ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমাগারে শিমুল হত্যা মামলা!

হিমাগারে শিমুল হত্যা মামলা!
×

এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০

আমাদের প্রিয় সহকর্মী সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। দেখতে দেখতে কেটে গেছে প্রভাবশালীদের নির্মম হত্যার শিকার শিমুলের মৃত্যুর পাঁচটি বছর। কিন্তু গত পাঁচ বছরেও সাংবাদিক শিমুল হত্যার বিচার পায়নি তার পরিবার ও সহকর্মীরা। তাতেও দুঃখ করব না। কারণ একজন সাংবাদিক হিসেবে আইন-আদালতের ওপর আস্থা হারালে কি চলবে? শিমুলের একমাত্র মেয়ে তামান্না এখন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর ছেলে সাদিক এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। অথচ তারা আজও তাদের প্রিয় বাবার হত্যার বিচার পায়নি। দুঃখ এবং কষ্ট সেখানেই। আর গত পাঁচ বছরে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার চাকরি ও বাবাহারা দুই সন্তান নিয়ে জীবন-জীবিকার প্রযোজনে লড়াই-সংগ্রাম করে চলছেন বাঁচার তাগিদে। তবে এখনও শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার ও তার দুই সন্তান সমকাল পরিবারের কাছে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবেই সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। বর্তমানে গতিহারা মামলাটির অবস্থা স্থবির। আর বিচারবঞ্চিতদের কাতারে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শিমুল হত্যার বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেই চলেছে। যদিও শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বলছেন, শিমুল হত্যার বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তিনি রীতিমতো হতাশ। শিমুল হত্যা মামলাটি করোনার শুরু থেকে অদৃশ্য কারণে থমকে আছে। শিমুল হত্যার বিচার প্রক্রিয়া এখন কোন পর্যায়ে তাও বলা মুশকিল। দিনদুপুরে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরেও মামলার প্রধান আসামি হালিমুল হক মিরুসহ আসামিরা বর্তমানে জামিনে থেকে আস্ম্ফালন করছে। তারা বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে শিমুল হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিচ্ছে। শিমুলের স্ত্রী আক্ষেপ করে বলছিলেন, আমি হয়তো আমার জীবনে স্বামী হত্যার বিচার দেখে যেতে পারব না। আমার সন্তানরা বছর বছর তাদের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবে আর কাঁদবে। তারপর এক সময় মনকে সান্ত্বনা দেবে- আমাদের বাবা সাংবাদিক ছিলেন, তাই আমরা বাবা হত্যার বিচার পাইনি। ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সমকালের জেলা প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম খান রানা প্রথম আমাকে ঘাতকদের দ্বারা শিমুলের গুলিবিদ্ধের খবরটা দিয়েছিলেন। এরপর শিমুল আর বেশি সময় বাঁচেনি। পরদিন আমাদের এই প্রিয় সহকর্মী চিরবিদায় নেন। এই বেদনা আমাদের কাঁদিয়েই চলেছে। শিমুল হত্যার পর চলে গেছে পাঁচটি বছর। আমরা চাই দেশে শিমুলসহ যত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তাদের হত্যার বিচার। স্বামী হারানো নুরুন্নাহার ভাবি তার ছেলেমেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেছেন, এদেশেই দ্রুত বিচার আইনে স্বল্প সময়ে কত মামলার বিচার হচ্ছে। কিন্তু আমার স্বামী সাংবাদিক হত্যার বিচার গত পাঁচ বছরে যেটুকু এগিয়েছে তা হলো সিরাজগঞ্জ থেকে মামলাটি ঢাকায় গিয়ে পড়ে আছে। শিমুল গ্রামীণ পর্যায়ের দায়িত্বশীল সাংবাদিক ছিলেন। তিনি দায়িত্ব অবহেলা না করে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই শাহজাদপুরের সাবেক পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন।
আমরা জানি, সাংবাদিকদের কাজের পথ মসৃণ নয়। কিন্তু একজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত-নিপীড়িত কিংবা হত্যার শিকার হলে বিচার পেতে এত বিলম্ব হবে কেন এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে আমরা এও মনে করি, দেশের যে কোনো নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার কিংবা নিপীড়ন-নির্যাতনের কবলে পড়লে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে বিচার কার্যক্রম কোনোভাবেই বিলম্বিত হওয়া উচিত নয়। খুনিদের দ্রুত বিচার দাবির পাশাপাশি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি আব্দুল হাকিম শিমুলকে।
এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল : প্রয়াত শিমুলের সহকর্মী ও সমকালের তাড়াশ প্রতিনিধি

আরও পড়ুন

×