ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ
×

অ্যান্ডি বার্নহাম

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৬ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৮

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোমবার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সম্প্রতি কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর গত শুক্রবার লেবার পার্টির ব্যাপক সমর্থনে দলটির নেতা নির্বাচিত হন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র। তবে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাওয়া বার্নহামের সামনে অপেক্ষা করছে একঝাঁক কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর পূর্বসূরিদের দ্রুত পতনের পেছনে যেসব সংকট দায়ী ছিল, সেগুলো কাটিয়ে ওঠাই হবে বার্নহামের প্রধান পরীক্ষা।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। তাই অর্থনীতির গতি ফেরানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হবে বার্নহামের মূল অগ্রাধিকার। তবে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্বের সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর হাতে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে সীমিত।
গত শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে ব্যয় কমাতে উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেছেন। তবে এএফপি বলছে, বার্নহামের অর্থনৈতিক রূপরেখা কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে তিনি কাকে অর্থমন্ত্রী বানাচ্ছেন তার ওপর।

সামাজিক কল্যাণ ও সেবা খাত সংস্কার
ক্রমবর্ধমান সামাজিক কল্যাণ খাতে ব্যয়ের লাগাম টানা বার্নহামের জন্য আরেকটি বড় মাথাব্যথা হতে পারে। এর আগে প্রবীণদের শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কাটছাঁট করতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। লেবার পার্টির ‘নরমপন্থি বাম’ ধারা থেকে আসায় বার্নহামের ওপর সামাজিক ভাতা না কমানোর চাপ থাকবে। তা সত্ত্বেও খাতটি সংস্কারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট ঘাটতি
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় আগামী চার বছরে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণের দায়িত্ব এখন বার্নহামের কাঁধে। ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষায় জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য দল ও মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে চাপ রয়েছে। অবশ্য বার্নহাম জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা প্রশ্নে আপস করবেন না তিনি।

লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা ধরে রাখা
কট্টর ডানপন্থি দল রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থি গ্রিন পার্টির দ্রুত বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা লেবার পার্টির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্নহাম এই দুই প্রান্তিক দলের প্রভাব মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব আদর্শে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক টনি ট্র্যাভার্স এএফপিকে বলেন, ভোটারদের ফিরিয়ে আনতে বার্নহামের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও কার্যকর রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে পারে।

ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রনীতি
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বার্নহামের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা, যিনি এরই মধ্যে বার্নহামকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় বার্নহাম ন্যাটোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন সবসময় অবিচল থাকবে।

আরও পড়ুন

×