়েডরের বিপক্ষে মাঠ ও গ্যালারিতে প্রবল ঢেউ তোলার মোক্ষম সুযোগ। স্বাগতিক মর্যাদা রক্ষা করতে নিশ্চয়ই শপথ নিয়েছেন হুলিয়ান কুইনোনেসরা।
মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে বুধবার সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর-মেক্সিকো। যেখানে মাঠের মতো গ্যালারিও থাকবে স্বাগতিকদের দখলে। ইকুয়েডরের পতাকা হাতে কিছু সমর্থকও থাকবেন। সমুদ্রের বিশালতায় ডিঙ্গি নৌকা যেমন এস্তাদিও স্টেডিয়ামের সেই ইকুয়েডর সমর্থকদেরও দেখাতে পারে তেমন ক্ষুদ্রকায়। তাই শেষ ষোলোতে উন্নীত হওয়ার ম্যাচে দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়তে হবে ইকুয়েডরকে। এই কঠিন লড়াইয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেক্সিকোর সঙ্গে কতটা পেড়ে উঠবে লাতিন দেশটি, সে উত্তর পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত।
১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা ওঠে বিশ্বকাপের। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে বাফানা বাফানাদের ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। দক্ষিণ কোরিয়াকে পরের ম্যাচে ১-০ ও শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। সেখানে ইকুয়েডর সেরা ৩২-এ এসেছে টেনেটুনে পাস নম্বর নিয়ে। বাদ পড়তে পড়তে কোয়ালিফাই করা যাকে বলে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে নাম তোলে। ‘ই’ গ্রুপে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ইকুয়েডরের। কুরাসাওয়ের গোলরক্ষকের বীরত্বের কাছে পয়েন্ট খোয়ায় ম্যাচ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ায়। সেই তারাই গ্রুপের শেষ ম্যাচে করে বাজিমাত। শেষের ছন্দ মেক্সিকোর বিপক্ষে দেখাতে পারলে শেষ ষোলোর টিকিট পেতে পারে তারাও। তবে বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের রেকর্ড নজরকাড়ার মতো নয়। ইতিহাসে একবারই শেষ ষোলোতে (২০০২) খেলেছে তারা। এক ধাপ বেশি খেলেছে মেক্সিকো। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে বিদায় নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ওই দুই বিশ্বকাপের স্বাগতিকও ছিল তারা।
উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ মেক্সিকো ও ইকুয়েডর ২৮ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য মেক্সিকোর, ১৭ ম্যাচ জিতেছে তারা। ইকুয়েডরের জয় ৪ ম্যাচে। ড্র থেকেছে বাকি ৭টি ম্যাচ। এ দুই দলের শেষ দেখা ২০২৫ সালের অক্টোবরে, ১-১ গোল সমতায় শেষ হয়েছিল খেলা। গত পাঁচ বছরে তিনবারের দেখায় ইকুয়েডরকে হারাতে পারেনি মেক্সিকো। উল্টো ২১ সালে ৩-১ গোলে জিতেছিল ইকুয়েডর। যদিও এই পরিসংখ্যান ম্যাচে জয়-পরাজয়ে তেমন প্রভাব ফেলে না।
- বিষয় :
- মেক্সিকো
- ইকুয়েডর
- বিশ্বকাপ ফুটবল
