ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আমাদের নায়িকা

আমাদের নায়িকা
×

সারাহ বেগম কবরী (১৯৫০-২০২১)

মানিক চন্দ্র দে

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ১৬:২৫

সেই সত্তরের দশকের কিশোর বয়স থেকেই যার ছবি দেখে আমার চলচ্চিত্রের প্রতি সুতীব্র অনুরাগের জন্ম নিয়েছিল তিনি হলেন আমাদের চলচ্চিত্র জগতের মিষ্টি মেয়ে কবরী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্তের 'সুতরাং' ছবি দিয়ে চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয়েছিল তার। কিন্তু আমার সঙ্গে তার পরিচয় ঘটেছিল ১৯৭০ সালে মুন সিনেমা হলের পর্দায় 'যে আগুনে পুড়ি' সিনেমায়। তখন থেকেই যেন আমি কবরীর নায়ক আর কবরী আমার নায়িকা। সেই মোহ লেপ্টে ছিল কিশোর পেরিয়ে যৌবন বয়স পর্যন্ত।

তিনি ছিলেন একজন দর্শকনন্দিত মহান শিল্পী। দর্শকের হৃদয়ে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন তার স্থায়ী আসন। 'সুতরাং' ছবি দিয়ে যার চলচ্চিত্রে আগমন, পরবর্তী সময়ে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একে একে তিনি সগৌরবে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী। কি বাণিজ্যিক ছবি (রংবাজ), কি শৈল্পিক ছবি (তিতাস একটি নদীর নাম)- সব ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি যেমন স্বাচ্ছন্দ্য পেতেন, তেমনিভাবে তাকে নিয়ে কাজ করে পরিচালকরাও সমান স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করতেন। তিনি রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল, বুলবুল আহমেদ প্রমুখ নায়কের সঙ্গে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করলেও এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে অভিনয় করতে তিনি রোমাঞ্চ বোধ করতেন। খুব অল্প বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল। জীবনে প্রেম করার সুযোগ হয়নি, এ জন্যই হয়তোবা।

তবে আমরা যারা তার দর্শক ছিলাম তারাও ভাবতাম রাজ্জাকের জন্যই হয়তো কবরীর জন্ম হয়েছিল বা উল্টোভাবে বললে কবরীর জন্যই রাজ্জাকের। মানুষ রাজ্জাক-কবরী জুটিকে কোনোদিন ভুলতে পারবে না।

তিনি নিজে চলচ্চিত্র যেমন প্রযোজনা করেছেন (বলাকা মন, শীত বসন্ত, গুণ্ডা), তেমনি পরিচালনাও করেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি একাত্তরের মিছিল এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি 'আয়না'।

মুক্তিযুদ্ধকালে অতিকষ্টে সীমান্ত অতিক্রম করে কলকাতায় গিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সাহায্য করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে ভারতীয় ছবিতেও অভিনয় করে অর্থ সংগ্রহ করেন।

সত্তরের দশকে যখন টেলিভিশন ছাড়া আর কোনো বিনোদন মাধ্যম এ দেশে তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি, তখন চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে কবরী দর্শক মনে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

কোটি কোটি ভক্তকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে তিনি সত্যি বেঁচে থাকবেন। রবীন্দ্রনাথ যেমন বলেছেন, 'নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে রয়েছো নয়নে নয়নে।' সত্যি তিনি তার অগণিত ভক্তের নয়নে চিরদিন জীবিত থাকবেন।

তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব

আরও পড়ুন

×