ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সিন্ডিকেটের অবসান হউক

সিন্ডিকেটের অবসান হউক
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নূতন নহে। সীমিত সংখ্যক এজেন্সিকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিবার বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরিয়া উদ্বেগ রহিয়াছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিসমূহের সমিতিগুলি বৃহস্পতিবার যেই যৌথ বিবৃতি দিয়াছে, আমরা তাহাকে স্বাগত জানাই। কারণ, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকিতে পারে না। সীমিত সংখ্যক সংস্থাকে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দিলে তাহা ‘ন্যায্য প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা এবং নৈতিক’ নিয়োগের নীতিগুলিকে দুর্বল করিয়া দেয়। 

জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরকালে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া পুনরায় শুরু হইবে বলিয়া ঘোষণা আসে। ইহার পরপরই বায়রার একাংশের নেতারা সকল রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের সুযোগ উন্মুক্ত রাখিবার দাবি জানান। কিন্তু গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের জন্য মাত্র ২৫টি কোম্পানিকে উপযুক্ত ঘোষণা করিয়াছে। পরে আরও তিন শতাধিক কোম্পানিকে যুক্তকরণের কথা জানানো হইলেও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, নূতন ব্যবস্থাতেও কার্যত ঐ ২৫টি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণই বহাল থাকিতেছে। 

প্রসঙ্গত, গত রবিবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি নির্দেশনাও জারি করিয়াছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। অতীতেও দেশটি একাধিকবার প্রায় অনুরূপ নির্দেশনা জারি করিয়াছে, সিন্ডিকেটের কারণে যেইগুলি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হইয়াছে। উল্লেখ্য, অতীতে কর্মীদের নিকট হইতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নানাবিধ দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে বন্ধ হইয়াছিল বাংলাদেশের জন্য চতুর্থ বৃহত্তম শ্রমবাজার। গত দুই দশকে অন্তত চারবার এহেন দুঃখজনক ঘটনা ঘটিয়াছে। উপরন্তু সাধারণ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, যাহাদের দুর্নীতিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অতীতে বন্ধ হইয়াছে, তাহারাসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এইবারও শুরু হইতে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করিতে চাহিতেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী এই সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করিয়া চলিয়াছেন। শনিবার প্রকাশিত সমকালের এক প্রতিবেদনমতে, তিনি দাবি করিয়াছেন, তাঁহার মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার পূর্বের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করিয়া উক্ত ২৫ কোম্পানির সহিত আরও তিন শতাধিক কোম্পানিকে দেশটিতে কর্মী প্রেরণের কাজে যুক্ত করিয়াছে। তবে এই ব্যবস্থায় অন্য কোম্পানিসমূহ পূর্বনির্ধারিত ২৫ কোম্পানির ইচ্ছার বাহিরে কিছুই করিতে পারিবে না– তাহা উল্লেখ করা হইয়াছে। ফলে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের পূর্বের ন্যায় অধিক অর্থ ব্যয় করিতে হইবে। স্মরণ করা যাইতে পারে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঠিক একই প্রক্রিয়ায় কর্মী প্রেরণ করিতে গিয়া ব্যাপক দুর্নীত-অনিয়মের অভিযোগ উঠিয়াছিল। যাহার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন মালয়েশিয়া সরকার বাজারটি বন্ধ করিয়াছিল। 

বিগত সময়ে যাহাদের দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে শ্রমবাজারটি বন্ধ হইয়াছিল, তাহাদের তদন্ত সাপেক্ষে বিচারিক বেষ্টনীতে আনয়নের ঘোষণা দিয়াছিল বর্তমান সরকার। কিন্তু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের আলোচ্য উদ্বেগ আমলে না লইলে ঐ ঘোষণা কার্যত বাগাড়ম্বরই হইবে। কর্মসংস্থান ও ক্রমবর্ধমান প্রবাসী আয়ের চাহিদার কথা বিবেচনায় রাখিয়া সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সহিত দেখিতে হইবে। যোগ্যতা যাঁহার রহিয়াছে, সুযোগ পাইবার অধিকারও তাঁহার থাকিতে হইবে। বিবৃতিদানকারীদের আহ্বানে সাড়া দিয়া সরকার দ্রুত এফডব্লিউসিএমএস  নিয়োগ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করিবার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সহিত প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করিবে, ইহা আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন

×