ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

তিন যুগের সংগীত সফরটা ছিল রোমাঞ্চকর: রবি চৌধুরী

তিন যুগের সংগীত সফরটা ছিল রোমাঞ্চকর: রবি চৌধুরী
×

রবি চৌধুরী

রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫ | ১৩:৩৪

রবি চৌধুরী। তারকা কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছেন তাঁর গাওয়া মৌলিক হিন্দি গজল ‘ক্যায়সে ভুলাউ উসে’। ভিন্ন ধাঁচের এ আয়োজন, গানের ভুবনে তিন যুগের পথপরিক্রমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ    

আধুনিক বাংলা গানের শিল্পী হিসেবে আপনার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। সেই পরিচয়কে ছাপিয়ে হঠাৎ হিন্দি গজল গাওয়া শুরু করলেন, কারণ কী? 
একান্ত ভালো লাগা থেকেই গজল গাওয়া। মেহেদি হাসান, গুলাম আলীর মতো বিখ্যাত সব শিল্পীদের গজল শুনে শুনে আমার বেড়ে ওঠা। সে কারণে গজল গাওয়ার ইচ্ছা বরাবরই ছিল। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো একক, দ্বৈত, মিশ্র– সব মিলিয়ে আমার শতাধিক অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে; যেখানে মেলোডিনির্ভর আধুনিক বাংলা গান থেকে শুরু করে, ফোক ফিউশন, টেকনো, রকবেইজডসহ নানা ধরনের গান গেয়েছি। অথচ যার প্রতি এত ভালো লাগা, সেই গজলই গাওয়া হয়ে ওঠেনি। শেষমেশ নিজের ইউটিউব চ্যানেল চালু করার পর গজল গাওয়ার সুপ্ত ইচ্ছাটা পূরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। শুরুতে ‘পেয়ার কা পেহলা খাদ’, ‘এ হুসনে বেপরুয়া তুঝে’সহ কয়েকটি কালজয়ী গজল কাভার করেছি। এরপর নিজে কম্পোজ করে মৌলিক গজল গাওয়া শুরু করেছি। 

‘ক্যায়সে ভুলাউ উসে’ গজলটি প্রকাশের পর কেমন সাড়া পেলেন?  
যারা গজল ভালোবাসেন, তাদের অনেকে ‘ক্যায়সে ভুলাউ উসে’ পছন্দ করেছেন, এখনও শুনছেন– এটাই ভালো লাগার। রেকর্ড ভিউ আর আলোড়ন তোলার আশা নিয়ে গজল গেয়েছি বা প্রকাশ করছি, এমন নয়। শিল্পী সত্তাকে খুশি করতেই আমার এ আয়োজন।     

গজলের কোনো অ্যালবাম করার ইচ্ছা আছে? 
অ্যালবাম না হলেও গজলের একটি প্লে-লিস্ট তৈরি করতে চাই। সেখানে আমার গাওয়া ও কম্পোজিশনের মৌলিক গজলগুলো তুলে ধরা হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের আলাদা একটা পরিচিতি তুলে ধরতেই এ আয়োজন।

হিন্দি আর উর্দু গজল নিয়ে মেতে উঠেছেন। এখন কী তাহালে আপনার কণ্ঠে বাংলা গান শোনা হবে না?  
কেন হবে না, অবশ্যই বাংলা গান শুনতে পাবেন। শিগগিরই ‘বাংলাদেশ মানেই ঢাকা’ শিরোনামে আমার নতুন একক গান রিলিজ হবে। এটি আমার শিল্পী জীবনের আরেকটি ব্যতিক্রমী কাজ, যার কথা লেখার পাশাপাশি সুর করেছেন কলকাতার বিখ্যাত শিল্পী ও সুরকার নচিকেতা। এই গানের পর আরও কিছু ভিন্ন ধাঁচের আয়োজন তুলে ধরব। সেগুলোর সবই আধুনিক বাংলা গান। তবে হ্যাঁ, গজলের কথা যদি বলেন, তাহলে বলতেই হয়, বাংলায় গজল গাওয়া নিয়ে কেউ সেভাবে ভাবে না। এজন্যই হিন্দি আর উর্দু ভাষায় গজল গাওয়ার পরিকল্পনা। এর বাইরে আলাদা কোনো কারণ নেই। 

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। দেখতে দেখতে শিল্পী জীবনের তিন যুগ পূর্ণ হলো। পেছন ফিরে তাকিয়ে এই সংগীত সফরটা কীভাবে মনের পর্দায় ধরা দেয়? 
পেছনের দিনগুলোয় তাকালে মাঝে মাঝে বিস্মিত এই ভেবে যে, এতটা পথ কীভাবে পেরিয়ে এলাম। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছি। গানে গানে ভালোবাসা কুড়িয়েছি দেশ-বিদেশের অগণিত শ্রোতার। শিল্পী হিসেবে অ্যালবামের জন্য রেকর্ড যেমন পারিশ্রমিক পেয়েছি, তেমনি পেয়েছি সাফল্যের শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করার সুযোগ। এক কথায়, তিন যুগের সংগীত সফরটা ছিল রোমাঞ্চকর। তার পরও কখনও কখনও মনটা বিষাদে ভরে যায়, সুরকার প্রণব ঘোষ, আলাউদ্দিন আলী, আলম খান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, লাকী আখন্দ, নন্দিত কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার, সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোর, খালিদ হাসান মিলু, সঞ্জীব চৌধুরী মতো অনেক গুণীদের চিরবিদায়ের কথা ভেবে। তাদের স্নেহ, ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব এখনও ভীষণ মিস করি।
  
 

আরও পড়ুন

×