ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শুধু লড়াই নয়, আছে প্রতিশোধ ও এক যোদ্ধার ব্যক্তিগত জীবনের দুঃস্বপ্ন

শুধু লড়াই নয়, আছে প্রতিশোধ ও এক যোদ্ধার ব্যক্তিগত জীবনের দুঃস্বপ্ন
×

‘বাঘি ৪’ এর পোস্টারে টাইগার শ্রফ

মীর সামী

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৪:০২ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৪:১১

আরও ভয়ংকর ‘বাঘি-৪’ মীর সামী বলিউডে বর্তমানে যদি এমন কোনো তারকার নাম নিতে হয়, যিনি অ্যাকশনকে একেবারে নিজস্ব পরিচয়ে স্থাপন করেছেন, তবে তিনি হলেন টাইগার শ্রফ। জন্ম থেকেই তিনি যেন মার্শাল আর্টের মঞ্চে দাঁড়ানো এক যোদ্ধা। তবে অভিনয়জীবনে তাঁর পথচলা সহজ ছিল না। ‘হিরোপান্তি’ দিয়ে ২০১৪ সালে বলিউডে অভিষেকের পর থেকেই তিনি নজর কাড়েন অসাধারণ শারীরিক দক্ষতায়। কিন্তু দশ বছরের ক্যারিয়ারের পরও প্রশ্ন থেকে গেছে–টাইগার কি শুধু ‘অ্যাকশন হিরো’ হয়ে থেকে যাবেন, নাকি ভাঙবেন নিজের সীমা? হয়তো তার উত্তর জানতে কিছুটা সময় লাগবে। আজ আলোচিত হচ্ছে টাইগারের নতুন সিনেমা ‘বাঘি ৪’ নিয়ে। 

প্রথম ‘বাঘি’ মুক্তি পায় ২০১৬ সালে এবং ছবিটি দারুণ ব্যবসা করে, টাইগার হয়ে ওঠেন নতুন প্রজন্মের ‘অ্যাকশন পোস্টার বয়’। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্বে একের পর এক লড়াই ও প্রেমের গল্প মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্লকবাস্টার রেসিপি। প্রতিটি ছবিতে দর্শক পেয়েছেন অ্যাকশন ও আবেগের সঠিক সমন্বয়। তবে ‘বাঘি ৩’ সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি; অনেকেই মনে করেছিলেন সিরিজটি নিজের ধার হারিয়েছে। এরপর টাইগারকে দেখা যায় ‘ওয়ার’ সিনেমায়, যেখানে হৃতিক রোশনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। এরপর ‘গণপত’ বা ‘হিরোপান্তি ২’র মতো ছবিগুলো বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। 

তখন প্রশ্ন ওঠে– ‘টাইগার কি একই ধরনের অ্যাকশনে আটকে যাচ্ছেন? দর্শক কি নতুন কিছু দেখতে চাইছেন না?’ এই প্রেক্ষাপটেই ‘বাঘি ৪’ এসেছে, যা টাইগারের ক্যারিয়ারের এক নতুন মোড়। এবার শুধু লড়াই নয়, আছে প্রতিশোধ এবং এক যোদ্ধার ব্যক্তিগত দুঃস্বপ্ন। 

কিছুদিন আগে প্রকাশ হয়েছে সিনেমার ফাস্ট লুক পোস্টার ও টিজার ট্রেলার। এগুলোতে টাইগারকে একেবারে ভিন্নরূপে দেখা গেছে। স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত, নিজের পরিচয় জানে না, কিন্তু প্রতিশোধ নিতে অদম্য। গল্পে রয়েছে ভেতরের সংগ্রাম, মানসিক যন্ত্রণা ও বাইরের ভয়ংকর লড়াই। 

ট্রেলারে টাইগারের লুক নজর কাড়ছে, রক্তে ভেজা, চোখে আগুন, সিগারেট ধরা ঠোঁট, হাতে মদের বোতল। নির্মম এই রূপ আগে কখনও দেখা যায়নি। অনেকেই বলছেন, ‘এটাই টাইগারের ডার্কেস্ট রোল’। 

সামাজিক মাধ্যমে ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই ঝড় উঠেছে। কেউ লিখেছেন, ‘টাইগার তাঁর জীবনের সেরা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।’ আবার কেউ বলছেন, ‘এটা বলিউডের ‘অ্যানিমেল’-এর চেয়ে ভয়ংকর।’ কেউবা মন্তব্য করেছেন, ‘অবশেষে টাইগার শ্রফ তাঁর সীমা ভেঙেছে।’

বলিউডে শক্তিশালী খলনায়কের সংকটের সময় হাজির হয়েছেন সঞ্জয় দত্ত। ‘অগ্নিপথ’ থেকে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’– তার ভয়ানক খলচরিত্র বরাবরই দর্শককে শিহরিত করেছে। এবার ‘বাঘি ৪’-এ তিনি টাইগারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে শিহরণ জাগানো উত্তেজনা তৈরি করেছেন। টাইগার-সঞ্জয়ের দ্বন্দ্ব ইতোমধ্যেই ট্রেলারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এটি নিঃসন্দেহে ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে।

