নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ
সরকারি অর্থে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
ছবি- সমকাল
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৩:২৯
সরকারি অর্থায়নে রূপগঞ্জের ভূলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ির দিকে একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন এ রাস্তা মূলত চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের সময় সরকারি খালের একাংশ মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল গনি বিল্ডার্স।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পাশের সরকারি খালের একটি অংশে বাঁশ ও গজারির খুঁটি দিয়ে ঘের তৈরি করে সেখানে মাটি ও বালু ফেলা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে ঘের ভেঙে মাটি ও বালু খালের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূলতা ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেসব প্রকল্পের পরিবর্তে চেয়ারম্যান আরিফুল হক ভূঁইয়ার বাড়ির দিকে রাস্তা নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তাদের দাবি, চেয়ারম্যানের বাড়িতে আগে থেকেই যাতায়াতের রাস্তা থাকলেও নতুন করে সরকারি অর্থে আরেকটি রাস্তা নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, সরকার যখন খাল-জলাশয় সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করার নির্দেশনা দিচ্ছে, তখন সরকারি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে খালের অংশ ভরাট হওয়া উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাত্র ৭৫ মিটার রাস্তার জন্য প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তারা বলছেন এই ব্যয় এবং প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা উভয়টিই তদন্ত করে দেখা দরকার।
ভূলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল হক ভূঁইয়া বলেন, এই রাস্তা কোনো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে না। এটি এমন একটি সড়ক, যা এলাকার যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ এবং জনস্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
খাল ভরাটের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা যাবে না। আমি সব সময় আইন ও সরকারি নীতিমালা মেনেই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের পক্ষে। যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃতভাবে সরকারি খালের কোনো অংশ ব্যবহার করে থাকে, তাহলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তা দ্রুত অপসারণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল গনি বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী নাহিদ হাসান বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের শুরু থেকেই নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত বা সরকারি জমি দখল করে যেন রাস্তা নির্মাণ না করা হয়। কাজের সময় খালের একটি ভাঙা অংশে রাস্তা রক্ষার জন্য সাময়িকভাবে বাঁশের ঘের দিয়ে কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। আমাদের জানা মতে খাল দখল করা হয়নি। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে খালের কোনো অংশে মাটি পড়ে থাকলে আমরা তা দ্রুত অপসারণ করে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করব।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা জেনেছি, প্রকল্পটি ভূলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি জানার পর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- রাস্তা সংস্কার
- সরকারি প্রণোদনা