‘আমি গানে গানে আসব ফিরে, কানে কানে’
আইয়ুব বাচ্চু। ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ১৪:২৯
১৮ অক্টোবর, এই তারিখটি আইয়ুব বাচ্চুর ভক্ত-শ্রোতাদের জন্য শোক, স্মৃতিচারণ আর প্রার্থনার। যদিও কিংবদন্তি এই শিল্পীর অসংখ্য গান আর শ্রোতা মনে অনুরণন তুলে যাচ্ছে, তবু তাঁর না থাকাটা বিষাদ ব্যথা হয়ে বেজে উঠে বারবার।
অনেকে জানেন, ২০১৮ সালের এই দিনে আইয়ুব বাচ্চুর আকস্মিক বিদায়টা ছিল বিধির লিখন, যাকে কোনোভাবেই খণ্ডানো যেত না। এই সত্য জেনেও অনুরাগীরা তাঁর বিদায় সহজভাবে মেনে নিতে পেরেছেন কিনা– সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
‘শিল্পীর মৃত্যু নেই; সৃষ্টির মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকেন চিরকাল। আইয়ুব বাচ্চুও তাঁর অনবদ্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যুগ যুগ ধরে সংগীতপ্রেমীদের মনে বেঁচে থাকবেন; কড়া নেড়ে যাবেন হৃদয়ে। বহু বছর আগে গানে গানে যার আভাস দিয়েছিলেন ঠিক এভাবেই, ‘আমি গানে গানে আসব ফিরে, কানে কানে/ দোলাব হৃদয় তোমার, সময় অসময়ে/ ক্ষণে ক্ষণে প্রতিক্ষণে, বেলা অবেলায় আলিঙ্গনে/ আমি আসব তোমার, ঠিক সবখানে....’।
বিগত বছরগুলোর মতো আজকেও আইয়ুব বাচ্চুর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন শিল্পীর বন্ধুমহল, আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম মিউজিসিয়ান’স ক্লাব, ঢাকা। রাজধানীর মগবাজারের সেলিব্রেশন কমিউনিটি পয়েন্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে এই দোয়া মাহফিল। এ ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে ‘রক আইকন’-খ্যাত এই শিল্পীর স্মরণে আরও বেশ কিছু আয়োজন করা হচ্ছে।
এদিকে আইয়ুব বাচ্চুর সৃষ্টিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন। যার মাধ্যমে স্মৃতি জাদুঘর থেকে শুরু করে আইয়ুব বাচ্চু স্মরণে কনসার্ট ও সম্মাননা প্রদান এবং এই রক আইকনের অপ্রকাশিত প্রায় দুইশত গান প্রকাশের পাশাপাশি পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ‘আমাদের চাওয়া একটাই, আইয়ুব বাচ্চু যে ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, সেই ভালোবাসার দাবি পূরণের মধ্য দিয়ে তাঁকে চিরকাল মাঝে বাঁচিয়ে রাখা।’
একই রকম ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ফাউনেশনের চেয়ারম্যান ও আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা ও তাদের দুই সন্তান ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও আহনাফ তাযওয়ার আইয়ুব।
আইয়ুব বাচ্চুর সৃষ্টিকর্ম ও স্মৃতি সংরক্ষণের নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাঁর ব্যান্ড এলআরবি চিরকালের জন্য নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকবে কিনা? এ প্রশ্নও অনেকের মনে বহুবার উঠে এসেছে। কারণ আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণের পর দুজন শিল্পীকে নিয়ে এলআরবি পারফর্ম করার ঘোষণাও দিয়েছিল; যা নিয়ে পরে আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের সদস্যরা আপত্তি তুলেছিলেন। দর্শক-শ্রোতা থেকে শুরু গানের ভুবনের বাসিন্দারাও বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তাহলে কী এলআরবি নামটা দেশীয় সংগীতের ইতিহাস হয়েই থাকবে?
এ প্রশ্নের জবাবে এই ব্যান্ডের সাবেক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তাহলো– আইয়ুব বাচ্চুকে ছাড়া এলআরবি পারফর্ম করে যাবে– এটা অনেকেই কল্পনা করতে চান না। আইয়ুব বাচ্চু-এলআরবি দুটোই এক সুতোয় গাঁথা; যা কখনও আলাদা করা যাবে না। তবে এলআরবি শ্রোতা মনে ঠিকই বেঁচে থাকবে এর কালজয়ী গানগুলোর কারণে। যুগ যুগ ধরে তাদের মনে অনুরণন তুলে যাবে ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’ [চলো বদলে যাই], ‘রুপালী গিটার’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘মাধবী’, ‘বাংলাদেশ’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘হাসতে দেখ’, ‘নীল বেদনা’, ‘নীরবে’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘স্মৃতি নিয়ে’, ‘জন্মহীন নক্ষত্র’-সহ অসংখ্য গান।
একই সঙ্গে শ্রোতা হৃদয়ে বেঁচে থাকবে একক, মিশ্র অ্যালবাম ও প্লে-ব্যাকের জন্য গাওয়া ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘উড়াল দেব আকাশে’, ‘এক আকাশ তারা’, ‘মেয়ে’, ‘অভিমান নিয়ে’, ‘যে তুমি কথা রাখোনি’, ‘এই জগৎ সংসারে’, ‘বাবা তোমায় মনে পড়ে’, ‘আম্মাজান’, ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’, ‘সাগরিকা’, ‘একটি সত্য’, ‘আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে’, ‘তারা ভরা রাতে’-সহ আরও অসংখ্য গান, যা তাঁকে অমর করে রেখেছে।
- বিষয় :
- আইয়ুব বাচ্চু
- সংগীতশিল্পী
- সংগীত
- ব্যান্ড দল
