ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

অভিনেতার বাইরে অন্য এক নিলয় আলমগীর

অভিনেতার বাইরে অন্য এক নিলয় আলমগীর
×

ছবি: সংগৃহীত

মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১২:১৯

টিভি পর্দায় নানা চরিত্রে দেখা যায় প্রিয় শিল্পীদের। কখনো কোটিপতি থেকে দিনমজুর- কত কত চরিত্রে তারা হাজির হোন। পেয়ে যান দর্শকদের ভালোবাসাও। তবে একজন শিল্পীর পরিচয়ের বাইরেও অনেকের ভেতরে যে একজন সুন্দর ও মানবিক মনের মানুষ বাস করে তার খোঁজ খুব একটা মেলে না। অভিনেতা নিলয় আলমগীরের ভেতরের সেই খোঁজটা অনায়াসেই মিলল যেনো। 

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রঙ্কসের একটি পার্ক।  এই অঞ্চলের অধিবাসীরা এই পার্কে নিয়মিত শরীর চর্চা করতে আসেন। সেখানেই অভিনয় নিলয় আলমগীরের  সঙ্গেও দেখা। বেশ ক’মাস হলো এই  এলাকায় অবস্থান করায় তিনিও এই পার্কে আসেন। শরীর চর্চার ফাঁকে নানান বিষয় নিয়ে  আলাপ হয়। কাছ থেকে মিশে আমি বুঝতে পারি, পর্দায় যে মানুষটিকে আমরা দেখি, তার চেয়েও অনেক বেশি মানবিক একজন মানুষ বাস্তবের নিলয় আলমগীর।

পশুপাখির প্রতি তার দরদ এবং ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হই। কথায় কথায় তিনি পশু প্রেমের অনেক গল্প করেন আমার সঙ্গে। তার গল্পগুলো শুনে আমার মন থেকে তাকে স্যালুট জানাতে ইচ্ছে হলো। পরে ভাবলাম, এই নিয়ে যদি লিখতে পারি তবে মানুষের মদ্যে পশুপ্রেম জাগ্রত হবে। অন্তত যারা নিলয় আলমগীরের নাটক দেখেন তারাও যদি পশুপাখির প্রতি সদয় হয়; এটি অনেক কল্যাণকর হবে প্রকৃতির জন্য! 

একদিন কথায় কথায় আমি তাকে বলি, 'বাংলাদেশে তো মানুষের জীবনেরই কোনো মূল্য নেই। তুচ্ছ কথা কাটাকাটি নিয়ে মানুষ মানুষকে মেরে ফেলছে। পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি হারিয়ে ফেলছে, সেখানে আপনি পশুপ্রেম নিয়ে এত কথা বলেন!'

আমার প্রশ্ন শুনে তিনি কিছুক্ষণ চুপ হয়ে থাকলেন। তারপর খুব শান্তভাবে বললেন, 'আরে ভাই, একটা বিষয় ভেবে দেখো। একজন মানুষের মধ্যে যদি সামান্য পরিমাণেও পশুপ্রেম থাকে, তাহলে তার পক্ষে অন্য একজন মানুষকে হত্যা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।'

আমি তার কথার ব্যাখ্যা জানতে চাইলাম। তিনি ফের বলেন, 'যে মানুষ একটি পশুর কষ্ট দেখে ব্যথিত হয়, যে একটি নির্বাক প্রাণীর যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে, তার হৃদয়ে সহানুভূতি বেঁচে থাকে। আর যার হৃদয়ে সহানুভূতি আছে, তার পক্ষে অন্য একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া সহজ নয়।'

এরপর তিনি আমাকে একটি প্রশ্ন করেছি, যা আজও মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে-'তুমি একটু ভেবে দেখো, একটি পশু ব্যথা পেলেই যে মানুষ কষ্ট পায়, তার পক্ষে কি আরেকজন মানুষকে হত্যা করা সম্ভব?'

তার কথাগুলো আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। আমরা অনেকেই পশুপ্রেমকে শুধু প্রাণী ভালোবাসার বিষয় হিসেবে দেখি। কিন্তু নিলয় আলমগীররে দৃষ্টিভঙ্গি আরও গভীরের। তার কাছে পশুপ্রেম মানে জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা, দুর্বল ও অসহায় সত্তার প্রতি মমতা এবং সর্বোপরি মানবিকতার চর্চা! 

আমি আরও উপলব্ধি করি, যে মানুষ একটি ক্ষুধার্ত কুকুরকে দেখে খাবার দিতে চায়, আহত একটি বিড়ালকে দেখে থেমে যায়, কিংবা একটি প্রাণীর কষ্টে ব্যথিত হয়—সে মানুষ হিসেবে আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সেই সংবেদনশীলতাই তাকে অন্য মানুষের প্রতি দয়ালু ও সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। আজ যখন সমাজে সহিংসতা, ঘৃণা এবং অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, তখন নিলয় আলমগীরের কথাগুলো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। কারণ, মানবিকতা কখনো হঠাৎ তৈরি হয় না; তা ছোট ছোট মমতা, দয়া এবং সহানুভূতির মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে।

আমার কাছে নিলয় আলমগীর শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি আমাকে শিখিয়েছেন—পশুপ্রেম আসলে শুধু পশুকে ভালোবাসা নয়; পশুপ্রেম হলো হৃদয়ের মানবিকতাকে বাঁচিয়ে রাখার একটি সুন্দর উপায়। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক!

আরও পড়ুন

×