ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আবেগাপ্লুত পূর্ণিমা বললেন, এমন উপহারে সত্যিই চমকে গেছি

আবেগাপ্লুত পূর্ণিমা বললেন, এমন উপহারে সত্যিই চমকে গেছি
×

পূর্ণিমা। ছবি: ফেসবুক

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১৫:০৭ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ | ১৫:২৪

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সৌন্দর্য, অভিনয় আর ব্যক্তিত্বের অনন্য সমন্বয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকের ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনি। বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে সাহিত্যনির্ভর গল্প, নাটক থেকে উপস্থাপনা– প্রতিটি মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। শনিবার (১১ জুলাই) তাঁর জন্মদিন।

১৯৮৪ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন পূর্ণিমা। মায়ের উৎসাহ মাত্র ১৪ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিষেক ঘটেছিল। প্রথম ছবিতেই নজর কাড়লেও সাফল্যের স্বাদ পান ‘যোদ্ধা’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।

বাণিজ্যিক সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে অভিনয়ের দক্ষতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। একই সঙ্গে নাটকেও রেখে গেছেন শক্তিশালী উপস্থিতি। 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অবশ্য সব সময় সাফল্যের গল্প ছিল না। একসময় হতাশা তাঁকে অভিনয় থেকে খানিকটা দূরে সরিয়ে দেয়। তবে থেমে থাকেননি। নতুন পরিচয়ে উপস্থাপনায় এসে আবারও দর্শকের ভালোবাসা জয় করেন। নিজের এই পথচলার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি স্মরণ করেন তাঁর মাকে।

পূর্ণিমার ভাষায়, “আমি আজীবন আমার মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। তিনি তাগিদ না দিলে আমি কখনও অভিনয়ে আসতাম না, পূর্ণিমা হয়ে উঠতাম না।”

বর্তমানে অভিনয়ে আগের মতো নিয়মিত নন তিনি। সংসার, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনকেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। জন্মদিন উপলক্ষে নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে পূর্ণিমা জানান, সবসময় চেয়েছি নিজের পরিবারকে সময় দিতে, এখন সেটাই করছি। তাঁর ভাষায়, জীবনের এই অধ্যায়টিও সমান উপভোগ করছেন তিনি।

তবে অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি জনপ্রিয় এই নায়িকা। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত জ্যাম ও গাঙচিল নতুন দুটি সিনেমার কাজ শুরু কছিলেন, যা এখন থমকে আছে। সিনেমা দুটির জট কবে খুলবে তার কিছুই জানেন না এই অভিনেত্রী। তবে বাংলাদেশের সিনেমার বর্তমান অবস্থা নিয়েও আশাবাদী পূর্ণিমা।

তাঁর বিশ্বাস, ভালো গল্পই পারে দর্শককে আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে। তিনি বলেন, দর্শকরা ভালো গল্প চান। ভালো গল্প হলে দর্শকরা অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে যান। প্রথমত গল্প, তারপর অভিনয় ও মেকিং– এই তিনটিই একটি সিনেমাকে সফল করে।

জন্মদিন উপলক্ষে এবারও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। চ্যানেল আইতে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা মুহূর্ত তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছে। লাল গালিচা, প্রিয় সহকর্মীদের শুভেচ্ছা এবং ব্যতিক্রমী চমকে ভরা সেই আয়োজনে আবেগাপ্লুত হয়েছেন পূর্ণিমা।

নায়িকা বলেন, এমন উপহারে সত্যিই চমকে গেছি। তবে দিনের শেষটা কাটবে পরিবারের সঙ্গেই। কারণ, আজকের পূর্ণিমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি আলো-ঝলমলে সেট নয়, প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে নির্ভার কিছু সময়।

আরও পড়ুন

×