ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

অবাক করা প্রাণী

অবাক করা প্রাণী
×

আসমাউল হুসনা

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২২ | ২৩:৩৪

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ প্রজাতির মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী রয়েছে। তাদের মধ্যে আফ্রিকায় বসবাসরত কালো লোমশ শিম্পাঞ্জি একটি জাতি। শিম্পাঞ্জি এমন একটি জাতির প্রাণী, যারা নিজেদের সমস্যা সমাধানে ব্যাপক পারদর্শিতার পরিচয় দেয়। এমনকি নিজেদের চলার জন্য যন্ত্রপাতিও তৈরি করে ফেলতে পারে তারা। শিকারও করে দলগতভাবে। আরও অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এরা যে কারও স্বাক্ষর দেখে মনে রাখতে পারে অনেক বছর। বিভিন্ন বস্তুর চিহ্ন মনে রেখে জটিল পরিকল্পনাও সাজাতে পারা এরা। শুধু তাই নয়, মানুষের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের জন্য ইশারার ভাষাও ব্যবহার করে এরা। এমন অসাধারণ বুদ্ধি নিয়ে তৈরি করে বিভিন্ন গোষ্ঠী, যেখানে সব নিয়ম মেনে খুব শক্ত সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে এই জাতি।
কি অবাক হচ্ছেন? এমন আরও কিছু প্রাণী রয়েছে যারা নিজেদের কৌশলগত আচরণের মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে বুদ্ধিমত্তার শীর্ষে। আসুন জেনে নেই তাদের সম্পর্কে-

কাক
ইট-পাথরের নগরীতে সবচেয়ে বেশি যে পাখিটি আমাদের চোখে পড়ে তা হলো কাক। নন-প্রাইমেট মেরুদণ্ডী প্রাণীগুলোর মধ্যে কাকই একমাত্র নিজস্ব হাতিয়ার আবিস্কার করে। শুধু তাই নয়, মানুষকে দিয়ে খোসাযুক্ত বাদাম ভাঙিয়ে নেওয়ারও প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথমে তারা গাছ থেকে বাদাম সংগ্রহ করে রাস্তায় রেখে আসে, যাতে গাড়িগুলো এর ওপর দিয়ে যায়। আর গাড়ির চাকা এর ওপর দিয়ে গড়ালেই বাদামগুলো ভেঙে যায় এবং রাস্তা ফাঁকা হলেই সেগুলো খাওয়ার জন্য নিয়ে আসে। এমনকি কাক মানুষের মুখ চিনতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করেন কাকের বুদ্ধিমত্তা ৭ বছর বয়সী শিশুর সমান।

হাতি
বন্যপ্রাণীদের মধ্যে হাতি সবচেয়ে বৃহদাকৃতির প্রাণী। এদের মস্তিস্কে মানুষের মতো নিউরন আছে। এরা নিজেদের খাবার নিজেরা পরিস্কার করে খায়। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এরা প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। এ ছাড়া দলের অন্যান্য হাতির প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এবং স্বসচেতনতা প্রদর্শন করে।

ডলফিন
স্তন্যপায়ী এই প্রাণীগুলোর মস্তিস্ক প্রায় মানুষের সমান। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় সমুদ্রে মৃত্যুর মুখে পড়া অনেক মানুষেরই জীবন বাঁচিয়েছে এরা। এর প্রধান কারণ, এদের প্রখর বুদ্ধিমত্তা। এ ছাড়া ডলফিনই একমাত্র সামুদ্রিক প্রাণী, যারা আত্মসচেতনতার মিরর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

গরিলা
মানুষ ও শিম্পাঞ্জির মতো গরিলাও প্রাইমেট প্রাণী। এরা প্রতীকীচিহ্ন ব্যবহারে খুব দক্ষ। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য মূল বাক্য গঠনও করতে পারে এরা। সাংকেতিক ভাষা শেখার জন্য এবং পোষা বিড়ালের যত্নের জন্য কোকো নামের গরিলার বেশ খ্যাতি রয়েছে।

তোতা পাখি
বিস্ময়কর স্মৃতি ও গণনা করার ক্ষমতার জন্য তোতা জগতের আইন্সটাইন নামে পরিচিত আফ্রিকান গ্রে। ধাঁধা সমাধান এবং কারণ ও প্রভাবের ধারণা বোঝার জন্য এদের মানবশিশুর মতো বুদ্ধিমান বলে মনে করা হয়। তা ছাড়া আফ্রিকান ধূসর তোতা পাখির মানুষের চিত্তাকর্ষক শব্দ ধারণ করতে এবং প্রেক্ষাপট বিশেষে বলতেও পারে।

অক্টোপাস
অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে অক্টোপাস অবিশ্বাস্য রকম চতুর। অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীর তুলনায় এদের মস্তিস্ক সবচেয়ে বড় হলেও নিউরনের তিন-পঞ্চমাংশ থাকে এদের বাহুতে। এটি একমাত্র প্রাণী, যা সরঞ্জাম ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়েছে। এ ছাড়া অটো নামক এক অক্টোপাস তার অ্যাকুয়ারিয়ামের উজ্জ্বল ওভারহেড লাইটে পাথর ছুড়ে ও জল ছড়িয়ে সেগুলো কমিয়ে পরিচিতি পেয়েছে।

কুকুর
কুকুর তার বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে সেরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ক্যানাসাইন ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ স্ট্যানলি কোরেনের মতে, গড়ে কুকুর মানুষের প্রায় ১৬৫টি শব্দ বোঝে। চেজার নামক একজন বর্ডার কলি ১ হাজার ২২টি শব্দ বোঝার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কুকুর সহানুভূতি সম্পন্ন একটি প্রাণী।

র‌্যাকুন
ইউএসডিএ ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার এবং ইউনিভার্সিটি অব ওয়ামিংয়ের গবেষণায় র‌্যাকুনদের মার্শমেলো, নুড়ি পাথরসহ পানির একটি কলসি দেওয়া হয়েছিল। মার্শমেলো পাওয়ার জন্য জলের পরিমাণ বাড়াতে অর্ধেক র‌্যাকুন নুড়ি পাথরের ব্যবহারের উপায় বের করেছে। আরেকটি সহজভাবে কলসের ওপর ঠকঠক শব্দ করে উপায় খুঁজেছিল। এ ছাড়া র‌্যাকুন যে কোনো সমস্যার সমাধান তিন বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে।
শিম্পাঞ্জির বুদ্ধির দৌড় তো আগেই বলেছি। এই দশ ধরনের প্রাণী বাদেও ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, বিড়াল, মুরগিসহ মৌমাছি এবং পিঁপড়ার মতো প্রজাতিগুলোও ভিন্ন ধরনের বুদ্ধি প্রদর্শন করে। প্রাণীগুলোর বুদ্ধিমত্তা মূলত আত্মসচেতনতার একটি আয়না পরীক্ষার পরিমাপ; যা মানসিক ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সামাজিক দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ করে। আমাদের চারপাশে থাকা জীবজগৎ কতইনা বৈচিত্র্যে ভরপুর। জীবনের রং রূপের মতোই
জীবজগতের প্রতিটি পর্ব বদলাতে থাকে আর আমাদের অবাক করে।

আরও পড়ুন

×