ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরা চ্যালেঞ্জ ছিল: শ্যামল

নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে ধরা চ্যালেঞ্জ ছিল: শ্যামল
×
×

শ্যামল মাওলা। ছবি: ফেসবুক

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪২ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫:৪৩

অভিনেতা শ্যামল মাওলা। ওটিটি ও সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে এ অভিনেতার। গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘চিরকুট’। হাতে রয়েছে ওটিটির একাধিক কাজ। নির্মাতা মুনতাসির আকিব পরিচালিত এ সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে এই অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন। 

আপনার অভিনীত ‘চিরকুট’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
দর্শক এই সময়ে যে ধরনের সিনেমা দেখতে চান, এটি তেমনই। এ কারণে ‘চিরকুট’ নিয়ে দর্শকের মাঝে বেশ ভালো আগ্রহ দেখছি। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাস জীবন, বন্ধুত্ব আর নস্টালজিয়াটা মানুষ খুব ভালোভাবে উপভোগ করছে। এটি উৎসবের সিনেমা বলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। নির্মাতা মুনতাসির আকিব যেভাবে সত্য ঘটনাটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শক বেশ পজিটিভভাবেই গ্রহণ করছেন। সিনেমাটি শুধু বিনোদন দেবে না; বরং একটি বিশেষ সময়ের আবেগও দর্শকের মনে জাগিয়ে তুলবে। সবে তো সিনেমাটি মুক্তি পেল। পুরোপুরি দর্শক সাড়া জানতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। 

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে নব্বইয়ের দশকের পটভূমিতে কাজ করা নিশ্চয়ই বেশ কঠিন ছিল– 
নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্দায় তুলে ধরা নির্মাতার জন্য এবং আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সময়ের পার্থক্য, পোশাক, ক্যাম্পাসের পরিবেশ এবং সে সময়ের জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গকে গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপস্থাপন করা সহজ ছিল না।  তবে এই চ্যালেঞ্জটাই কাজের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ৯০ দশক ছিল আমার জীবনের সেরা সময়। তাই কাজটি বেশ উপভোগ করেছি। 

নাজিফা তুষির সঙ্গে নতুন সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন। ‘সুরাইয়া’ সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? 
রবিউল আলম রবি ভাইয়ের পরিচালনায় ‘সুরাইয়া’ একটি চমৎকার প্রজেক্ট। শিবব্রত বর্মনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিতে শহুরে জীবনের রুক্ষ বাস্তবতা ও মানবিক গল্পের এক দারুণ মিশ্রণ রয়েছে। সিনেমাটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যেমন-সিয়াটলের তাসভীর চলচ্চিত্র উৎসব এবং বুসান ফিল্ম বাজারে প্রশংসিত হয়েছে। নাজিফা তুষির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও বেশ দারুণ ছিল।

চলচ্চিত্র ও ওটিটির এই সময়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? 
বেশ সম্ভাবনাময় মনে করি। ওটিটির বিস্তৃতির পর থেকেই কাজের ধরন ও পরিসর বদলে গেছে। আগে টেলিভিশনে দীর্ঘ সময় কাজ করলেও বড় পরিসরে নিজেকে ভাঙার যে সুযোগ ওটিটি বা ভিন্নধর্মী সিনেমা আমাদের দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। খ্যাতির পেছনে না ছুটে প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার মধ্যে আমি অভিনয়ের আসল আনন্দ খুঁজে পাই। কাজটাকে ভালোবেসে সততার সঙ্গে করে যাওয়ার মাধ্যমে এই সময়টাকে উপভোগ করছি। আমি প্রচণ্ড আশাবাদী মানুষ। বর্তমান সময়ের দর্শকদের রুচির পরিবর্তনটা খুবই ইতিবাচক। দর্শক এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা গল্প, অভিনয়, নির্মাণশৈলী সবকিছু বিচার করে দেখে। তাদের এই প্রত্যাশাই আমাদের ভালো কাজ করতে উৎসাহ দেয়। 

ওটিটি ও বড়পর্দার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরও আপনি কেন নিয়মিত ছোটপর্দার নাটকে কাজ করে যাচ্ছেন? অনেকে তো এখন নাটক থেকে দূরে সরে থাকছেন।
আমার কাছে মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মের চেয়ে অভিনয়টাই সবচেয়ে বড় কথা। ওয়েব, টিভি, থিয়েটার কিংবা রেডিও–যে কোনো মাধ্যমেই যদি মনের মতো কোনো চরিত্র পাই, আমি সেখানে কাজ করতে প্রস্তুত। ওটিটির কাজের পাশাপাশি সময় পেলে নাটকেও অভিনয় করি; এমনকি সম্প্রতি কিছু একক নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের সঙ্গেও যুক্ত আছি। অভিনয় আমার পেশা এবং ভালোবাসা বটে, তাই কাজের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের চেয়ে চরিত্র, গল্প এবং সৃষ্টিশীলতাই আমার কাছে সবসময় বেশি প্রাধান্য পায়।

অভিনয়ের দীর্ঘ যাত্রার পর কখনও কি পরিচালনা করার ইচ্ছা পোষণ করেন?
 নাটক পরিচালনা নিয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট  কোনো পরিকল্পনা নেই। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা হয়তো 
ভবিষ্যতে পরিচালনার কাজে লাগাতে পারি। যখন সময়, সঠিক পরিকল্পনা এবং মানসিক প্রস্তুতি এক হবে, তখন পরিচালনায় আসার কথা ভেবে দেখব। আপাতত আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ অভিনয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।

আরও পড়ুন

×