নাসার শহরে ফুটবলের মহাকর্ষীয় টান
ছবি- সমকাল
সঞ্জয় সাহা পিয়াল, হিউস্টন থেকে
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১১:১৩
ডালাসের সেই কাউবয় বেল্ট আর ডাউন টাউনের কফিশপ থেকে শুনে আসা একটা অদ্ভুত মার্কিন প্রবাদ– ‘এভরিথিং ইজ বিগার ইন টেক্সাস’। সেখানে কথায় কথায় লোকে বলত, টেক্সাসে নাকি সবকিছুই বড় বড়; সবকিছুরই মাপটা একটু বেশি বিশাল। ভেবেছিলাম, প্রবাসীদের ওটা বোধ হয় স্রেফ এক ধরনের আঞ্চলিক আদিখ্যেতা। কিন্তু হিউস্টনে পা রাখার পর ভুলটা ভেঙে গেল। এখানকার আকাশচুম্বী হাইওয়ে, আইফোন স্ক্রিনের চেয়েও বড় সাইজের একেকটি টেক্সাস বার্বিকিউর ‘টি-বোন স্টেক’ আর নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে দাঁড়ানো ওই দানবাকৃতির স্যাটার্ন-ফাইভ রকেট– সবই যেন অবলীলায় মনে করিয়ে দেয়, এই মুলুকে ছোট বলে কোনো শব্দের সত্যিই অস্তিত্ব নেই!
তবে কিনা টেক্সাসের সেই ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ আভিজাত্যকেও যে ফুটবল এক ফুঁয়ে টেক্কা দিতে পারে, তা হিউস্টন স্টেডিয়ামের বাইরে পা না রাখলে বিশ্বাস করা কঠিন। নাসার বিজ্ঞানীরা যতই মহাকর্ষ বলের জটিল তত্ত্ব বোঝান না কেন, আজ এই শহর স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে– এ মুহূর্তে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘আকর্ষণ বল’-এর নাম বোধ হয় ফুটবল। সেখানে ধ্রুবতারাটি আজ জ্বলজ্বল করছে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের ওই মস্ত বড় জেদটার মধ্যেই! গ্যালেবিয়া অঞ্চলের হোটেলগুলোর সামনে প্রিয় তারকাদের একনজর দেখতে হাজার হাজার ব্রাজিলিয়ানের উপচে পড়া ভিড় আর কালোবাজারে একেকটি টিকিটের দাম চোখের পলকে এক হাজার ডলারে ছুঁয়ে যাওয়া– উন্মাদনার এই সাইজটাও যে একমাত্র টেক্সাসের স্কেলেই মাপা সম্ভব!
টেক্সাসের এই ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ মেজাজটা যদি আপনি আমেরিকান পতাকার সাইজ আর দুপুরের লাঞ্চের বার্গারটাতে না দেখেন, তবে এই স্পেস সিটিতে আপনার আসাই বৃথা! এখানে কার ডিলারশিপ বা হাইওয়ের পাশে তাকালে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। একেকটি আমেরিকান পতাকার সাইজ প্রায় ৬০ ফুট বাই ১০০ ফুট! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। সাধারণ কোনো ভবনের ছাদ নয়; পুরো একটা ফুটবল মাঠের এক-তৃতীয়াংশ সাইজের সাদা-নীল একেকটি দানবাকৃতির পতাকা যখন পতপত করে ওড়ে, তখন মনে হয় যেন আকাশটাই ঢেকে গেছে।
আর দুপুরের খিদে মেটাতে যখন হিউস্টনের কোনো লোকাল ডিনারে ঢুকলে বার্গারের সাইজ দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এখানে সাধারণ সিঙ্গেল প্যাটি বা ডাবল প্যাটির কোনো গল্প নেই। হিউস্টনের সিগনেচার বার্গারগুলোর ওজনই শুরু হয় এক থেকে দুই পাউন্ড (প্রায় এক কেজি) মাংসের প্যাটি দিয়ে! সেই বার্গারের ব্যস একেকটি ডিশ বা থালার সমান– প্রায় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি। সঙ্গে থাকে আস্ত এক বোল ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
টেবিলে যখন সেই দানবীয় বার্গার ল্যান্ড করে, তখন মনে হয় যেন নাসার কোনো ছোটখাটো স্পেস শাটল প্লেটে এসে বসেছে! যে শহরের পতাকার সাইজ এত বিশাল আর বার্গারের ওজন কেজিতে মাপা হয়, সেই নাসার শহরে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন আর ভক্তদের সাম্বা কার্নিভালের উন্মাদনা যে মহাজাগতিক স্কেলের হবে, সেটিই তো স্বাভাবিক!
- বিষয় :
- বিশ্বকাপ ফুটবল
