ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জীবাশ্ম জ্বালানিতে আর কত পুড়বে পৃথিবী?

জীবাশ্ম জ্বালানিতে আর কত পুড়বে পৃথিবী?
×

এস.এম. রাহমান জিকু

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। এ শহরে আপনি যখন পথচারী, তখন ক্লান্ত হয়ে রাস্তার ধারে কোথাও একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য কি কোনো ছায়া খুঁজে পান? না। পুরোটা সময় আমাদের মাথার ওপরে গনগনে সূর্য। প্রচণ্ড রোদ। হয়তো আপনি প্রচুর বৃষ্টির পর রাস্তায় বের হলেন, তখন কী দেখবেন? রাস্তাজুড়ে অথই পানি। মনে হতে পারে, এসব তো আমরা প্রতিদিনই মোকাবিলা করছি; নতুন করে বলার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

প্রয়োজন এ জন্য, এই দুর্ভোগ প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ছে। একটু পিছিয়ে যান, গত এপ্রিল মাসে রোজার সময় বৃষ্টি ছিল না। প্রচণ্ড শুষ্ক আবহাওয়া। আবার পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম ছিল এবারের জুলাই মাস। তার মানে কী? একটু একটু করে জলবায়ুর যে নেতিবাচক পরিবর্তন, সেটা আমরা অনুভব করতে পারছি।

হিমালয়ের বরফ গলছে। অনেক এলাকা বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। অনেক এলাকা মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। এর অন্যতম কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। সোজা কথায় বলা যায়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার।

কলকারখানা, অফিস-আদালত তো বটেই, আপনি সব কাজ শেষ করে যখন বাসায় আসেন, তখনও এসি ছেড়ে টিভি দেখা শুরু করেন। সারাদিনের কার্যক্রমের পুরোটাই কিন্তু জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর।

আমরা কখনও চিন্তা করি না, এ ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারি কিনা। বরং আমরা দিন দিন আগ্রহী হচ্ছি আরও কীভাবে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়িয়ে দেশকে উন্নত করা যায়। আমরা ধরেই নিয়েছি, একটা দেশের উন্নতির মূল চালিকাশক্তি জীবাশ্ম জ্বালানি।

আমাদের দেশের সরকারকে এ ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এরই মধ্যে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ১০, ২০ বা ৩০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কোথায় পৌঁছতে পারে– এখন থেকেই যদি বিষয়টি নিয়ে না ভাবি এবং সংগতিপূর্ণ পদক্ষেপ না নিই, তাহলে এর পরিণতি নিয়ে চিন্তা করার সময় হয়তো থাকবে না।

বিশ্বে ইতোমধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প আসতে শুরু করেছে। বিশেষত বিদ্যুৎ খাতে সৌর, বায়ুসহ নানা প্রকার নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে এগোলে আমার মনে হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে হয়তো অনেকাংশে রক্ষা পাব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর একটা পৃথিবী উপহার দিতে পারব। তাই আসুন, সবাই মিলে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প খুঁজি এবং পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলি।

চকবাজার, চট্টগ্রাম

আরও পড়ুন

×