রুপাই–সাজুর প্রেম-বিয়োগে আবেগঘন সন্ধ্যা
রুপাই ও সাজুর ভূমিকায় ছিলেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপা। ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৫ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৯
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন-এর জন্মদিনকে ঘিরে এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মঞ্চে জীবন্ত হয়ে উঠল তাঁর অমর কাব্য নকশিকাঁথার মাঠ-এর রুপাই–সাজুর বিরহগাথা। ‘বেঙ্গল ইন মোশন’-এর তৃতীয় আয়োজনে নৃত্যনাট্যের ভাষায় তুলে ধরা হলো এই কালজয়ী প্রেম ও বিয়োগান্ত কাহিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোডের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে যৌথভাবে এই আয়োজন করে এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ ও স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ন্যাচারাল ওয়েলনেস ব্র্যান্ড মায়া। কবির ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর এই অনবদ্য সৃষ্টি নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। উল্লেখযোগ্য এই কাব্যটি বিশ্বের নানা ভাষায় অনূদিত হয়ে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
_1776491217.jpeg)
নৃত্যনাট্যটি পরিবেশন করে নৃত্যাঞ্চল। কিউরেটর ছিলেন নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু। প্রধান দুই চরিত্র রুপাই ও সাজুর ভূমিকায় মঞ্চে ওঠেন দেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নীপা। তাঁদের অনবদ্য অভিব্যক্তি, নিখুঁত নৃত্যভঙ্গি এবং সহশিল্পীদের সমন্বয়ে পুরো পরিবেশনা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন ও হৃদয়স্পর্শী।
‘নকশিকাঁথার মাঠ’ মূলত এক বিয়োগান্ত প্রেমের কাহিনি। গ্রামের বলিষ্ঠ যুবক রুপাই ও অপর গ্রামের তরুণী সাজুর প্রেম, বিয়ে এবং পরবর্তী বিচ্ছেদ—সব মিলিয়ে এক গভীর মানবিক গল্প। দস্যুদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় রুপাইয়ের গ্রামছাড়া হওয়া এবং সেই থেকে শুরু হওয়া বিচ্ছেদের যন্ত্রণা—নৃত্যের ভাষায় তা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
_1776491289.jpeg)
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক রুমানা চৌধুরী জানান, ২০২২ সাল থেকে তারা নৃত্যশিল্পীদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে কাজ করছেন। ‘মায়া’র সহযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে এই আয়োজন এগিয়ে যাচ্ছে।
স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্কয়ার সবসময় পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সমাপনী বক্তব্যে কিউরেটর আনিসুল ইসলাম জানান, বাংলা নববর্ষ ও আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসকে সামনে রেখে এই আয়োজন সাজানো হয়েছে। প্রথম আয়োজনে ছিল বিভিন্ন ধাঁচের শাস্ত্রীয় নৃত্য, দ্বিতীয়বারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর নৃত্যনাট্যের অংশ, আর এবারে মঞ্চে এসেছে পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের অমর সৃষ্টি।
_1776491317.jpeg)
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমির উদ্যোগে প্রথমবার ‘নকশিকাঁথার মাঠ’ নৃত্যনাট্যে রূপ নেয়। নির্দেশনায় ছিলেন নৃত্যগুরু জি এ মান্নান এবং সংগীতায়োজনে খাদেম হোসেন খান। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একই ধারা অনুসরণ করে এবারের পরিবেশনাটি সাজানো হয়।
- বিষয় :
- নৃত্য ও সংগীত
