অন্যদৃষ্টি
প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি হোক
×
তালুকদার রিফাত পাশা
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২২ | ১২:০০
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে বাংলাদেশে কত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার। আর সড়ক দুর্ঘটনা ও অপচিকিৎসার মতো কারণে প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সবাই স্বীকার করি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদেরও সমাজের অন্য মানুষদের মতো মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি সবাইকে প্রভাবিত করেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তার বাইরে নয়। বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ৭৫০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। এ টাকা দিয়ে একজন অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পক্ষে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।
বলা বাহুল্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই বেশি। কারণ আমাদের দেশের সেবাগুলো প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলোতে কোনো বিশেষ ছাড় নেই বরং এসব সেবা নিতে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যাতায়াত এবং গণপরিবহনে। আমি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী; বর্তমানে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত। আমার আয়ের সিংহভাগ অর্থ যাতায়াতেই খরচ করতে হয়। কারণ ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহন যেমন বাস মোটেই প্রবেশগম্য নয়। যার কারণে আমাকে বিকল্প হিসেবে তুলনামূলক ব্যয়বহুল রিকশা অথবা রাইড শেয়ারিং সেবা নিতে হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়, যা কেউ হয়তো জানেন না; তা হলো সহায়ক উপকরণের পেছনে খরচ। বাংলাদেশ সরকার খুব সীমিত পরিমাণে সহায়ক উপকরণ যেমন সাদাছড়ি, হুইলচেয়ার, শ্রবণ যন্ত্র ইত্যাদি বিতরণ করে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই ব্যয়ভার বহন করে। আমাদের দেশে মানসম্মত সহায়ক উপকরণ একেবারে নেই। ফলে বারংবার তাদের এসব কিনতে হয়। যা একজন অসচ্ছল প্রতিবন্ধীর জন্য অনেক বড় চাপ।
প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করা খুব একটা জটিল বিষয় নয়। ভাতা প্রদানের কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে। প্রথমত, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতধারায় ধরে রাখা; দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো, ভাতা গ্রহীতারা যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যে পরিমাণে ভাতা দেওয়া হয়, তা দিয়ে টিকে থাকা বা আর্থিক অবস্থার উন্নতি কোনোটিই সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সম্পদ সীমিত এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা অনেক বেশি। তাই উচ্চ হারে ভাতা প্রদান সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একটি যৌক্তিক ভাতা দিতে হবে, যেন তারা টিকে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমরা ক্যালরিকে ভিত্তি ধরতে পারি। প্রতিদিন নারী, পুরুষ এবং শিশুর যথাক্রমে ২০০০, ২৫০০ এবং ১৫০০ ক্যালরি প্রয়োজন। এই হিসাবে আমরা যদি মাসিক ভাতার হার নির্ধারণ করি তাহলে আমাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের মূল স্রোতধারায় টিকে থাকতে পারবে। পাশাপাশি তারা জীবনমান উন্নত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের একটি দেশে উন্নীত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৫০০ মার্কিন ডলার। সে বিবেচনায় ক্যালরিকে ভিত্তি ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করা অসম্ভব বা অযৌক্তিক চিন্তা নয়।
পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষ শান্তি, নিরাপদ এবং স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকতে চায়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তার ব্যতিক্রম নয়। যদি ক্যালরিকে ভিত্তি ধরে মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়; সমাজের এসব পিছিয়ে পড়া মানুষ বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন পাবে। এই টাকা দিয়ে কেউ হয়তো তিন বেলা পেট পুরে খাদ্য সংস্থান করবে। কোনো মানুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে দেখতে চায় না। আর প্রতিবন্ধিতার তীব্র কষ্ট আছে। সমাজের একটা বড় সংখ্যার মানুষ এ কষ্ট বহন করে প্রতিনিয়ত পথ চলছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিগত- সব পর্যায় থেকে আমাদের প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
তালুকদার রিফাত পাশা :সহকারী পলিসি অফিসার, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ
বলা বাহুল্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই বেশি। কারণ আমাদের দেশের সেবাগুলো প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলোতে কোনো বিশেষ ছাড় নেই বরং এসব সেবা নিতে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয়। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যাতায়াত এবং গণপরিবহনে। আমি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী; বর্তমানে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত। আমার আয়ের সিংহভাগ অর্থ যাতায়াতেই খরচ করতে হয়। কারণ ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহন যেমন বাস মোটেই প্রবেশগম্য নয়। যার কারণে আমাকে বিকল্প হিসেবে তুলনামূলক ব্যয়বহুল রিকশা অথবা রাইড শেয়ারিং সেবা নিতে হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়, যা কেউ হয়তো জানেন না; তা হলো সহায়ক উপকরণের পেছনে খরচ। বাংলাদেশ সরকার খুব সীমিত পরিমাণে সহায়ক উপকরণ যেমন সাদাছড়ি, হুইলচেয়ার, শ্রবণ যন্ত্র ইত্যাদি বিতরণ করে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই ব্যয়ভার বহন করে। আমাদের দেশে মানসম্মত সহায়ক উপকরণ একেবারে নেই। ফলে বারংবার তাদের এসব কিনতে হয়। যা একজন অসচ্ছল প্রতিবন্ধীর জন্য অনেক বড় চাপ।
প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করা খুব একটা জটিল বিষয় নয়। ভাতা প্রদানের কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে। প্রথমত, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতধারায় ধরে রাখা; দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো, ভাতা গ্রহীতারা যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বজায় রাখার মাধ্যমে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যে পরিমাণে ভাতা দেওয়া হয়, তা দিয়ে টিকে থাকা বা আর্থিক অবস্থার উন্নতি কোনোটিই সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সম্পদ সীমিত এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা অনেক বেশি। তাই উচ্চ হারে ভাতা প্রদান সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একটি যৌক্তিক ভাতা দিতে হবে, যেন তারা টিকে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমরা ক্যালরিকে ভিত্তি ধরতে পারি। প্রতিদিন নারী, পুরুষ এবং শিশুর যথাক্রমে ২০০০, ২৫০০ এবং ১৫০০ ক্যালরি প্রয়োজন। এই হিসাবে আমরা যদি মাসিক ভাতার হার নির্ধারণ করি তাহলে আমাদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের মূল স্রোতধারায় টিকে থাকতে পারবে। পাশাপাশি তারা জীবনমান উন্নত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারবে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের একটি দেশে উন্নীত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৫০০ মার্কিন ডলার। সে বিবেচনায় ক্যালরিকে ভিত্তি ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করা অসম্ভব বা অযৌক্তিক চিন্তা নয়।
পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষ শান্তি, নিরাপদ এবং স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকতে চায়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তার ব্যতিক্রম নয়। যদি ক্যালরিকে ভিত্তি ধরে মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়; সমাজের এসব পিছিয়ে পড়া মানুষ বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন পাবে। এই টাকা দিয়ে কেউ হয়তো তিন বেলা পেট পুরে খাদ্য সংস্থান করবে। কোনো মানুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে দেখতে চায় না। আর প্রতিবন্ধিতার তীব্র কষ্ট আছে। সমাজের একটা বড় সংখ্যার মানুষ এ কষ্ট বহন করে প্রতিনিয়ত পথ চলছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তিগত- সব পর্যায় থেকে আমাদের প্রত্যেকেরই চেষ্টা করা উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
তালুকদার রিফাত পাশা :সহকারী পলিসি অফিসার, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ
