মহানায়িকার জন্মদিনে যে আয়োজন থাকছে
সুচিত্রা সেন
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:২৮
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘নায়িকা’ শব্দটির সঙ্গে যাঁর নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি সুচিত্রা সেন। রূপ, অভিনয় আর রহস্যময় ব্যক্তিত্বে যিনি হয়ে উঠেছিলেন মহানায়িকা। আজ তাঁর ৯৫তম জন্মদিন। এ বিশেষ দিনকে ঘিরে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ অভিনেত্রীর পাবনার পৈতৃক বাড়ির ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন ডা. রামদুলাল ভৌমিক।
সূচিত্রা সেন ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ এপ্রিল পাবনা শহরের হেমসাগর লেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন পাবনা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেন, তাঁর নাতনি রিয়া সেন ও রাইমা সেনও খ্যাতনামা অভিনেত্রী। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হন।
দুই বাংলায় জনপ্রিয়তার কমতি নেই এই শিল্পীর। তাঁর প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ‘শেষ কোথায়’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। পরের বছর মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন।
এ জুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো– ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সবার উপরে’, ‘পাপমোচন’, ‘শিল্পী’, ‘সাগরিকা’, ‘পথে হলো দেরি’, ‘হারানো সুর’, ‘গৃহদাহ’, ‘প্রিয় বান্ধবী’। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ‘দেবদাস’ ছিল সুচিত্রা সেন অভিনীত প্রথম হিন্দি সিনেমা। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে অজ্ঞাত কারণে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান সুচিত্রা সেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ পান সুচিত্রা সেন। এ ছাড়া ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলাবিভূষণ সম্মাননা দেওয়া হয় তাঁকে। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে তিনি পরলোকগমন করেন।
- বিষয় :
- সুচিত্রা সেন
- জন্মদিন
