ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঢাকায় আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম

ঢাকায় আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম
×

 আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:০১ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে ‘রুপালি গিটার’ নামে এক স্মারক ভাস্কর্য, যা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয় আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। চট্টগ্রামের এ চত্বর দিয়ে যাওয়ার সময়ই যেন মনে পড়ে যায় সেই জাদুকর সংগীতশিল্পীকে, যিনি বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গিয়েছিলেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও ১৮ অক্টোবর আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল ও মিলাদ। রাজধানীর মগবাজারের সেলিব্রেশন কমিউনিটি পয়েন্টে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আয়োজনটি করে আইয়ুব বাচ্চুর বন্ধুমহল, আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন এবং চট্টগ্রাম মিউজিশিয়ানস ক্লাব, ঢাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও ‘রক আইকন’ খ্যাত এ শিল্পীর স্মরণে নানা আয়োজন হয়।

এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় খবরটি জানালেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ও আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফেরদৌস আক্তার। তিনি ঘোষণা দেন, রাজধানীর মগবাজারেই গড়ে উঠছে দেশের প্রথম ‘আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম অ্যান্ড কালচারাল হাব’। প্রায় ১০ কাঠা জায়গাজুড়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকবে আইয়ুব বাচ্চুর জীবন, সংগীত এবং শিল্পভুবনের অজস্র স্মৃতি ও সম্পদ। ফেরদৌস আক্তার বলেন, ‘আমরা চাই, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কাছ থেকে জানতে পারে আইয়ুব বাচ্চুর জীবন, তাঁর সংগ্রাম, তাঁর সৃষ্টির গল্প। এ জন্যই এই মিউজিয়াম তৈরি হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।’
ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি এবং প্রয়াত শিল্পীর দীর্ঘদিনের সহযাত্রী আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “এই মিউজিয়ামে শুধু গিটার নয়; থাকবে তাঁর ব্যবহৃত টি-শার্ট, হ্যাট, ক্যাপ, রোদচশমা থেকে শুরু করে স্টেজ কস্টিউম পর্যন্ত। ‘এবি কিচেন’-এর আদলে তৈরি একটি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও থাকবে সেখানে।” তিনি আরও বলেন, “দর্শনার্থীরা এখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে আইয়ুব বাচ্চুর কনসার্টের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন– যেন আবারও ফিরে যাওয়া যায় ‘সেই তুমি’, ‘বাংলাদেশ’ কিংবা ‘চলো বদলে যাই’-এর সময়ের আবেগে।”

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিউজিয়ামের পাশাপাশি থাকবে একটি মিউজিক্যাল ক্যাফে, মিলনায়তন এবং নতুন শিল্পীদের জন্য উন্মুক্ত স্টুডিও। তরুণ সংগীতপ্রেমীরা সেখানে এসে শুধু আইয়ুব বাচ্চুর জীবন ও সংগীতই নয়, বরং তাঁর আদর্শ ও দর্শন থেকেও অনুপ্রেরণা নিতে পারবেন। ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, মিউজিয়ামের প্রতিটি অংশে সাজানো হবে আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতযাত্রার ধাপগুলো– চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আগমন, ‘এলআরবি’র উত্থান, জনপ্রিয় অ্যালবামগুলোর ইতিহাস এবং দেশ-বিদেশের কনসার্টের নানা স্মৃতি।

সংগীতবোদ্ধারা বলছেন, এই মিউজিয়াম শুধু একজন শিল্পীর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জায়গা নয়; বরং এটি হবে বাংলাদেশের সংগীত ঐতিহ্যের এক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখান থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিখবে সংগীতের প্রতি ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধা।

আরও পড়ুন

×