রাতে কানে ইয়ারবাড রেখে ঘুমান? জেনে নিন ঝুঁকিগুলো
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ২০:০০ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ | ২০:২৮
অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় গান শোনেন, কেউ পডকাস্ট, আবার কেউ ধ্যানের অডিও শুনে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। এ জন্য রাতে অনেকেই ইয়ারবাড ব্যবহার করেন। অনেকে তো আবার কানে ইয়ারবাড রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন। তবে প্রশ্ন হলো- ঘুমানোর সময় দীর্ঘক্ষণ ইয়ারবাড কানে রাখা কতটা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মানুষের জন্য মাঝেমধ্যে ঘুমের সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করা বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না। তবে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
যেসব সংক্রমণ হতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানের ছিদ্র শুধু শব্দ প্রবেশের পথ নয়, এটি ভেতরের আর্দ্রতা বের হওয়ারও একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা। ইয়ারবাড, বিশেষ করে যেগুলো কানের ভেতরে শক্তভাবে আটকে থাকে, সেগুলো আর্দ্রতা আটকে রাখতে পারে। এতে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
যারা রাতে গোসল করেন, তাদের কানে কিছুটা পানি থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঘুমানোর আগে কান শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কানে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি, অস্বস্তি বা তরল পদার্থ বের হওয়া সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কানের ময়লা জমতে পারে
ইয়ারবাড ব্যবহারের আরেকটি সম্ভাব্য সমস্যা হলো কানের ময়লা বা ইয়ারওয়্যাক্স জমে যাওয়া। চিকিৎসকদের মতে, ইয়ারবাড কানের স্বাভাবিক পরিষ্কার হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে বা ময়লাকে আরও ভেতরে ঠেলে দিতে পারে।
শ্রবণশক্তি কিছুটা কমে যাওয়া, কানে চাপ অনুভব করা, চুলকানি বা ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা- এসব লক্ষণ দেখা দিলে কানের ময়লা জমার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
শব্দের মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে কিছু শুনলে স্থায়ী শ্রবণক্ষতি হতে পারে। তবে ঘুমানোর সময় যদি শব্দের মাত্রা কম থাকে, তাহলে সাধারণত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ কথোপকথনের শব্দ সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ ডেসিবেলের মধ্যে থাকে, যা নিরাপদ। কিন্তু ৮০ ডেসিবেল বা তার বেশি মাত্রার শব্দ দীর্ঘ সময় শুনলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যাদের আগে থেকেই শ্রবণ সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তাই শব্দের মাত্রা যতটা সম্ভব কম রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
নিরাপদ ব্যবহারের কিছু উপায়
- বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করতেই হলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত—
- কানের ভেতর পুরোপুরি সিল করে দেয় এমন ইয়ারবাড এড়িয়ে চলা
- নিয়মিত ইয়ারবাড পরিষ্কার রাখা
- শব্দের মাত্রা কম রাখা
- কানে ব্যথা বা চুলকানি হলে ব্যবহার বন্ধ করা
- সংক্রমণ বা ত্বকের সংবেদনশীলতার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
- এ ছাড়া ঘুমের জন্য তৈরি বিশেষ নরম ইয়ারবাড, স্পিকারযুক্ত হেডব্যান্ড বা বালিশের ভেতরে ব্যবহারযোগ্য ছোট স্পিকারও বিকল্প হতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
- বিষয় :
- লাইফস্টাইল
