ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিলাদুন্নবী (সা.)

শান্তির পথ ও পাথেয়

শান্তির পথ ও পাথেয়
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

অদ্য হিজরি বর্ষের ১২ রবিউল আউয়াল। ইহা মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এই দিবসে ধরাধামে আগমন করিয়াছিলেন মুহাম্মদ (সা.)। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন এবং ৬৩ বৎসর জীবনকাল অতিবাহিত করিয়া ইন্তেকাল ফরমাইয়াছিলেন। তবে আরবে জন্মগ্রহণ করিলেও মহান আল্লাহ তাঁহাকে বিশ্ববাসীর রহমতরূপে প্রেরণ করিয়াছিলেন। মহানবী (সা.) আদর্শের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছিলেন, যাঁহার স্পর্শে তৎকালীন আরবের ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ তথা অন্ধকার যুগের অবসানে আলোর ফগ্লুধারা প্রবাহিত হইয়াছিল। 

মহানবী (সা.) নবুয়তের পূর্বে তথা কৈশোরেই সত্যবাদিতা ও আমানতদারির জন্য পরিচিত ছিলেন আল আমিন বা বিশ্বস্ত হিসাবে। এই সময় তিনি হিলফুল ফুজুল বা শান্তিসংঘ গঠনের মাধ্যমে মক্কা হইতে যাবতীয় অন্যায়-অত্যাচার ও সন্ত্রাসবাদ উচ্ছেদ করিয়া আদর্শ সমাজ গঠনে সচেষ্ট হন। তাঁহার জন্ম ও নবুয়ত লাভের মধ্য দিয়া সাম্য, মৈত্রী ও ন্যায্যতার বাণী লইয়া বিশ্বে এক নূতন ধর্মের আবির্ভাব ঘটিয়াছিল, যাহা কালক্রমে আরবের সীমানা অতিক্রম করিয়া বিশ্বের প্রায় সকল মহাদেশে সম্প্রসারিত হইয়াছে। 

অন্যায়, অনাচার ও অপরাধে জর্জরিত সমাজে শান্তি স্থাপনে বিচলিত মহানবী (সা.) মক্কার হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন হইয়াছিলেন। অবশেষে তিনি নবুওয়াতের আলোকবর্তিকা লাভ করিয়াছিলেন। শত প্রলোভন ও কঠোর নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি সত্যের পথে অবিচল ছিলেন। মদিনায় এক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করিয়া রাসুল (সা.) ন্যায়বিচারের অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছিলেন। তাঁহার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে যেই সমাজে মানুষে মানুষে ভেদাভেদই ছিল পরিবর্তন-অযোগ্য এক সত্য; সেই সমাজে তিনি প্রত্যেক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। নারীকে মর্যাদার আসন, শ্রমিকের ঘর্ম শুকাইবার পূর্বে মজুরি পরিশোধের বিধান প্রতিষ্ঠা করিলেন। এমনকি ক্রীতদাসেরও অধিকার স্বীকৃতি লাভ করে। মূল কথা, একটা বর্বর সমাজ তাঁহারই হস্তে মানবিক সমাজে রূপান্তরিত হয়।

মহানবী (সা.) মানুষকে সংযমী হওয়ার শিক্ষা দিয়াই ক্ষান্ত হন নাই; ব্যক্তিজীবনেও উহা অনুসরণ করিয়াছেন। তাঁহার জীবনে উদারতার সেই দৃষ্টান্ত বিরল। বন্ধুরূপে তিনি যদ্রূপ বিশ্বস্ত ছিলেন, তদ্রূপ পিতা কিংবা স্বামী হিসাবেও ছিলেন আদর্শ। কনিষ্ঠদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শনের কথা বলিয়াছেন, আবার জ্যেষ্ঠদের শ্রদ্ধা করিবারও তাগিদ দিয়াছেন। 
এই বৎসর এমন সময়ে আমাদের সম্মুখে মিলাদুন্নবী (সা.) উপস্থিত, যখন জাতীয় জীবনে আমরা বিবিধ সংকটে জর্জরিত। একদিকে হামে আক্রান্ত হইয়া শিশুদের মৃত্যু হইতেছে, অন্যদিকে ডেঙ্গু চক্ষু রাঙাইতেছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ; যাহার প্রভাব পড়িতেছে শিল্পোৎপাদনেও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লইয়া উদ্বেগও কম নহে। আমরা মনে করি, এই সকল সংকট সমাধানে সরকারকে যদ্রূপ সচেষ্ট হইতে হইবে, তদ্রূপ রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। সরকার ছয় মাস অতিবাহিত করিলেও ইতিবাচক ধারায় দেশকে ফিরাইতে বেগ পাইতেছে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজসহ সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় অগ্রসর হইলে ইহার সুফল আমরা পাইতে পারি।

আমরা জানি, মহানবী (সা.) যেই কোনো সংকটে অংশীজনের সহিত পরামর্শ করিতেন। তাঁহার প্রণীত মদিনা সনদ আজও একটা রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে এবং সমাজে সকল ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শ উপায়রূপে পরিগণিত। তিনি যেই পথ প্রদর্শন করিয়াছেন, উহা আজও সমানভাবে অনুসৃত। মিলাদুন্নবীর (সা.) এই দিবসের প্রত্যাশা, শান্তি ও স্বস্তি প্রতিষ্ঠার পথে মহানবীর (সা.) জীবন ও আদর্শ সকলের জন্য পাথেয় হউক। এই দিবস উপলক্ষে আমরা সমকালের পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানাই।

আরও পড়ুন

×