ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘পৃথিবীকে জানতে হলে এমন যাত্রা প্রয়োজন’

‘পৃথিবীকে জানতে হলে এমন যাত্রা প্রয়োজন’
×

ইরফান সাজ্জাদ। ছবি: ফেসবুক

ইরফান সাজ্জাদ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৫৭

ব্যক্তিগত কিংবা শুটিংয়ের কাজে হোক, সুযোগ পেলেই ছুটে যাই প্রকৃতির সান্নিধ্যে। সম্প্রতি গিয়েছিলাম অস্ট্রেলিয়ায়। ক্যাঙারুর দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার কাছে ছিল অন্যরকম। অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল এই দেশটার প্রকৃতি, সমুদ্র আর পাহাড়কে কাছ থেকে দেখার। অবশেষে সেই সুযোগ এলো। পুরো ভ্রমণে আমি যেন নতুন এক পৃথিবী আবিষ্কার করেছি।

প্রথমেই গিয়েছিলাম নিউ সাউথ ওয়েলসের স্ট্যানওয়েল পার্কে। সিডনি থেকে কিছুটা দূরে এই জায়গাটি যেন প্রকৃতির এক নিভৃত স্বর্গ। সবুজ পাহাড় আর নীল সমুদ্রের মেলবন্ধন আমাকে মুগ্ধ করেছে। সমুদ্রের ঢেউ আর পাহাড়ের ঢাল একসঙ্গে এমন সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কাছেই ছিল বাল্ড হিল লুকআউট, স্ট্যানওয়েল টপস। সেখানে দাঁড়িয়ে পুরো উপকূলরেখা দেখা যায়। উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে, পৃথিবীটা কত বিশাল আর সুন্দর! প্যারাগ্লাইডারদের আকাশে ওড়াওড়ি দেখেও দারুণ লেগেছে।

এরপর গিয়েছিলাম সিডনির বিখ্যাত ম্যানলি বিচে। এই সৈকতের প্রাণচাঞ্চল্য একেবারেই আলাদা। সূর্যের আলোয় ঝলমলে বালুকাবেলা, সার্ফিং করা মানুষ আর দূরে নীল সমুদ্র–সব মিলিয়ে এক অসাধারণ পরিবেশ। আমি অনেকক্ষণ সমুদ্রতীরে হাঁটলাম। ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল, জীবনের সব ক্লান্তি ধুয়ে যাচ্ছে। সিডনির আধুনিকতার মাঝেও প্রকৃতির এমন উন্মুক্ত রূপ আমাকে দারুণভাবে টেনেছে।

ইরফান সাজ্জাদ। ছবি: ফেসবুক

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হলো। অ্যাডিলেইড শহরটি শান্ত, পরিচ্ছন্ন আর গোছানো। শহরের সৌন্দর্য আর মানুষের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখান থেকেই গিয়েছিলাম বারোসা ভ্যালিতে। বিশ্বখ্যাত এই ওয়াইন অঞ্চল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য স্বর্গ। সবুজ আঙুরক্ষেত আর বিস্তীর্ণ প্রান্তর দেখে মনে হয়েছে, যেন ছবির ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। প্রকৃতির এমন নিস্তব্ধতা মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়।

গুমেরাচায় গিয়ে দেখেছি দ্য বিগ রকিং হর্স। বিশাল আকৃতির দোলনা ঘোড়া দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি মজার প্রতীক। সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি, চারপাশ ঘুরে দেখেছি। জায়গাটি পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দারুণ।

এই পুরো ভ্রমণে আমি উপলব্ধি করেছি, অস্ট্রেলিয়া শুধু আধুনিক শহরের দেশ নয়, বরং প্রকৃতি আর সংস্কৃতির এক অসাধারণ মেলবন্ধন। পাহাড়, সমুদ্র, শহর আর গ্রাম–সবকিছুর মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য আছে। ভ্রমণ শেষে মনে হয়েছে, পৃথিবীকে জানতে হলে এমন যাত্রা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়া আমার মনে চিরদিনের জন্য এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

ইরফান সাজ্জাদ। ছবি: ফেসবুক

২০১৩ সালে প্রথমবার দেশের বাইরে যাই থাইল্যান্ডে। একটি রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে শোবিজে পথচলা শুরু, আর সেই আয়োজনের সূত্রেই জীবনের প্রথম বিদেশ সফর। বিমানের জানালা দিয়ে অপরিচিত আকাশ দেখার অনুভূতিটা আজও স্পষ্ট মনে আছে। নতুন দেশে পা রাখার মুহূর্তে ভেতরে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ কাজ করছিল।

এরপর সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ভারত, নেপালসহ নানা দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তবে সুইজারল্যান্ড আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। বরফঢাকা পাহাড় আর সবুজ উপত্যকা যেন স্বপ্নের দৃশ্য। মনে হয়েছে প্রকৃতি নিজেই যত্ন করে সাজিয়েছে দেশটিকে। তবু নিজের দেশের সৌন্দর্যও কম নয়, সময় পেলেই দেশের প্রকৃতির টানে বেরিয়ে পড়ি।

লেখক: ইরফান সাজ্জাদ, অভিনেতা

আরও পড়ুন

×