ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীতে ধারাবাহিক গুলি

অফুরন্ত অস্ত্রবাজির হউক অবসান

অফুরন্ত অস্ত্রবাজির হউক অবসান
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গত ১২ দিনে আটজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও অস্ত্রধারীদের অধরা থাকিবার বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বুধবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের মোশাকপুর গ্রামের রমনিরহাটে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে যোগদানকালে পাঁচজনকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাইয়া আহত করে দুর্বৃত্তরা। তৎপূর্বে একই ইউনিয়নের সিএনজিচালিত এক অটোরিকশা চালককে উঠাইয়া লইয়া গিয়া তাঁহার পায়ে গুলি করা হয়। ইতোপূর্বে উপজেলা বিএনপি ও তাহার অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীও গুলির শিকার হন। একই উপজেলার মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের এবংবিধ ঘটনাকে বিচ্ছিন্নরূপে দেখিবার অবকাশ নাই। অথচ প্রতিটি ঘটনার পর থানায় মামলা হইলেও পুলিশ অদ্যাবধি কোনো অস্ত্রধারীর হস্তে লোহার চুড়ি পরাইতে পারে নাই। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠিয়াছে– অপরাধীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদৌ গুরুত্ব দিতেছে কিনা। অধিকতর উদ্বেগের বিষয়, একটা জনবহুল অঞ্চলে একাদিক্রমে গুলির ঘটনা ঘটিলেও এতদ্বিষয়ে পুলিশ কেন অন্ধকারে? উহার গোয়েন্দা বিভাগই বা কী করিতেছে? গুলির অঘটনগুলি প্রমাণ করিতেছে, এতদঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ঘটিয়াছে, যথায় অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা, তৎসহিত আইন প্রয়োগের দুর্বলতার বিষয়ও স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে।

আমরা জানি, দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী হইলেও পুলিশের মধ্যে অসাধু সদস্য কিঞ্চিৎ নহে। অস্ত্রধারীদের সহিত তাহাদের কোনো যোগসাজশ থাকিলে তাহাতে বিস্ময়ের কিছু থাকিবে না। তবে ইহাও সত্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশ যেভাবে মনোবল হারাইয়াছে, সেই মনোবল অদ্যাবধি পূর্ণরূপে ফিরিয়া আসে নাই। তৎকারণে বাহিনীটির মধ্যে অনেকাংশে ধরি মৎস্য, জল না করি স্পর্শ স্বভাব দৃশ্যমান। তবে কারণ যাহাই হউক, উহার দায় সরকার উপেক্ষা করিতে পারে না। উপরন্তু সরকারি দলের নেতাকর্মী অনেকেরই বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অবৈধ প্রভাব বিস্তার করিবার অভিযোগ ইতোমধ্যে উঠিয়াছে।

আমরা মনে করি, সাম্প্রতিক সময়ে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয় অস্বীকার করিয়া চলিয়াছেন; আলোচ্য ঘটনাবলিতে পুলিশের উদাসীনতার ক্ষেত্রে উহারও প্রভাব পড়িতে পারে। তবে অপরাধীরা দ্রুত ধরা না পড়িলে যদ্রূপ সমাজে ত্রাস ও অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈয়ার হয়, তদ্রূপ অপরাধীদের মধ্যেও দায়মুক্তির ধারণা জন্ম লয়। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সমগ্র দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটিয়াছে, আলোচ্য প্রেক্ষাপটে তাহা আরও গভীর সংকটের জন্ম দিতে পারে। পুলিশকে তাই কেবল ঘটনার পর মামলা গ্রহণ বা তদন্তে সীমাবদ্ধ থাকিলে চলিবে না; বিভিন্ন অঞ্চলে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করিয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করিতে হইবে। বেগমগঞ্জে সাম্প্রতিক প্রতিটি গুলির ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়া দেখিতে হইবে। হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারী, অস্ত্রের উৎস এবং কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ইহার সহিত সংশ্লিষ্ট কিনা, তাহাও সবাইকে অবহিত করিতে হইবে। অপরাধীরা অধরা থাকিলে গুলির এই সংস্কৃতি বিস্তৃত হইবার আশঙ্কা থাকিবে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। 

বেগমগঞ্জের গুলির শিকার হইয়াছে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও উহার অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী। তজ্জন্য ঘটনাগুলির সহিত রাজনৈতিক কোনো বিরোধের বিষয় সংশ্লিষ্ট কিনা, তাহাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খতাইয়া দেখিতে হইবে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক উপজেলার অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী-সেবনকারীদের শনাক্ত করিয়া আইনের আওতায় আনিবার দাবি জানাইয়াছেন। তৎকারণে তদন্তে মাদকের বিষয়কেও অবহেলা করিলে চলিবে না। বেগমগঞ্জের গুলির ঘটনায় কেহ নিহত না হইলেও গুরুতর আহত হইয়াছেন কয়েকজন; তাহাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে হইবে। 

আরও পড়ুন

×