ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আনন্দে সারা ঢাকা রিকশায় ঘুরেছি: বাঁধন

আনন্দে সারা ঢাকা রিকশায় ঘুরেছি: বাঁধন
×

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: ফেসবুক

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ১৪:০০ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ১৪:৩৫

আজমেরী হক বাঁধন। গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাংস্কৃতিক জগতের অনেক শিল্পীর মতো তিনিও প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। শুধু সামাজিক  মাধ্যমে নয়, এ অভিনেত্রী রাজপথেও নেমেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন এই তারকা অভিনেত্রী– 

দেখতে দেখতে জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তি আজ। পেছনে ফিরে তাকালে কী দেখতে পান?
আন্দোলনে সেই উত্তাল দিনগুলো এখনও চোখে জ্বল জ্বল করছে। এই আন্দোলন আমাকে আশা দিয়েছিল। দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছিল। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবুও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমরা এক হয়েছিলাম এমন একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, যে রাষ্ট্র নিজের জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র তাক করেছিল তার জনগণের দিকে। কোনো কারণ ছাড়া মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল। নির্দোষ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছিল। জুলাই আন্দোলন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আন্দোলনের সময় আমরা এক হয়েছিলাম আমাদের অধিকার আর দেশকে ভালোবেসে। সেটা ছিল স্মরণীয় মুহূর্ত। 

কখন ভেবেছিলেন রাজপথে নামতে হবে? 
নারায়ণগঞ্জে রিয়া গোপ নামে এক শিশু মারা যায়। ছাদে বসে খেলার সময় তার মাথায় গুলি লাগে। তার মৃত্যুটা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। আমার সন্তানও ছাদে খেলতে যায়। তখন আমার কাছে মনে হয়েছে ওই শিশুটির জায়গায় তো আমার মেয়ে থাকতে পারত। এরপর ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ’ নামে একটি ব্যানারে আমরা একত্রিত হই। নির্মাতা আকরাম খানের ডাকে এখানে শিল্পীরা সাড়া দিয়েছিলাম। এরপর প্রত্যেক দিনই ছাত্রদের সঙ্গে মাঠে ছিলাম। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রেস ক্লাবে বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ছাত্রদের মঞ্চে বক্তব্য রেখেছি। ৪ আগস্ট তারিখে পুরো দিনই শাহবাগে ছিলাম। ৫ আগস্ট মিরপুর সাড়ে ১১ থেকে কালশী হয়ে গণভবনের দিকে যেতে যেতে আমি জেনেছি যে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। আমি ভাবিনি তিনি এভাবে পালিয়ে যাবেন। খবরটি শুনে রিকশা নিয়ে মনের আনন্দে সারা ঢাকা ঘুরেছি। তখন রাস্তায় সবাই উল্লাস করছিল। কেউ নাচছিল। কেউ কান্না করছিল। কেউ স্লোগান দিচ্ছিল। সবার মধ্যেই আনন্দ দেখছিলাম।

হুমকি ধমকি পেয়েছিলেন নিশ্চয়ই?
অনেক হুমকি পেয়েছি। নানা সংস্থা থেকে ফোন আসছিল। এমনকি মন্ত্রী পর্যায়ের মানুষরাও আমাকে আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য ফোন দিয়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে আমাকে নানারকম থ্রেট করা হয়েছে। এমনকি অ্যাসিড মারা হবে বলেও হুমকি পেয়েছি। 

আন্দোলনের সঙ্গে যারা ছিলেন অনেকেই এ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আছেন। আপনি এ দলে নেই। কারণ কী?
এটি আমার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। ইচ্ছা করেই সবকিছু থেকে নিজেকে দূরে রেখেছি। আমি মনে করেছি এগুলোর সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত হতে চাই না। এ কারণেই হয়নি। 

জুলাই আন্দোলনে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। এক বছরের ব্যবধ্যানে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন?

এটি আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণেই এমনটি হয়েছে। আমাদের সমাজে নারীকে যখন দরকার হয়, তখন তাঁকে ব্যবহার করা হয়। যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় তখন তাঁকে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়। এটি তো আমাদের সামাজিক সমস্যা। সেটার জন্যই এমনটি হচ্ছে। 

যে প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তা কতটা পূরণ হতে চলেছে?
আমাদের প্রথম মুভমেন্টেই স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক– স্লোগান ব্যবহার করেছিলাম। প্রত্যাশা অনেক ছিল। কিন্তু এ সরকারের আমলে প্রত্যাশার ফল পাইনি। পুরোনো বন্দোবস্তই দেখতে পাচ্ছি। 

শোবিজের এই সময়টা কেমন যাচ্ছে? 
একটা সিন্ডিকেট গেছে আর একটা সিন্ডিকেটের কাছে কাজ চলে এসেছে। আরেকটা দল সুবিধাভোগী হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিতে পুঁজি একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। নতুন করে কেউ বিনিয়োগ করছে না। এখানে একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে। এর কারণে কাজ কমেছে। বিভিন্ন গোষ্ঠীর উত্থানের কারণে কাজে বাধাও এসেছে। এটি ভীষণ লজ্জার। যারা টাকা লগ্নি করবে তারা নেই। 

আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে দেখতে চান?
সাম্য ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ দেখতে চাই। চাই মানবিক বাংলাদেশ দেখতে। যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সবাই তাঁর প্রাপ্য অধিকার বুঝে পাবে। একটা মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। স্বপ্ন অনেক বেশি ছিল। সেটার কাছাকাছি কিছুই পূরণ হয়নি। স্বপ্ন দেখেছিলাম ভালো কিছুর। আমি সেই আশা সবসময় বুকে ধারণ করেই চলব।

এবার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসা যাক। নতুন কী কাজ করছেন?
আমার কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ, আমার তিনটা সিনেমা ক্যানসেল হয়েছে। যারা প্রযোজক ছিলেন, তারা সবাই আওয়ামী লীগের। ইন্ডিয়ার একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার কথা ছিল। সেটা বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। 

আরও পড়ুন

×