এই সিনেমার মাধ্যমে বলিউড পেতে যাচ্ছে আরও এক নতুন মুখ– সাবেক মিস ইউনিভার্স হরনাজ সান্ধু। ‘বাঘি ৪’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর বলিউড যাত্রা শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পাঞ্জাবি তারকা সোনম বাজওয়া। তাদের উপস্থিতি শুধু সৌন্দর্য নয়, গল্পেও এনেছে ভিন্ন মাত্রা। ‘বাঘি ৪’ পরিচালনা করেছেন এ হর্ষা। তিনি দক্ষিণ ভারতের একজন দক্ষ নির্মাতা। পূর্বে তিনি বানিয়েছেন ‘বজরঙ্গী’ ও ‘ভেদা’, যেখানে ছিল কমপ্যাক্ট অ্যাকশন ও নাটকীয় ভিজ্যুয়াল। ‘বাঘি ৪’-এর ট্রেলারে তাঁর সেই স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে স্লো-মোশন রক্তমাখা লড়াই, ক্লোজশট শট, অতিরিক্ত রঙের ব্যবহার। সব মিলিয়ে দক্ষিণী সিনেমার স্বাদ আর বলিউডি ঝলক একসঙ্গে এসেছে।

ট্রেলারের শুরুতে দেখা যায় প্রেমের মৃত্যু। নৌবাহিনী অফিসার রনির জীবন ছারখার হয়ে যায় প্রেমিকার মৃত্যুর পর। সে প্রেমিকার মৃত্যুকে মেনে নিতে পারে না, হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়ায় প্রিয় মানুষকে। ট্রেলারে নজর কেড়েছেন সঞ্জয় দত্তও। অবিকল রণবীরের মতো অ্যাকশনের মুডে দেখা গেছে ‘সাঞ্জু বাবা’-কে। তবে অ্যাকশনের মাঝে কিছু দৃশ্য যেন ‘দেজা ভু’। কালো পোশাকে মুখোশধারী লোকদের গলিপথে দৌড়ানো সিকোয়েন্স অনেকের মনে করিয়েছে রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিমেল’-এর বিখ্যাত হলওয়ে দৃশ্যের। তুলনা টানা হয়েছে মালায়ালাম থ্রিলার ‘মার্কো’র সঙ্গেও, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে হিংস্র ভারতীয় ছবি হিসেবে ধরা হয়। 

আজকের দিনে বলিউডের অ্যাকশন শুধু বলিউডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির ‘কেজিএফ’, ‘পুষ্পা’ বা সাম্প্রতিক ‘অ্যানিমেল’ ভারতীয় অ্যাকশনকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। দর্শকের চোখ এখন আরও বড়, আরও ভয়ংকর, আরও বিস্ফোরক ভিজ্যুয়ালের দিকে। এই প্রেক্ষাপটে ‘বাঘি ৪’ একটি বড় পরীক্ষা। টাইগারকে শুধু বলিউডি হিরো হিসেবেই নয়, প্যান-ইন্ডিয়া নায়কের মতোও দাঁড়াতে হবে।

টাইগার শ্রফ শুধু ‘অ্যাকশন বয়’ নন; তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে চান একজন পূর্ণাঙ্গ অভিনেতা হিসেবে। সিনেমা হলের পাশাপাশি ‘বাঘি ৪’ ওটিটিতে মুক্তি পাবে প্রায় ৮ সপ্তাহ পর। ফলে যারা প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখতে পারবেন না, তারা বাড়িতে বসে দেখবেন।

‘বাঘি’ সিরিজ মানেই বিদ্রোহ, প্রতিশোধ ও চোখ ধাঁধানো অ্যাকশন। চতুর্থ পর্বে যোগ হয়েছে অন্ধকার, স্মৃতিভ্রংশ এবং ভেতরের দহন। রক্তমাখা ভিজ্যুয়াল, সংলাপের গর্জন, অনবরত অ্যাকশন—সব মিলিয়ে ‘বাঘি ৪’ শুধু সিনেমা নয়, এটি টাইগার শ্রফের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রশ্ন একটাই এই ঝড় কি বক্স অফিস কাঁপাবে, নাকি সমালোচনার ভারে ভেঙে পড়বে? উত্তর দেবে সময়, তবে দর্শক ইতিমধ্যেই প্রস্তুত, টাইগারের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপের সাক্ষী হতে।

এদিকে টাইগারের কেরিয়ার গ্রাফও মন্দ নয়। হাতে আছে দুটি বড় ছবি মুরাদ খেতানি প্রযোজিত, সচিন রবি পরিচালিত একটি হাই-কনসেপ্ট অ্যাকশন ফিল্ম এবং করণ জোহর প্রযোজিত রাজ মেহতা পরিচালিত ‘লগ যা গলে’।

‘বাঘি ৪’-এ টাইগারের চরিত্রে শুধু লড়াই নয়, আছে আবেগ, হতাশা এবং মানসিক দ্বন্দ্ব। যদি তিনি এই চরিত্রে সফল হন, তবে এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়। ব্যর্থ হলে আবারও প্রশ্ন উঠবে– “টাইগার কি শুধু অ্যাকশন হিরো হয়ে গেলেন?”

আরও পড়ুন

×