ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

স্ত্রী ইকরার মৃত্যু

ভিডিও বার্তায় আত্মগোপনে থাকার কারণ জানালেন আলভী

ভিডিও বার্তায় আত্মগোপনে থাকার কারণ জানালেন আলভী
×

জাহের আলভী। ছবি:ভিডিও থেকে

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৩:১৪ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ | ০৩:২৮

অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার মৃত্যুর খবর সবারই জানা। ইকরার মৃত্যুর সময় শুটিংয়ে নেপালে ছিলেন আলভী। সেখান থেকে ঐদিন দেশে ফেরার খবরও শোনা গেছে। তবে স্ত্রীর শেষ বিদায়ের সময়ে তাকে দেখা যায়নি। বিপরীতে স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় আলভীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার রাতে নিজের ফেসবুকে প্রায় আধাঘণ্টার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন অভিনেতা। যেখানে তাকে বেশ বিধ্বস্ত ও ভীত মনে হয়েছে। ভিডিওতে স্ত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া প্রায় সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন অভিযুক্ত অভিনেতা আলভী। জানিয়েছেন, তিনি মূলত মবের ভয়ে আত্মগোপনে আছেন।

প্রায় আধাঘণ্টার এই ভিডিও ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘কথাগুলো শুনবেন এবং প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করবেন।’ এরপর তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘গল্পের একটা পাতা পড়েই জাজ করছেন, গল্পের একটা পাতা পড়েই আপনারা মনের মতো যা ইচ্ছা বলছেন। কিন্তু পাতার একপাশ পড়বেন, অন্যপাশ পড়বেন না; তা তো হয় না।’

আলভী বলেন, ‘আমি আসলে সবকিছু গুছিয়ে বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। আপনাদের কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিতেই আমি ভিডিওটি করছি।’

এরপর আলভী বলেন, ‘আপনাদের শেষ প্রশ্ন থেকেই শুরু করছি। আপনারা বলছেন, যে মানুষটা (ইকরা) ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করে চলে গেল, মরে গেল- শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতেও আমি আসলাম না! এই যে আপনাদের প্রশ্নটা, আচ্ছা, আপনারা কি আমার দেশে আসার পরিস্থিতি রেখেছেন? দেশে আসার পরই আমার ওপর মব তৈরি হবে, আমি দেশে আসা মাত্রই আপনারা আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলবেন। আমার ফোনে এতো এতো থ্রেটস। আমি আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না।’

এই অভিনেতা বলেন, ‘আমার কাছে এমন তথ্যও এসেছে যে, আমি দেশে আসলে বিমানবন্দরের বাইরে লোক রাখা আছে। আমি আসা মাত্রই তারা আমাকে মেরে ফেলবে। পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে ঠিক আছে, আমি সেটা আইনিভাবে মোকাবেলা করবো। কিন্তু এখন যদি আমিও মারা যাই, রিজিকের (পুত্র) মায়ের কাছে চলে যাই- তাহলে রিজিকের কী হবে? আপনারা কি চান রিজিক তার বাবাকেও হারাক? এই ছেলেটার কী দোষ? সে কীভাবে বড় হবে? মা-ও থাকবে না, বাবাও থাকবে না- আপনারা এটা চান? ইকরার শেষ মুখটা আপনারা আমাকে দেখতে দেননি, ইকরার পরিবার আমাকে দেখতে দেয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘১৬ বছর ইকরার সাথে সংসার করছি। একটা মানুষ যদি তার শত্রুর সাথেও ১৬ বছর সংসার করে, এক ছাদের নিচে থাকে- সে মারা গেলে তাকে দেখার জন্য ছটফট করে। আর সে আমার বউ  ছিলো, ভালোবেসে আমরা বিয়ে করেছি। সে মারা গেছে, শেষবারের মতো তার চেহারা আমি দেখবো না?’

বলা দরকার, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসায় আত্মহত্যা করেন ইকরা। সেসময় আলভী নাটকের শুটিংয়ে নেপালে ছিলেন। ঘটনার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান আলভী।

ফেসবুক পোস্টে আলভী তখন লেখেন, ‘মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’

অবশ্য এরমধ্যেই ইকরার পরিবার অভিযোগ করেন, একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর জন্যেই আলভী-ইকরার মধ্যে দাম্পত্য কলহের শুরু। সে কারণেই ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

সেই প্রেক্ষিতে ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে আলভীসহ বেশ কয়েকজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

আরও পড়ুন

×