জীবনের নির্মাণে কমেডিয়ান মোশাররফ, তানজিকা-পারসারা থাকছেন যে চরিত্রে
মোশাররফ করিম,তানজিকা আমিন,জীবন ও পারসা। ছবি: প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বরাতে পাওয়া।
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১৪:২৯ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১৫:১৮
প্রথমবারের মতো কমেডিয়ান চরিত্রে অভিনয় করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। এবার তিনি স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান—মানুষকে হাসিয়েই যাঁর জীবিকা চলে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল ফিল্ম ‘ডিমলাইট’–এ এমন এক নতুন রূপে দেখা যাবে তাঁকে। ছবিটি নির্মাণ করেছেন শরাফ আহমেদ জীবন।
২০ নভেম্বর চরকির ভেরিফায়েড পেজে জানানো হয়, ‘মোশাররফ করিম চরকিতে ফিরছেন আরও একটি নতুন রূপে! কিন্তু কী নিয়ে?’ দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে ২৩ নভেম্বর আরেক পোস্টে লেখা হয়-‘লাইফটাই একটা জোক, আর সবচেয়ে বড় জোক মিডলাইফ ক্রাইসিস।’ এই দুটি পোস্ট থেকেই ডিমলাইট সম্পর্কে দর্শকদের প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়।
সেনসেশন কনডমস প্রেজেন্টস এই চলচ্চিত্রে কমেডির আবরণে তুলে ধরা হয়েছে একজন পুরুষ চরিত্রের মিডলাইফ ক্রাইসিস। নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন বলেন, ‘প্রচুর আলো কিংবা অত অন্ধকার-দুটোতেই কিছু দেখা যায় না। দেখতে হলে প্রয়োজন পরিমিত আলো। জীবনে অনেক সমস্যা থাকে; কিছু দেখা যায়, কিছু দেখা যায় না। সেই অদৃশ্য সমস্যাগুলোই সহজভাবে দর্শকদের দেখানোর প্রয়াস হলো ডিমলাইট। আশা করছি ছবিটি দেখলে দর্শকরা ডিমলাইটের গুরুত্ব বুঝবেন।’
ডিমলাইট চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের অংশ। ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত অফিসিয়াল পোস্টারে লেখা হয়-মিডলাইফ ক্রাইসিস থুক্কু ডিমলাইট ক্রাইসিস!’ নির্মাতার ভাষায়, মিডলাইফ ক্রাইসিস–কেই প্রতীকি রূপে ‘ডিমলাইট ক্রাইসিস’ নামে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তারা। এই ক্রাইসিসে ভোগা মানুষটিই হলেন স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান মোশাররফ করিম। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন নিজেও। ছবির গল্প, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন নাহিদ হাসনাত।
সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরতেই ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের যাত্রা শুরু। স্বাভাবিকভাবে ডিমলাইট-এও সম্পর্কের গল্প কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করেছেন তানজিকা আমিন ও পারসা ইভানা।
স্ক্রিপ্ট শুনে অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে তানজিকা আমিন বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল গল্পটা খুব সময়োপযোগী। এখনই বলা উচিত। এমন ঘটনা আমার চেনা-দর্শকদেরও চেনা। জীবনেরই গল্প। তাই কাজ করতে আগ্রহী হয়েছি।’
পারসা ইভানা বলেন, ‘এটা খুব ফ্রেশ একটা গল্প। যেখানে কনফিউশন আছে, হিউমার আছে, ক্রাইসিস আছে—এবং খুব রিলেটেবল। আমরা যে জীবনটা লিড করি, তারই গল্প মনে হয়েছে আমার কাছে।’ এই ফিল্মের মধ্য দিয়েই তাঁর প্রথম কাজ আসছে চরকিতে।
গল্পটি সম্পর্কে মোশাররফ করিম বলেন, জীবনে নানান আবরণ পড়তে থাকে-চিনি, টুথপেস্ট, বাচ্চার স্কুলের বেতন-এমন সব নিত্যনৈমিত্তিক আবরণ। সেই আবরণে ঢেকে যায় সম্পর্ক; ঘুচে যায় ভালোবাসার স্পর্শ। ‘এসব আবরণ ধীরে ধীরে প্রেমকে ঢেকে ফেলে। আবার কখনো কিছুর ধাক্কা লাগে, তখন বোঝা যায় প্রাণভোমরাটা কোথায়। জীবনের মোরাল খুব শান্ত, খুব ঠান্ডা,’ বলেন তিনি।
এক বছর পর ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’-এর ষষ্ঠ সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কেন এত দেরি, সে বিষয়ে চরকির সিইও রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ–এর সবগুলো প্রজেক্ট দর্শকরা খুব পছন্দ করেছেন। আগামী কাজগুলোও যেন সেই মান বজায় রাখে-সেজন্য সময় নিয়ে কাজ করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ভালো কনটেন্টের জন্য দর্শকরাও অপেক্ষা করতে রাজি আছেন। ডিমলাইট সেই অপেক্ষা ও প্রত্যাশার মেলবন্ধন ঘটাবে।’
ডিমলাইট–এর সহ–প্রযোজক ও ছবিয়ালের কর্ণধার নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতির কারণে আমরা সময় নিয়েছি। বলা হয়—অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়। আগের পাঁচটি ফিল্ম দর্শক খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। আশা করছি ডিমলাইটও দর্শকদের ভালো লাগবে। সামনে আরও ভিন্ন স্বাদের কাজের পরিকল্পনা রয়েছে।’
পূর্বে মুক্তি পাওয়া পাঁচ ফিল্ম-‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬–২৪–৩৬’- এর ধারাবাহিকতায় এবার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ডিমলাইট।
