ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিনেতাকে মারধরের অভিযোগ

পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিনেতাকে মারধরের অভিযোগ
×

মাসুম রেজওয়ান

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৪ | ২০:৫৫ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৪ | ২১:২৮

নাট্য পরিচালক ইয়ামিন এলানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন তরুণ অভিনয়শিল্পী মাসুম রেজওয়ান। গত মাসে এই পরিচালকের একটি নাটকের শুটিং করলে সেই নাটকের পারিশ্রমিক তাকে দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এরপর পারিশ্রমিকের টাকা কয়েকবার চাওয়ার পরেও তা দিচ্ছিলেন না। পাল্টা অভিনেতাকে মারধরের করেন নির্মাতা।

এই বিষয়ে অভিনয় শিল্পী সংঘে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন মাসুম রেজওয়ান। সেই অভিযোগ হাতে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম। তিনি বলেন, গতকালই অভিযোগ পেয়েছি। খুব শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে আমরা দুই পক্ষকেই ডেকে অভিযোগটির তদন্ত করব এবং যা সিদ্ধান্ত হয় জানাব।

অভিযোগে মাসুম রেজওয়ান বলেন, গত মাসের ১৭/১৮ তারিখে আমি ইয়ামিন এলানের একটি নাটকের শুটিং করি, যেটিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন সামিয়া অথৈ। শুটিং শেষ করলেও সেটির পেমেন্ট পাইনি আমি। পরিচালকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলে তিনি পরে দিবেন বলে আমাকে জানান। এরপর ঈদের দিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেসময় চা খেতে খেতে তিনি আমাকে জানালেন যে, সামিয়া অথৈ নাকি তার উপর ক্রাশ খেয়েছেন, তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি শুধু শুনেছি এই বিষয়ে আমি কোনো রিয়েকশন দেইনি। কারণ উনার নামে অনেক অভিনেত্রীরই নানান অভিযোগ শুনেছি আমি, সব নায়িকাদেরই নাকি তিনি প্রস্তাব দেন।

এরপর আমি যখন সামিয়াকে জানালাম বিষয়টি তখন সে পরিচালকের কথাগুলোকে বানোয়াট বলে। তখন তাকে আমি এটাও জানাই যে, পরিচালক আগে দুটি বিয়ে করেছিলেন, তার সন্তানও রয়েছে তবুও তিনি নিজেকে সব নায়িকার কাছে সিঙ্গেল দাবি করেন। তখন সামিয়া আমাকে এই পরিচালকের সঙ্গে আর কথা বলতে না করেন।

এই বিষয়গুলো জানানোর পরপরই ইয়ামিন এলান আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমাকে দেখা করতে বলে কিন্তু আমি দেখা করিনি। এরপর গত শুক্রবার আমার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সামিয়ার সঙ্গে দেখা করি মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেন সিটির সামনে। সামিয়ার গাড়ির ভিতরে বসে আমরা দুজন কথা বলছিলাম এসময় সেই পরিচালক গাড়িতে অনেক সন্ত্রাসী ছেলে-পেলে নিয়ে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। আমার গলা, বুকে,হাতে প্রচণ্ড আঘাত পাই। আমার পাঞ্জাবী ছিঁড়ে ফেলে, মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এরপর আমাকে টেনে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাই।

এছাড়া ইয়ামিন এলানের একটি এসএমএসের স্ক্রিনশর্ট এসেছে সমকালের কাছে। সেখানে মাসুমকে ইয়ামিন লিখেছেন, ‘অল্প বয়সে যদি চোখের সামনে আজরাইল দেখার ইচ্ছে না থাকে, তাহলে আর কখনো আমার সামনে পড় না। আজরাইল আমার চেহারা নিয়ে তোমাকে মারবে।’

এই বিষয়ে জানতে ইয়ামিন এলান সমকালকে বলেন, মাসুম যে অভিযোগ করেছে এটা পুরোপুরি সত্য নয়। এই ছেলে একজনের মোবাইল চুরি করেছিলেন এবং যার মোবাইল চুরি করেছিলেন ঘটনার দিন সেসহ আমাদের একসঙ্গে দেখে পালানোর চেষ্টা করেন। আমি কাউকে কোনো মারধর করিনি। বরং তার নামেই অনেক অভিযোগ রয়েছে যেগুলো সময় হলে প্রমাণসহ সামনে আনব।

তিনি বলেন, অভিনয় শিল্পী সংঘের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আমাকে ফোন করা হয়েছিল। তারা আমাদের দুজনের সঙ্গে বসবেন। সেখানেই সত্য-মিথ্যর প্রমাণ হবে।

আরও পড়ুন

×