ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্লেব্যাকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: ডি’রকস্টার শুভ

প্লেব্যাকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: ডি’রকস্টার শুভ
×

খান মঈদুল ইসলাম শুভ।

রাসেল আজাদ বিদ্যু

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৫৯ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৫:৩৯

খান মঈদুল ইসলাম শুভ। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতায়োজক গানের ভুবনে যাঁকে সবাই চেনেন ‘ডি’রকস্টার শুভ’ নামে। সংগীত প্রতিযোগিতার বড় মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই শিল্পী এখন ব্যস্ত নতুন গানের আয়োজনে। সংগীতযাত্রা, সৃষ্টিতে নিজস্ব ভাবনা ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

ক’দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে শুভযাত্রা ব্যান্ডের ছবি শেয়ার করছেন। ব্যান্ডের নতুন কোনো আয়োজনের ঘোষণা আসছে কী? 
এই মুহূর্তে ঘোষণা একটাই, মে থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের সফরে কানাডা যাচ্ছি আমরা। শুভযাত্রা ব্যান্ডের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেশ কয়েকটি কনসার্ট করব। যদিও কানাডা সফরের এখন অনেক দেরি, তার আগে শ্রোতাদের কানে কিছু একটা পৌঁছে দেব। শুভযাত্রার পক্ষ থেকে ঈদের আগেই সেই ঘোষণা আসবে। 

একটু খোলাসা করে বলবেন, কী আসছে ঈদে? 
আগেই বেশি কিছু বলব না, শুধু এটুকু জানিয়ে রাখি, শুভযাত্রা ব্যান্ডের সংগীতায়োজনে শিল্পী জয় শাহরিয়ারের সঙ্গে একটি গান করছি। কী ধরনের গান? কার লেখা ও সুর? এসব প্রশ্ন উত্তর আপাতত নীরবতা ধরে রাখতে চাই। সবাইকে বলব, একটু অপেক্ষা করুন; ঠিক সময়ে সবই জেনে যাবেন।

দুই যুগের বেশি সময়ের সংগীত ক্যারিয়ার আপনার। তবু অনেকের অভিযোগ, গান প্রকাশে আপনি ধারাবাহিক নন– আসলেই কী তাই?
যারা প্রতিনিয়ত নতুন গানের প্রতীক্ষায় থাকেন, তারা এমন অভিযোগ করতেই পারেন। মাঝে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে ফিরে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে উঠার সুযোগও হয়নি। এর জন্য অবশ্য দায়ী করা যায় আমার মানসিকতাকে; যা পছন্দ করি না, যশ-খ্যাতির জন্য তা করতেও মন সায় দেয় না। ডি’রকস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পরবর্তী সময়ের কথাই বলি, ওই সময় আমি বেশ কিছু সিনেমায় প্লেব্যাকের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। এবং নাক উঁচু স্বভাবের জন্য সেসব প্রস্তাব ফিরিয়েও দিয়েছি। কিন্তু এখন বুঝতে পারি, প্লেব্যাকের প্রস্তাব ফেরানো ভুল ছিল। কারণ সিনেমা এমন একটি মাধ্যম, যার সহজেই দর্শকের সঙ্গে মনের সংযোগ তৈরি করে। এজন্যই সিনেমার গানের আবেদন কখনও ফুরিয়ে যায়নি। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা এটাই, সৃষ্টিতে পূর্ণ স্বাধীনতা চাই। তা না পেলে প্রত্যাশিত কাজ তুলে ধরতে পারি না। 

দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও সংগীত পরিচালকের অনেকে মুখে আপনার প্রশংসা শোনা যায়। আপনার কাছে শ্রোতার প্রত্যাশাও চোখে পড়ার মতো। তারপরও কি ধারাবাহিকভাবে কাজ করার দায় অনুভব করেন না? 
অস্বীকার করব না, সংগীতাঙ্গনের অনেক গুণী মানুষের আশীর্বাদ পেয়েছি। শ্রোতারা নতুন কিছু আশা করেন– এটাও বুঝতে পারি। সে কারণেই এখনও গান করে যাচ্ছি। হয়তো সমসাময়িক বা নতুনদের অনেকের তুলনায় আমার গানের সংখ্যা কম, কিন্তু তবু চেষ্টা করে গেছি, সেই কাজটি তুলে ধরার, যা ভক্তদের নিরাশ করবে না। মানছি, ভক্ত-অনুরাগীদের যতটা চাওয়া ছিল, সবসময় তা পূরণ করতে পারিনি। এর পেছনে কিছু কারণও আছে। অনেক জায়গায় এমন হয়েছে, আমাকে গান গাইতে দেওয়া হয়নি। কোনো একটি কারণ দেখিয়ে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর সেসব অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতেও ভালো লাগে না বলেই চুপচাপ থাকি। 

দেশ-বিদেশের একাধিক সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন। তারপরও আপনার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি– এমন কথা কখনও মনে হয়? 
আকাশচুম্বী জনপ্রিতা পাব, দেশের শীর্ষ তারকা হিসেবে আমাকে গণ্য করা হবে– এ ধরনের ভাবনা মনে বাসা বাঁধলে হয়তো আফসোস হতো। গানের ভুবনে সঠিক মূল্যায়ন হয়নি– বলে অনুযোগ করা যেত। কিন্তু আমি খ্যাতির পেছনে ছুটে বেড়াইনি। আমি কমল নামে [পরবর্তী নাম : রুটস] সেই ব্যান্ডের সদস্য ছিলাম যেটি ২০০৩ সালে বেনসন অ্যান্ড হেজেস স্টার সার্চ প্রতিযোগিতায় সেরা ব্যান্ডের পুরস্কার পেয়েছিল। এরপর ২০০৬ সালে ‘ডি রকস্টারস’ সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। দেশের বাইরে ‘সাউথ এশিয়ান সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলাম। যেখানে প্রতিযোগী হিসেবে ছিলেন ভারতের নেহা কক্করসহ এ সময়ের বেশ কিছু তারকাশিল্পী। এসব অর্জন শীর্ষ তারকা হওয়ার মোহ নয়, আমাকে প্রেরণা জোগায় ভালো কাজের। তাই শিল্পীজীবনে কী পেলাম, কী পেলাম না, এসব প্রশ্ন অবান্তর।

আরও পড়ুন

×