ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ত্রয়োবিংশতম রাষ্ট্রপতি

অভিনন্দন ও অভিভাবকত্ব

অভিনন্দন ও অভিভাবকত্ব
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের ত্রয়োবিংশতম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শুক্রবার শপথ গ্রহণ করিয়াছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থীরূপে প্রত্যাশিতভাবেই বিপুল ভোটে জয়ী হইয়াছিলেন। আমরা নূতন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানাই। তৎসহিত দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্রপতির প্রত্যাশিত অভিভাবকত্বও এই সূচনালগ্নে তাঁহাকে স্মরণ করাইয়া দিতে চাহি।  

স্বীকার্য, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে রাষ্ট্রপতি পদটি প্রত্যাশিতভাবে পেশাদার রাজনীতিবিদগণ অলংকৃত করিলেও উহার ধারাবাহিকতা সর্বদা রক্ষিত হয় নাই। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পদে অধিষ্ঠিত হইবার মধ্য দিয়া আমরা পুনরায় রাষ্ট্রপতি পদে একজন রাজনীতিককে পাইলাম। তাঁহার ৭৮ বৎসরের জীবনের সিংহভাগ সময় কাটিয়াছে জনগণের সেবায়। ষাটের দশকের শেষ দিকে ছাত্র রাজনীতির পাট চুকাইয়া দেড় দশকের অধিক সময় শিক্ষকতায় অতিবাহিত করিলেও ১৯৮৬ সালে পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তাহার পর পৌর চেয়ারম্যান হইতে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। গত এক দশকের অধিককাল তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের মহাসচিব ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কেবল স্বীয় স্বচ্ছ ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখেন নাই; আত্মমর্যাদা, ব্যক্তিত্ব, সততা, মার্জিত রুচিবোধ এবং নেতৃত্বের সহজাত গুণের কারণে দলমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধেয় ও বরেণ্য হইবার বিরল সম্মান অর্জন করিয়াছেন। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যখন কারারুদ্ধ বা নির্বাসিত, তখন তিনিই ছিলেন রাজপথে দলের প্রধান মুখ। সেই দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া নিজেও বারংবার গ্রেপ্তার ও কারারুদ্ধ হইয়াছেন। ঐ গভীর সংকটকালেও দলকে অখণ্ড রাখিয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালাইয়া গিয়াছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিশেষত তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অযোগ্যতা ও অবিমৃষ্যকারিতায় দেশ যখন নূতন ও অপ্রত্যাশিত সংকটে নিপতিত, তখনও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপরিসীম ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়া জাতিকে 
গণতন্ত্রের নূতন অভিযাত্রার দিকে পরিচালনা করিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করিয়াছেন। এই প্রেক্ষাপটেই আমাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসাবেও তিনি সফল হইবেন।

অস্বীকার করা যাইবে না, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহের মারাত্মক ঘাটতি এবং অন্যান্য কারণে বর্তমানে দেশ নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়া যাইতেছে। বিশেষত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানহীনতা ও বিনিয়োগ খরা সমাজে এমন অস্থিরতা সৃষ্টি করিয়াছে; রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা ব্যতীত যাহা মোকাবিলা করা দুরূহ। গণঅভ্যুত্থানকালেও দীর্ঘদিনের বিভাজিত ও পাল্টাপাল্টি দোষারোপের রাজনীতির অবসান ঘটাইয়া অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল। দেশি-বিদেশি নানা মহলের পরামর্শ শুনিয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হইলে হয়তো এই অচলাবস্থা কাটানো যাইত। তবে সেই সুযোগ শেষ হইয়া গিয়াছে– এমনটা বলা যায় না। এইখানেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিতে পারেন বলিয়া আমরা মনে করি। 

আমরা দেখিয়াছি, রাজনীতি ও সমাজে সকল মত-পথের সহাবস্থানের পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীতে বরাবরই কথা বলিয়া আসিয়াছেন। রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁহার সেই অবস্থান আরও দৃঢ় হইবে বলিয়া আমরা বিশ্বাস করি। আমরা জানি, বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। প্রায় কোনো ক্ষেত্রেই নির্বাহী বিভাগের বাহিরে যাইবার অবকাশ তাঁহার নাই। তবে মির্জা ফখরুলের গ্রহণযোগ্যতা বিএনপির বাহিরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে রহিয়াছে। জাতির ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও বিকাশের স্বার্থে গৃহীত তাঁহার যেই কোনো নৈতিক অবস্থান সহজে উপেক্ষণীয় হইবে না।

আরও পড়ুন

×