ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বছরে দশটা কাজের চেয়ে একটা ভালো কাজেই আমি খুশি: নাবিলা

বছরে দশটা কাজের চেয়ে একটা ভালো কাজেই আমি খুশি: নাবিলা
×

মাসুমা রহমান নাবিলা। ছবি: ফেসবুক

অনিন্দ্য মামুন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ১৬:২৩ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ১৬:৪৭

মাসুমা রহমান নাবিলা। অভিনেত্রী ও উপস্থাপক। গেল ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘বনলতা সেন’ সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আছেন তিনি। সিনেমাটিতে তাঁর যাত্রা, সাফল্য, অভিনয়জীবনের বর্তমান ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

বনলতা সেন মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন পেয়েছেন?
সত্যি বলতে আমি খুবই অভিভূত। একটি কাজ করার সময় শিল্পী হিসেবে আমাদের অনেক প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু দর্শক সেটিকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটা নিয়ে সবসময়ই একটা অনিশ্চয়তা থাকে। ‘বনলতা সেন’ মুক্তির পর যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটা আমাকে ভীষণ আনন্দিত করেছে। সবচেয়ে ভালো লাগছে, দর্শক শুধু আমার অভিনয় নয়, পুরো সিনেমার নির্মাণ, সেট, পোশাক, আবহ– সবকিছু নিয়ে কথা বলছেন।

এই চরিত্রের জন্য নিজেকে কতটা প্রস্তুত করেছিলেন?
এককথায় অনেক। আমি সাধারণত খুব বেশি কাজ করি না। তাই যখন কোনো কাজ করি, তখন চেষ্টা করি পুরোপুরি নিজেকে সঁপে দিতে। বনলতা সেনের জন্য আমাকে ওজন কমাতে হয়েছে। জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কিছু কাজের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছি, কারণ এই চরিত্রের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলাম। শুটিংয়ের সময়ও বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ ছিল। সব মিলিয়ে এটি আমার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন যাত্রাগুলোর একটি।

সিনেমাটি আপনার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে বলে মনে করছেন কী?
হ্যাঁ। একজন শিল্পী হিসেবে ভালো কাজের ক্ষুধা সবসময়ই থাকে। দর্শক যখন একটি কাজ গ্রহণ করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই নতুন দরজা খুলে যায়। তবে আমি সংখ্যার চেয়ে মানকে বেশি গুরুত্ব দিই। বছরে দশটা কাজ করার চেয়ে একটা ভালো কাজ করতে পারলে আমি বেশি খুশি। এটি সেই একটি কাজের মতো একটি কাজ। সিনেমাটির চরিত্র আমাকে বহু বছর বাঁচিয়ে রাখবে বলে আমি মনে করি। 

মাসুমা রহমান নাবিলা। ছবি: ফেসবুক

বলছেন কম কাজ করেন। এই কম কাজ করাটা কেন?
এর পেছনে কারণ আছে। আমি কখনোই শুধু পর্দায় থাকার জন্য কাজ করতে চাইনি। যে গল্প আমাকে স্পর্শ করবে না, যে চরিত্র আমাকে নাড়া দেবে না, সেটি করার আগ্রহ পাই না। হয়তো এজন্য কাজের সংখ্যা কম, কিন্তু এতে আমার কোনো আফসোস নেই।

‘আয়নাবাজি’, ‘তুফান’ এবং এখন ‘বনলতা সেন’– এই যাত্রাকে কীভাবে দেখেন?
আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি। কারণ, আমার ক্যারিয়ারে যেসব কাজ করেছি, তার বেশির ভাগই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ‘আয়নাবাজি’ আমাকে নতুন পরিচয় দিয়েছে। ‘তুফান’ আমাকে অন্য ধরনের দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আর ‘বনলতা সেন’ একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে।

‘তুফান’-এ শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
খুব ভালো। সত্যি বলতে, আমাকে সবচেয়ে বেশি সারপ্রাইজ করেছেন শাকিব খান। আমরা বাইরে থেকে তাঁকে যেভাবে দেখি, বাস্তবে তিনি অনেক বেশি সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত। এত বড় একজন তারকা হয়েও সেটে তিনি খুব সহযোগিতাপরায়ণ। নতুন কিংবা সহশিল্পী– সবাইকে স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

শাকিব খানের সঙ্গে নতুন কোনো কাজের পরিকল্পনা হচ্ছে কী?
তুফান তো হয়েছে। আগামীতে যে হবে না তা কিন্তু বলা যায় না। গল্প ও চরিত্র ডিমান্ড করলে অবশ্যই হবে। তবে এই মুহূর্তে তেমন কোনো সুখবর দিতে পারছি না। 

মাসুমা রহমান নাবিলা। ছবি: ফেসবুক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ আছে বলে মনে করেন?
আগের চেয়ে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, কিন্তু আরও বদলানো দরকার। এখনও অনেক গল্প নায়ককেন্দ্রিক। তবে দর্শকের রুচি বদলাচ্ছে। এখন মানুষ ভালো গল্প দেখতে চায়। ফলে নারী চরিত্রকেও গুরুত্ব দিয়ে লেখার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে আরও শক্তিশালী নারী চরিত্রের সিনেমা তৈরি হবে।

উপস্থাপনা, অভিনয় ও সংসার– সবকিছু কীভাবে সামলান?
সময় ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। মা হওয়ার পর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গেছে। এখন মেয়েকে ঘিরেই অনেক কিছু ভাবতে হয়। তবে আমি কাজও ভালোবাসি। তাই চেষ্টা করি দুটো জায়গাতেই ভারসাম্য রাখতে।

সামনে কী নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন?
কয়েকটি কাজ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনই কিছু বলতে চাই না। আমি সবসময় এমন কাজের অপেক্ষায় থাকি, যেটা আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জ দেবে। আশা করি, সামনে দর্শকদের জন্য আরও কিছু ভালো কাজ নিয়ে হাজির হতে পারব।

আরও পড়ুন

×