ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা চর্চা কতটা হচ্ছে, প্রশ্ন আনু মুহাম্মদের

স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা চর্চা কতটা হচ্ছে, প্রশ্ন আনু মুহাম্মদের
×

ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০২:০৭

স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইনগতভাবে স্বাধীনতার অধিকার থাকার পরও সেখানে একাডেমিক স্বাধীনতার চর্চা কতটা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আইনের মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার থাকাটাই যদি প্রধান শর্ত হয়, তাহলে দেশের চার স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতার ব্যাপক চর্চা থাকার কথা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ‘বাংলাদেশে একাডেমিক স্বাধীনতা: অবস্থা, প্রকৃতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শেখ নাহিদ নিয়াজী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শর্মী হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

আলোচনা সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন।

আগের সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ধরনের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হতো, এখনো একই ধরনের নিয়োগ হচ্ছে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এমন সব উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা ‘অবিশ্বাস্য মাত্রার নিম্নমানের’। এসব নিয়োগের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে যদি রাজনৈতিক স্বাধীনতা না থাকে, মানুষের ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে দেওয়া বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ১০০ শিক্ষক কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে স্বাক্ষর করতে পারেন? 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে একাডেমিক স্বাধীনতা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়ে কতটা তাগিদ, আগ্রহ ও অঙ্গীকার রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ষাটের দশক থেকে ছাত্ররাজনীতির কথা উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ছাত্র সংগঠন বা ছাত্ররাজনীতিকে সন্ত্রাসের সঙ্গে এক করে দেখলে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা যাবে না। 

তিনি বলেন, সমস্যাটি মূলত সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনকে কেন্দ্র করে। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের কারণে পুরো বিষয়টি সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং এর উৎস রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যেই নিহিত থাকে।

আরও পড়ুন

×