ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সওজের জায়গায় বিএনপি কার্যালয়

দেশের সম্পত্তিতে দল সমারূঢ়

দেশের সম্পত্তিতে দল সমারূঢ়
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ায় সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা দখল করিয়া বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের যেই অভিযোগ উঠিয়াছে, তাহা বেআইনি হইলেও বিস্ময়কর নহে। সোমবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, মহানগরের তিনমাথা রেলগেটের পার্শ্বে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর-সংলগ্ন স্থানে টিনশেড উঠাইয়া ঝুলাইয়া দেওয়া হইয়াছে মহানগর ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাইনবোর্ড। ঐ ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি স্বীকার করিয়াছেন, ইতোপূর্বে একই স্থানে ছয়বার বিএনপির কার্যালয় স্থাপন করা হইলেও প্রতিবারই ভাঙিয়া দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরেই স্থানীয় বিএনপির নেতারা জায়গাটি পুনরায় দখল করেন। প্রশ্ন জাগে, রাষ্ট্রীয় সামষ্টিক সম্পত্তি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভোগে লাগিবার জন্যই কি গণঅভ্যুত্থানে মানুষ এত আত্মত্যাগ করিয়াছিল?

এমনকি দখলকৃত জায়গায় নির্মিত স্থাপনা লইয়া সমালোচনার মুখে ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেও একবার ভাঙিয়া দেওয়া হয়। অর্থাৎ সরকার বা দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব– কাহাকেও দখলদারেরা তোয়াক্কা করিতে ইচ্ছুক নহে। ঘটনাটি বিস্ময়কর নহে এই কারণে যে, গত কয়েক দশকে যখন যেই সরকার ক্ষমতায় ছিল, সেই সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের একটা অংশ চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকারের সরকারি জমি ও সম্পত্তি দখলে মত্ত হইয়াছে। এদিকে বগুড়া সওজ ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলিয়াছেন, সওজের জায়গায় কেহ কোনো স্থাপনা করিলে তাহা উচ্ছেদ করা হইবে। অর্থাৎ উক্ত দখলদারিত্ব প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটিলেও এবং দখলের পর প্রায় দুই বৎসর চলিয়া গেলেও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অতি মূল্যবান জমিটির তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি সম্পর্কে না জানিবার ভান করিতেছেন। হয় তিনি দখলদাররা ক্ষমতাসীন দলভুক্ত হওয়ায় ভীত হইয়া অপরাধটি এড়াইয়া গিয়াছেন, নতুবা উহাতে তাহারও কোনো যোগসাজশ থাকিতে পারে।

রাষ্ট্রের সম্পত্তি যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবৈধ ভোগদখলে থাকে, তখন শুধু জনস্বার্থই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্বও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। আইনের শাসন তো বটেই, জনশৃঙ্খলারও জন্য ইহা হুমকিস্বরূপ। কারণ এহেন অবস্থা দীর্ঘদিন চলিলে সরকারের উপর জনআস্থা হ্রাস পায়, যাহা কালক্রমে জনগণের বিভিন্ন অংশকে আইন স্বীয় হস্তে তুলিয়া লইবারও ইন্ধন দেয়। হতাশাজনক হইল, এহেন উদ্বেগজনক পরিণতি সম্পর্কে জানা থাকিবার পরও সরকারগুলি বিষয়টিকে গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করে না। তাহা না হইলে, ২০০৩ সালে দখলকৃত আলোচ্য জায়গাটিতে স্থাপনা নির্মাণের পর উহা ভাঙিয়া দিতে দুই বৎসর লাগিত না। উপরন্তু তৎকালীন সরকার শুধু স্থাপনা ভাঙিয়াই ক্ষান্ত হইত না, দখলদারদের বিরুদ্ধে শক্ত আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করিত। 

প্রসঙ্গত, ঠিক একই প্রবণতা আমরা বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ও দেখিয়াছি। তখন একাধিকবার সরকারের পক্ষ হইতে ফুটপাত ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি দখল করিয়া ক্ষমতাসীন দলের সহিত যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয় স্থাপনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করা হইয়াছিল। বিশেষত ঢাকায় এই রকম কিছু অবৈধ স্থাপনা ভাঙিয়াও দেওয়া হইয়াছিল। কিন্তু দখলদারদের বিরুদ্ধে শাস্তি বা প্রতিরোধমূলক কোনো পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়ায় তখন ফুটপাত ও অন্য সরকারি সম্পত্তি পুনরায় বেদখল হইয়াছিল।
আমরা মনে করি, সকল প্রকার সরকারি সম্পত্তির উপর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দখলদারিত্ব ঠেকাইতে বর্তমান সরকারকে উক্ত বাগাড়ম্বর বন্ধ করিতে হইবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এহেন যেই কোনো দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা লইতে হইবে। আর বিষয়টি বগুড়ার আলোচ্য সরকারি জমি বিএনপি নেতাদের কবল হইতে স্থায়ীভাবে মুক্ত করিবার মাধ্যমে সূচিত হইতে পারে।

আরও পড়ুন

×