ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিল্পকলায় বাচসাসের ব্যতিক্রমী আয়োজন

শিল্পকলায় বাচসাসের ব্যতিক্রমী আয়োজন
×

ছবি-সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৩৮ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৪১

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) গত শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে সমিতির কবি ও গীতিকবিদের নিয়ে এক ‘কবিতা, পিঠা ও গান: মিলনে-আনন্দে আমাদের গুণীজন’ শীর্ষক এক আনন্দ আয়োজন করে। এই আয়োজনে সমিতির দেশসেরা কবি ও গীতিকবিরা অংশ নেন। কবিরা তাদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। গীতিকবিদের লেখা গান সংগীতাঙ্গনের শ্রোতাপ্রিয় শিল্পীরা গেয়ে শোনান। কবিতা পাঠ ও গান পরিবেশনের পাশাপাশি ছিল পিঠার আয়োজন।

বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি আতাহার খান, শিহাব সরকার, মাহমুদ শফিক, হাসান হাফিজ, শামীমা চৌধুরী, দিলদার হোসেন, শান্তা মারিয়া, দুলাল খান, সাঈদ আহমেদ খান, সেলিনা শিউলি ও দীপংকর দীপক।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন শুভেচ্ছা বক্তব্য ও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক বাচসাসের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও বাচসাস-এর নিজস্ব ম্যাগাজিন বাচসাস ভয়েস তুলে দেন।

আয়োজন নিয়ে বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ বলেন, ‘সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ এবং গুণী মানুষদের সম্মান জানাতে ও তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে এই ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চেয়েছি আমাদের সদস্য এবং দেশের প্রথিতযশা গুণীজনদের একই ছাদের নিচে এনে আনন্দের কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে। কবিতা আর সুরের যে শক্তি, তা আমাদের সংস্কৃতির শিকড়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। গুণী মানুষদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও বাচসাস এমন নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।’

সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল বলেন, “বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের গৌরবময় ইতিহাস। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাচসাস সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্রের শিল্পী, নির্মাতা, কলাকুশলী ও সংস্কৃতিজনদের সঙ্গে সেতুবন্ধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাচসাসের পথচলায় সাংবাদিকদের পাশাপাশি এই সংগঠনের অনেক কবি, গীতিকার, লেখক ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট গুণীজনের অবদান রয়েছে। তাদের সৃজনশীলতা আমাদের চলচ্চিত্র, গান ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো আমাদের দায়িত্ব, আনন্দও বটে! সেই ভাবনা থেকে বাচসাস আয়োজন করেছে ‘কবিতা, পিঠা ও গান মিলনে-আনন্দে আমাদের গুণীজন’।এটি কেবল একটি আয়োজন নয়; বরং ব্যস্ততার জীবনে একটু থেমে একসঙ্গে বসা, কবিতার সঙ্গে সময় কাটানো, গানের সুরে মেতে ওঠা এবং আমাদের প্রিয় গুণীজনদের স্মৃতিচারণ ও সান্নিধ্যে নিজেদের সমৃদ্ধ করার একটি আন্তরিক প্রয়াস।”

এ সময় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

বাচসাস-এর সদস্য দেশের খ্যাতিমান গীতিকবি সাহাবুদ্দিন মজুমদার, জাহিদ আকবর, মাহমুদ মানজুর, রবিউল ইসলাম জীবন, রেজাউর রহমান রিজভী, তারেক আনন্দ, ওমর ফারুক ও আশিক বন্ধু রচিত গান শিল্পীরা পরিবেশন করে পুরো অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলেন।

শিল্পীদের মধ্যে সংগীত পরিবেশন করেন কানিজ সুবর্ণা, কামরুজ্জামান রাব্বি, কাজী শুভ, নদী, রাইসা খান, মুহাম্মদ মিলন ও অভি তালুকদার। কবিতা ও গানের সুরে পুরো অনুষ্ঠান এক আনন্দময় হয়ে ওঠে।

উপস্থিত বাচসাস সদস্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা এই অনুষ্ঠান আয়োজনকে ব্যতিক্রমী বলে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন বরেণ্য নির্মাতা ছটকু আহমেদ, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর মহাসচিব ও বাচসাস সদস্য লিটন এরশাদ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব)-এর সভাপতি কাদের মনসুর, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহসভাপতি ডি এ তায়েব, চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তিসহ অনেকেই। 

আরও পড়ুন

×