ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কুমার বিশ্বজিৎ আমার মেন্টর, সমালোচক ও শিক্ষক: কিশোর

কুমার বিশ্বজিৎ আমার মেন্টর, সমালোচক ও শিক্ষক: কিশোর
×

কিশোর দাস। ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৪ | ১৮:১৩

কিশোর দাস। কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার। গতকাল প্রকাশ হয়েছে, তাঁর গাওয়া নতুন গান ‘মেঘবালিকা’। এ গান ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে–

‘মেঘবালিকা’ গানের ভিডিও নতুন করে প্রকাশ করলেন…

হ্যাঁ। ‘মেঘবালিকা’ শিরোনামে গানটি আমার দ্বিতীয় সলো অ্যালবাম ‘ফিরে আসো না’তে ছিল। ২০০৯ সালে গানটির অডিও ভার্সন প্রকাশ হয়েছিল। ওই অ্যালবামের সব গান নতুন করে ভিডিওর পরিকল্পনা করছি; যা আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল থেকে ধীরে ধীরে প্রকাশ হবে। 

একটা সময় বিভিন্ন অডিও কোম্পানি থেকে গান প্রকাশ হতো। এখন বেশির ভাগ সংগীতশিল্পী নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে গান প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে আপনার কী মনে হয়?

বিষয়টিকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখি। যেমন আমি নিজেই নিজের গান আমার চ্যানেলে দিচ্ছি। দর্শক শ্রোতাদের সঙ্গে নিজের যোগাযোগটা হচ্ছে। এতে করে সবার কাজ করার জায়গা বড় হচ্ছে। ভালো-মন্দের হিসাবটাও পাওয়া যাচ্ছে। 

নিজেদের চ্যানেলে গান প্রকাশের সুবিধা আর অসুবিধাগুলো কী কী

আমি অসুবিধার কিছু দেখি না। হতে পারে কোনো কোম্পানি থেকে ছাড়লে তাদের অনেক সাবস্ক্রাইবার এর চ্যানেল থাকে, তাতে গানের প্রচারে সুবিধা হয়। আর একজন শিল্পীর চ্যানেল এ শুধু তাঁর ভক্ত আর শ্রোতারা থাকেন, যারা ওই শিল্পীর ডেডিকেটেড ফ্যান। তাই আমার কাছে মনে হয় দুইটা মাধ্যমই ভালো। 

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার অভিমত?

আমি আশাবাদী একজন মানুষ। আমার বিশ্বাস সব সমস্যা কেটে যাবে।

সংগীতাঙ্গনে আপনার শুরুতেই পাশে পেয়েছিলেন বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎকে। প্রতিভার বিকাশ হতে কারও সহযোগিতা খুব প্রয়োজন, নাকি যোগ্যতা থাকলেই হয়ে যায়?

আমার কাছে মনে হয়, সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের সঙ্গে চলা খুব জরুরি। আর যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিভা প্রকাশে অভিজ্ঞদের পাশে পাওয়াটাও অনেক বড় ব্যাপার। আমি কুমার বিশ্বজিৎ স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ, তিনি আমার গানের মেন্টর, আমার সমালোচক ও শিক্ষক। 

খুব কম বয়সেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এ জনপ্রিয়তা চাপ, নাকি উৎসাহ হিসেবে কাজ করে?

জনপ্রিয়তা থেকে একটা দায়িত্ব তৈরি হয় নিজেকে আরও ভালো করার। আর এটাকেই হয়তো মানুষ চাপ বলেন। কিন্তু বিষয়টিকে আমি উৎসাহ হিসেবেই দেখি। আমার একটি গান যখন শ্রোতারা ভালো বলেন, তখন আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। 

এখনকার গানগুলো কেন ঠিক সেভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে না?

আসলে প্রতিটা সৃষ্টিকে সময় দিতে হয়। আজ যে গান আসলো তা আমার মনে হয় অন্তত ১০ বছর পরে গিয়েও যদি মানুষ শোনে, তাহলে বলতে হবে গানটা সফল। তাই জনপ্রিয় কিনা তাও যাচাই করার সময় দেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু অপূর্ণতা থাকে। আপনার জীবনের অপূর্ণতা কী?

সেভাবে তো কখনও ভেবে দেখিনি…! 

গান নিয়ে অনেকের মনে নেতিবাচক ধারণা আছে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী? 

আমার সঙ্গে যাদের পরিচয় বা যারা আমার ভক্ত, শ্রোতা তাদের গান নিয়ে নেতিবাচক হবার সুযোগ নেই। আর আমি আমার জীবনে এখনও কাউকে দেখিনি, যে গান ভালোবাসে না… তাই এর উত্তর আমার জানা নেই।

বাংলাদেশের সংগীতায়োজনের বাজার কতটুকু এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন?

বাংলাদেশের মানুষ সংস্কৃতিমনা। গানের বড় একটা অংশ জুড়েই তারা আছে। তাই অনেক সমস্যা থাকলেও সংগীত বাজার চলবে তার মতো করেই। 

নতুন কাজের কথা বলুন?

আসিফ ইকবালের লেখা ১টি গান, হাসানুজ্জান মাসুমের লেখা ২টি গান, সুপন রায়ের লেখা ২টি গানের কাজ প্রায় শেষ, এ গানগুলোর ভিডিও করার প্ল্যান হচ্ছে। এ মাসের শেষে শুটিং-এ যাব।

সুরকার কিশোরের কী খবর?

আমি প্রথমে গায়ক, পরে সুরকার। তাও সুরকার হিসেবে অনেক কাজ করেছি, অনেক শিল্পীর কাজ করেছি, এখনও করছি। সম্প্রতি প্রহেলিকা চলচ্চিত্রে আসিফ ইকবালের লেখা আমার সুর করা ও গাওয়া ‘হৃদয় দিয়ে’ গানটি অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। 

স্টেজ শোর ব্যস্ততা কেমন চলছে…

শীতকালীন মৌসুম কেবল শুরু হলো। বিভিন্ন আয়োজনে ডাক পাচ্ছি। শো করা সবসময় আনন্দের। আর প্রফেশনাল আর্টিস্ট হিসেবে এটা আমার কাজ।


 

আরও পড়ুন

×