ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাধ্য হয়ে নির্মাতার সহকারী হিসেবে কাজ করেছি: শাহেদ

বাধ্য হয়ে নির্মাতার সহকারী হিসেবে কাজ করেছি: শাহেদ
×

শাহেদ আলী

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ১৬:৩৮ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:০৬

শাহেদ আলী। অভিনেতা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘ফেরেশতে’। এ সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।

‘ফেরেশতে’ নিয়ে কী দর্শক প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ হয়েছে?
এটি একটু অন্য ধরনের সিনেমা। নির্মাতার দৃষ্টিতে দেখা এটি বাংলাদেশের সিনেমা। এখানে দর্শক সাড়ার সুযোগ খুব কম। আমার পর্দায় সাধারণত নিজেদের দৈন্যদশা পর্দায় দেখাতে পছন্দ করি। নিজেদের দুর্বলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিনেমার মাধ্যমে প্রকাশ করি। সেগুলো দেখে আমরা খুব বাহবা দেই। নিজের শিকড়, জগৎকে অন্য দৃষ্টি থেকে দেখার মতো দর্শক আমাদের এখনও তৈরী হয়নি। সত্যি কথা বলতে  কী সিনেমাটি মুক্তি সময়  তেমন কোনো প্রচার প্রচারণা হয়নি। অনেক বেশি দর্শক সিনেমাটি দেখেছেন এটি বলার অবকাশ নেই। তবে যারা দেখেছেন, পছন্দ করেছেন।

সিনেমাটিতে যুক্ত হয়েছিলেন কীভাবে?
আরিফ নামে একজন ডিওপি আমার পুরোনো বন্ধু। একদিন সে বলল, ইরানি একজন নির্মাতা একটি সিনেমা বানাবে। সে বাংলাদেশে ভিন্নধর্মী কাজ করে এমন কয়েকজন অভিনেতার সঙ্গে পরিচিত হতে চেয়েছেন। তখন বন্ধুটি আমার নাম বলে। একটা সময় ইরানি নির্মাতা মুর্তজা আতশ জমজমের সঙ্গে দেখা করতে যাই। অডিশন নেওয়ার ইচ্ছা নিয়েই যাই সেখানে। আর ইরানি চলচ্চিত্রের প্রতি আমার এক ধরনের দুর্বলতা ছিল। ইরানি একজন নির্মাতা আমাদের এখানে সিনেমা করতে যাচ্ছেন। সেই জায়গায় থেকে আমি বেশ উৎসাহ নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমার সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করেন। মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে আমার কিছু ফুটেজ নেন। অনেক দিন যোগাযোগ ছিল না। সিনেমায় অভিনয়ের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। তিনি চার মাস পর প্রোডাকশন থেকে ফোন করে সিনেমায় কাজের কথা জানান। এরপর শিডিউল দেই।

টিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ফেরেশতের টিমের সদস্যরা ভালো ইংরেজি বোঝেন না। বাংলা তো একেবারেই বোঝেন না। কিন্তু আমরা যখন কাজ শুরু করেছি, তখন তাদের ভাষা বুঝতে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। কাজ করতে করতে আমাদের ভাষা তারা বুঝতে পেরেছেন। আমাদের দেশি নির্মাতার ভাষাও আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না। এটি আমি রূপক অর্থে বলছি। মুর্তজা আতশ জমজমের সঙ্গে বেশ আরাম করেই কাজটি করেছি। এমনভাবে শুটিং হয়েছে, বুঝতে পারিনি কাজটি শেষ হয়েছে।
 
একসময় ক্যামেরার পেছনে কাজ করেছেন। নির্মাণে আপনাকে দেখা যায় না কেন?
বিষয়টা আসলে সে রকম নয়। পেশাগতভাবে একটা সময় আমি সহকারী পরিচালকের কাজ করতাম। অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে নির্মাণে এসেছিলাম। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কারও কাছ থেকে সহজে অভিনয়ের প্রস্তাব পেতাম না। তখন বাধ্য হয়ে সহকারী পরিচালকের কাজ করেছি। ওইসময় কারও কাছে বলা সম্ভব হয়েছে যে অভিনয়টা করতে চাই। আসলে অভিনয়টাই ঠিকঠাকভাবে করতে চাই। পরিচালনায় এখন আর নিজেকে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা নেই।

এই সময়ের ব্যস্ততা কী নিয়ে?
নতুন একটি সিনেমায় অভিনয় করছি। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। শিগগিরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসবে। কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সামনে সেগুলোর প্রচার  প্রচারণায় মনোযোগী হবো। 

দুই যুগের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন। পেছনে ফিরে তাকালে কী দেখতে পান?
অতীত রোমন্থন করতে আমি খুব একটা পছন্দ করি না। বর্তমানে বাঁচি। সামনে অনেক সুন্দর সময় অপেক্ষা করছে এটি বিশ্বাস করি। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছি।

মঞ্চেও কাজ করছেন দীর্ঘদিন। এ অঙ্গনের কী সংকট দেখছেন? 
মঞ্চে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব রয়েছে। নিজের প্রতিও নয়, অন্যের প্রতিও নয়। ভক্তিটা কমে গেছে। অন্য ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সবাই মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়। ওই আকাঙ্ক্ষা যখন কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন মঞ্চকে তাঁর প্রয়োজন হয় না। প্রত্যেকেই আসলে খ্যাতিমান হতে চায়। এখানে খ্যাতিমান হওয়া সহজ। মঞ্চকে ইউজ করতে গিয়ে এবিউজ করে ফেলেছি। এটাই এখন বড় সমস্যা। মঞ্চে পেশাগত জায়গা গড়ে ওঠেনি। অন্য সমস্যাগুলো আমার কাছে মুখ্য নয়।  

মঞ্চের নতুন কোনো প্রযোজনায় কাজ করছেন?
প্রাচ্যনাটের আগুনযাত্রায় সর্বশেষ অভিনয় করছি। দলের নতুন প্রযোজনায় কাজ করতে পারিনি। আমি ফ্রি সময়ে থিয়েটার করি না। আমার চরম ব্যস্ততায় সময়ও থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছি। অন্য কাজের ফাঁকে বা অবসর পেলে থিয়েটার করার লোক নই। করতে চাইও না। থিয়েটারই আমার অন্যতম কাজ।

 

আরও পড়ুন

×