কেরালা নিয়ে সস্তা রসিকতায় তোপের মুখে বলিউডের নতুন সিনেমা 'পরম সুন্দরি'
সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং জাহ্নবী কাপুরকে দেখা গেছে 'পরম সুন্দরি' সিনেমায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৭:২৫ | আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:০৩
বলিউডের সিনেমাগুলোতে সচরাচর হিন্দি ব্যতীত অন্য ভাষাভাষী রাজ্যগুলো নিয়ে সস্তা রসিকতা করা হয়। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং জাহ্নবী কাপুর অভিনীত 'পরম সুন্দরি' সিনেমাটি ঘিরে একই আলোচনার অবতারণা হয়েছে নতুন করে।
সিনেমাটির মূল চরিত্র ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য কেরালার মেয়ে 'সুন্দরি' এবং দিল্লীর ছেলে 'পরম'। এমন দুই এলাকার দুই চরিত্রের দেখা হওয়া এবং প্রেমে পড়ার গল্প বলিউডে নতুন নয়। তবে এই সিনেমায় যেভাবে কেরালা রাজ্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে নিন্দায় ফেটে পড়েছে নেটিজেনরা।
সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই কেরালার মেয়ে হিসেবে জাহ্নবীর অভিনয় নিয়ে চলছে আপত্তির ঝড়, কারণ কেরালার বাসিন্দা হয়েও সে সারাক্ষণ কথা বলে চোস্ত হিন্দিতে, আর তার মালয় উচ্চারণ এতটাই বাজে যে সে নিজের নামটাও ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। তার সাজপোশাকে গেয়োঁভাব প্রকট, এবং তার প্রিয় কাজ হলো গাছে উঠে নারকেল পাড়া।
কেরালার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে একের পর এক সস্তা রসিকতা করা হয়েছে সিনেমাজুড়ে, যা কিছুটা বর্ণবাদ বলেই মনে হতে পারে। সিনেমার শুরুতেই পরমের বন্ধু কেরালায় হাজির হয় এবং একটি এলাকার নাম উচ্চারণ করতে না পেরে বলে বসে, 'এটা আবার কোথায়? আফ্রিকায় নাকি?' এছাড়া কেরালা বলতেই নারিকেল গাছ, হাতি ইত্যাদি দেখিয়ে যাওয়া হয় পুরোটা সময়।
'সিনেমাটি আসলে কেরালায় পর্যটন টানার লম্বা একটি বিজ্ঞাপন,' এমন রিভিউ লিখেছেন এক দর্শক। 'কেরালার সংস্কৃতির যা যা খুঁটিনাটি ছিল সবই চাপা পড়ে গেছে এখানে।'
কেরালা রাজ্য এবং এর বাসিন্দাদের হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করায় কিছু দর্শক মজা পেয়েছেন। তবে বেশিরভাগ সমালোচকই বিরক্তি ঝেড়েছেন।
এ ধরণের সমালোচনা হতে পারে, সেটা আঁচ করেই হয়তো সিনেমাটির কাহিনীতে কিছু কিছু টুইস্ট রাখা হয়েছে। যেমন কেরালার মানুষদের হেয় করায় পরম এবং তার বন্ধুকে বেশ কয়েকবার বকাঝকা করে নায়িকা। তাদেরকে 'অজ্ঞ, অশিক্ষিত, অহংকারি' বলে একচোট নেয়।
সিনেমাটিকে 'বস্তাপচা, ক্লান্তিকর, এবং অপমানজনক,' বলে দাবি করেন সমালোচক সৌম্য রাজেন্দ্রন। কেরালার চটকদার দৃশ্যগুলোর আড়ালে আসলে নতুন বোতলে পুরনো মদ উপস্থাপন করা হচ্ছে, তিনি বলেন।
সমালোচকদের তোপের মুখেও অতীতে বক্স অফিসে সফল হয়েছে এ ধরণের কিছু সিনেমা, যেমন ২০১৩ সালের চেন্নাই এক্সপ্রেস। এছাড়া ২০১৪ সালে মণিপুরী বক্সার মেরি কমকে নিয়ে সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করার পর প্রিয়াংকা চোপড়া স্বীকার করেছিলেন, এই চরিত্রে আসলে মণিপুরের কোনো অভিনেত্রীকে রাখলে ভাল হত। এরপরেও সিনেমাটি সফল হয়, এবং প্রিয়াংকা তার তুখোড় অভিনয়ের জন্য কয়েকটি এ্যাওয়ার্ড জিতে নেন।
তবে সময়ের সাথে বদলেছে ভারতীয় দর্শকদের মনোভাব। করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে সিনেমা হলগুলো দর্শকশূন্য হয়ে পড়ে, স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন বেশি মানুষ। এতে বলিউডের বিশাল বাজেটের সিনেমাগুলো একে একে ফ্লপ হতে থাকে। নেটফ্লিক্স এবং এমাজন প্রাইমের মতো স্ট্রিমিং সার্ভিসের কল্যাণে হিন্দি বাদে অন্যান্য ভারতীয় ভাষার সিনেমাগুলোও একে একে দর্শকদের কাছে কদর পাচ্ছে এখন।
পরম সুন্দরির সাথেই তুলনা দেওয়া যায় সম্প্রতি আসা মালয় সিনেমা 'লোকাহ', যা কিনা বলিউডি হিন্দি সিনেমাটির তুলনায় অনেক দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বাহবা কুড়িয়েছে চমৎকার প্লটের কারণে।
সমালোচক আলিনা এ বিষয়ে বলেন, একটি এলাকার সংস্কৃতি নিয়ে যখন গল্প লেখা হয়, তখন ওই সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে গল্পটা এলোমেলো হয়ে যায়, ঠিক ভারসাম্য থাকে না।
এমন বেখাপ্পা সিনেমা শুধু যে বলিউডেই দেখা যায়, তাও নয়। খোদ মালয় সিনেমাতে দলিত এবং তামিল মানুষদের নিয়ে ঠাট্টা করা হয় এমনটাও দেখা গেছে, অন্যদিকে হিন্দি ভাষার মানুষদের সেখানে দেখানো হয় কমেডি চরিত্রে।
সূত্র- বিবিসি
