মানুষ গান শুনছে, বিনিময়ে ভালোবাসা দিচ্ছে– এতেই আমি খুশি: দোলা রহমান
দোলা রহমান। ছবি: গায়িকার সৌজন্যে।
রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:৪১ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:২৭
দোলা রহমান। তারকা কণ্ঠশিল্পী। সম্প্রতি তাঁর গাওয়া ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের শিরোনাম গান শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই সঙ্গে সংগীতপ্রেমীদের মনোযোগ কেড়েছে ফিউশনধর্মী গান ‘মিনতি’। এ আয়োজন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
সিনেমার পাশাপাশি নাটকেও প্লেব্যাক করছেন। কিছুদিন আগে গাওয়া ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের শিরোনাম গান নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
সিনেমার মতো নাটকে গান গেয়ে এত সাড়া পাব– কল্পনাও করিনি। অনেকের প্রশংসা পাচ্ছি আরফিন রুমির সঙ্গে গাওয়া ‘এটা আমাদেরই গল্প’ গানটি নিয়ে। শ্রোতাদের এই ভালো লাগার পেছনে কৃতিত্ব একার নয়; গীতিকার মাহমুদ মানজুর, শিল্পী ও সুরকার আরফিন রুমি থেকে শুরু নাটক-সংশ্লিষ্ট সবার।

‘এটা আমাদেরই গল্প’ গানের রেশ কাটতে না কাটতেই মুজার সঙ্গে গাওয়া আপনার দ্বৈত গান ‘মিনতি’ প্রকাশ পেল। এই গান প্রকাশের জন্য কি আরেকটু সময় নেওয়া যেত না?
‘মিনতি’ গানের প্রকাশনা পিছিয়ে দিলে কী হতো-না হতো– এসব নিয়ে আমি এবং মুজা দুজনই কেউ হিসাবনিকাশ করিনি। কাছাকাছি সময়ে একাধিক গান প্রকাশ পেতেই পারে। দেখার বিষয় হলো, গানগুলো শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণ করছে কিনা। তা ছাড়া ‘মিনতি’ আমার আগের গানগুলো থেকে অনেকটা আলাদা। এ আয়োজন নিয়ে প্রচুর নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। তাই গানটি শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে কোনো উৎসব বা দিবসের জন্য অপেক্ষা করিনি।
গায়কিতে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তুলে ধরতেই কি এবার মুজার সঙ্গে গান করা?
মুজার সঙ্গে গান গাওয়া হঠাৎ করেই। আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমরা একটা শো নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। গানের মানুষরা আড্ডা বা আলোচনায় বসলে যা হয় আর কি। ঘুরেফিরে নতুন কাজের পরিকল্পনার কথা চলেই আসে। এভাবেই কথায় কথায় ফিউশনধর্মী আয়োজনের প্রসঙ্গ চলে আসে। এরপর ‘মিনতি’ গানের পরিকল্পনা শুরু। বাঁধন গানের কথা লেখেন। আমি আর মুজা যৌথভাবে সুর করি। এরপর যখন মনে হয়েছে, কাজটি পরিকল্পনামাফিক হয়েছে, তখনই একরাশ ভালো লাগা নিয়ে গানে কণ্ঠ দিয়েছি। নতুন ও ভিন্ন ধরনের কাজের প্রতি একটা দুর্বার আকর্ষণ সব সময়ই ছিল। তাই সংগীতের নিরীক্ষায় মেতে ওঠা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবিনি।

সংগীত নিরীক্ষা, সব মাধ্যমে গেয়ে যাওয়া– এসবই কি ভার্সেটাইল শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য?
অস্বীকার করব না, ভার্সেটাইল শিল্পী হওয়ার বাসনা বহু বছর ধরে লালন করে আসছি। সেমি-ক্লাসিক্যাল গানের প্রতি দুর্বলতা থাকলেও সব ধরনের গানই গাইতে চেয়েছি এবং এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারকাখ্যাতির মোহে নয়; বরং সব ধরনের গান ভালো লাগে বলেই এমন চাওয়া। তাই সংগীতের সব মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। ১৭ বছরের পথপরিক্রমায় প্রাপ্তির হিসাবনিকাশ করিনি। তাই গানের নিরীক্ষা চালিয়ে দুঃসাহস দেখাতে পারছি। মানুষ গান শুনছে, বিনিময়ে ভালোবাসা দিচ্ছে– এতেই আমি খুশি।
দর্শক-শ্রোতার মত, গানের মতো নাচেও আপনি দারুণ পারদর্শী। গান ও নাচ একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে?
এখন পর্যন্ত নাচ ও গানের পারফরম্যান্স দুটোই সমানভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও এটাই চাইব। মঞ্চে গাইতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি নাচতে– দুটি কাজই সমান প্রিয়। বলতে পারেন, আমার প্রিয় দুই শিল্পী জেনিফার লোপেজ আর ডুয়া লিপাদের পথ অনুসরণ করেই গান ও নাচের সমন্বয়ে পারফরম্যান্স করে যাওয়ার চেষ্টা করছি। নাচ ও গানের উপস্থাপনায় কতটা সফল বা ব্যর্থ, তার বিচারভার দর্শক-শ্রোতার ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।

আইনি পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও নিয়মিত গান করে যাচ্ছেন। সময় মেলান কীভাবে?
গানের জন্য সময়ের কোনো অভাব নেই আমার। যতক্ষণ সজাগ থাকি, গানের মাঝেই ডুবে থাকি। বাবার ইচ্ছা পূরণে আইন পেশার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছি। তবে এটা ভাববেন না যে, আইনি পেশায় ফাঁকি দিয়ে গান করে যাচ্ছি। সত্যি এটাই, পেশাদারি ভাবনায় আমি পুরোপুরি সৎ। সংগীত বলয়ে বেড়ে ওঠা বলেই গানের প্রতি এক ধরনের বাড়তি দুর্বলতা আছে। তাই শিল্পী পরিচয়কে দূরে ঠেলে আলাদাভাবে কোনো কিছু করতে চাইনি।
- বিষয় :
- কণ্ঠশিল্পী
- গান
- নাচ
