দেশে আনা হচ্ছে মরদেহ, 'ছুটির ঘণ্টা' নির্মাতা শায়িত হবেন বগুড়ায়
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২২ | ০২:০১ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২২ | ০২:০৮
সোমবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টার দিকে কানাডায় মৃত্যুবরণ করেন ছুটির ঘণ্টা' ছবির পরিচালক আজিজুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে বিন্দি রহমান কানাডা থেকে সমকালকে জানালেন, তার বাবার মরদেহ এখন বাংলাদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আজ রাত কিংবা কাল সকালে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন।
বিন্দি বলেন,'বাবার জন্মস্থান বগুড়ার সান্তাহারে অবস্থিত আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।'
আজিজুর রহমানের প্রায় একযুগ ধরে কানাডায় তার দুই সন্তানের সাথে বসবাস করতেন। সেখানেই চলছিলো তার চিকিৎসা। ফুসফুসের সমস্যা থাকায় কয়েক দফা তাকে টরন্টোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বছরে ফেব্রুয়ারিতে তো অবস্থা খুবই খারাপের দিকে গিয়েছিল বলে জানান বিন্দি।
তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই দেশে ফিরতে উদগ্রীপ হয়ে উঠেছিলেন এই পরিচালক। কিন্তু শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার দেশে আসছেন একেবারে নিথর হয়ে।

বিন্দি বলেন, 'এই দুই বছরে দেশে ফেরার জন্য পাগলপ্রায় ছিলেন বাবা। কিন্তু তার শরীরিক অবস্থা ও করোনার কারণে দেশে ফিরতে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এবার একেবারেই চলে গেলেন সবাইকে ছেড়ে। নিথর বাবাকে দেশে নিয়ে যেতে হবে আমাদের। সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন।'
আজিজুর রহমান ১৯৩৯ সালের ১০ অক্টোবর বগুড়ার সান্তাহারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রুপচাঁন প্রামানিক। তিনি স্থানীয় আহসানুল্লাহ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস ও ঢাকা সিটি নাইট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। চারুকলা আর্ট ইনস্টিটিউটে কমার্সিয়াল আর্টে ডিপ্লোমা করেছেন।
অনেক সফল চলচ্চিত্রের পরিচালক আজিজুর রহমান। ১৯৫৮ সালে ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে এহতেশামের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ময়মনসিংহের লোককথা নিয়ে ‘সাইফুল মূলক বদিউজ্জামান’। মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে।
তার নির্মিত 'ছুটির ঘণ্টা' দেশের কালজয়ী ছবির একটি। ছুটির ঘণ্টা ছাড়াও আজিজুর রহমানের তৈরি বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘অশিক্ষিত’, ‘মাটির ঘর’।
অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’ ও ‘সমাধান’ ইত্যাদি।
- বিষয় :
- ছুটির ঘণ্টা
- মরদেহ
- আজিজুর রহমান
