হামের উপসর্গে মৃত্যু ৮০০ ছুঁইছুঁই
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৪:০০
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কমার লক্ষণ নেই। গত চার মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা আটশর কাছাকাছি পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৯৭ শিশুর মৃত্যু হলো। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৭০২ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, সংক্রমণও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩০ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮৭৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এক দিনে নতুন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮। একই সময়ে ১ হাজার ২১৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৭৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জন। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৭০৮ জন। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২ হাজার ২৪৪ জন। তাদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৪১১ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এলোপাতাড়িভাবে টিকা প্রয়োগ করায় হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পাশাপাশি রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও ঘাটতি ছিল।
ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, এখন দ্রুত আক্রান্তদের শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, এখনও একশ্রেণির শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশুর টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি, তাদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। তাই এই ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।
- বিষয় :
- হামের উপসর্গ
- মৃত্যু