শিল্পকলায় স্মরণে চার সুরসাধক
চলছে ৪৫ মনীষীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনের জীবন ও কর্মের নান্দনিক দিকগুলো স্মরণ হয় শিল্পকলা একাডেমির মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ | ২২:৪৭ | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ | ২২:৪৮
আধুনিক বাংলা, উর্দু গান ও গজলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী একজন কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮- এক দশক জুড়ে চলচ্চিত্র ও বেতারে দাপুটে শিল্পী ছিলেন তিনি। তার জীবন ও কর্মের নান্দনিক দিকগুলো স্মরণ হয় শিল্পকলা একাডেমির মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে ১০ দিনব্যাপী ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন’ শীর্ষক আয়োজন। আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলা এই বিশাল কর্মযজ্ঞে স্মরণ করা হচ্ছে দেশের ৪৫ জন বরেণ্য গুণীজনকে। রোববার জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তন মুখরিত ছিল চার বরেণ্য সুরসাধক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীর স্মৃতিচারণে।
বিকাল ৪টায় ছিল এদিনের আয়োজনের প্রথম পর্ব। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক পূর্ণলাক্ষ চাকমার স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইলিয়া সুমনা। একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ফরিদা ইয়াসমিন স্মরণে মুখ্য আলোচক ছিলেন সংগীতশিল্পী ফওজিয়া খান। এই পর্বে শিল্পী জিনিয়া হাসান ও আবিদা রহমান সেতুর কণ্ঠে ফরিদা ইয়াসমিনের গানগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পায়।
এরপর বিকাল ৫টায় স্মৃতির আঙিনায় ভেসে ওঠেন আরেক কিংবদন্তি- খ্যাতিমান সুরকার, সংগীত পরিচালক ও রবীন্দ্র সংগীত গবেষক ওয়াহিদুল হক। যিনি ছিলেন একজন লেখক ও সাংবাদিক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা শিল্পী সংস্থার প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে জুগিয়েছিলেন মুক্তির অমোঘ প্রেরণা। এই সাংস্কৃতিক মহিরুহকে নিয়ে গভীর ও মননশীল আলোচনায় অংশ নেন বরেণ্য লেখক ও গবেষক মফিদুল হক। ড. অনুপম কুমার পাল ও শিল্পী হিমাদ্রী রায়ের একক সংগীত পরিবেশনায় ওয়াহিদুল হকের প্রতি নিবেদিত হয় সুরের অর্ঘ্য।
একুশের অমর সুরের অনুরণনে সন্ধ্যা ৬টায় স্মরণ করা হয় প্রখ্যাত সুরকার, সংস্কৃতিকর্মী ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদকে। বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ সুরের স্রষ্টা এই অকুতোভয় ভাষাসৈনিক। তাঁর বর্ণাঢ্য, তেজোদীপ্ত ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন সরকারি সংগীত কলেজের সহকারী অধ্যাপক সায়মা আহমেদ। শিল্পী এম এ মমিন ও শারমিন আক্তার শাওনের কণ্ঠে পরিবেশিত গানে এই পর্বে মূর্ত হয়ে ওঠে আলতাফ মাহমুদের শাশ্বত আদর্শ।
সন্ধ্যা ৭টায় দিনের শেষ আয়োজনটি নিবেদিত ছিল নিভৃতচারী সংগীতজ্ঞ ও সংগীত গবেষক সুধীন দাশের প্রতি। কাজী নজরুল ইসলামের ধ্রুবতারা সদৃশ সৃষ্টিগুলোকে তিনি আদি গ্রামোফোন রেকর্ডের বাণী ও সুর অনুসারে স্বরলিপি প্রণয়নের মাধ্যমে শুদ্ধরূপে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর সেই আজীবনের অক্লান্ত সাধনার কথা স্মরণ করেন প্রাবন্ধিক ও লেখক শাহীনুর রেজা। শিল্পী আক্কাস হোসাইন ও সুস্মিতা দেবনাথ সুচির সুমধুর কণ্ঠের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে রোববারের এই নান্দনিক স্মরণিকার।
- বিষয় :
- কণ্ঠশিল্পী
- শিল্পকলা একাডেমি
