ঢাবির তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ১৪:০২ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ | ১৪:০২
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পক্ষাবলম্বন করে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামীপন্থী তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা হলেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন।
সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিন্ডিকেট সদস্য সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় আরও দুজন শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া। তাকেও জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় জড়িত থাকায় সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরেকজন হলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিব। তাকে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও জুলাই অভ্যুত্থানে সমালোচিত ভূমিকায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশিরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি কর্তৃক সুপারিশ অনুযায়ী বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সভায় ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত গোলাম রব্বানীর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ বাতিল এবং উক্ত পদে জিএস প্রার্থী রাশেদ খানকে বিবেচনার জন্য আইন উপদেষ্টার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর আগে গতবছরের নভেম্বরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল এবং একইসঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল একাডেমিক কাউন্সিল।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এছাড়া অধ্যাপক আজমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হুমকি ও নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননার অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
