ইবিতে ছাত্রী নির্যাতন
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী
--
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৭:৪৫
ছাত্রলীগের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল শাখার সহসভাপতিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় ৩টা পর্যন্ত র্যাগিংয়ের নামে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও 'বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ' করা হয় বলে এক ছাত্রী অভিযোগ করেন।
এ ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং হল কর্তৃপক্ষ দুটি কমিটি গঠন করে। এসব কমিটির কাজ চলমান রয়েছে। তার মধ্যেই হাইকোর্টের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি গঠনের পর বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ তিন কমিটির কাছেই অভিযোগকারী ও অভিযুক্তরা বক্তব্য দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির সামনে অভিযুক্তরা হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছেন বলে ওই ছাত্রী জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন, বিভিন্ন পর্যায়ে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ছাত্রীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে কমিটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি ঘটনার রাতে হলে অবস্থানরত প্রত্যক্ষদর্শী, হলের আয়া ও ঘটনা-সংশ্নিষ্ট সন্দেহভাজন সবার সঙ্গে কথা বলেছে। অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটি ফের অভিযুক্ত, ভুক্তভোগী ও ঘটনা-সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারে বলে জানা গেছে।
জেড আই খান পান্না চেয়ারপারসন, আসক
র্যাগিং আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। তখন ছাত্র সংগঠনেও যুক্ত ছিলাম। কিন্তু এমন কিছু তখন ছিল না। এখনকার অবস্থা দেখলে আমার অবাক লাগে, মানতেও পারি না- কষ্ট হয়, লজ্জাবোধ করি। নতুন শিক্ষার্থীকে কেন নেতাদের কথায় চলতে হবে? নতুনদের যেখানে গাইড করা দরকার, সেখানে র্যাগ ডের নামে একজন নবাগত জুনিয়রকে এভাবে নির্যাতন করা কোনো রাজনীতির মধ্যে পড়ে না। এটা ওই নেতাদের দখলবাজির নিদর্শন। এটা শুধু ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের ছাত্রলীগের একক বিষয় নয়। ছাত্রদল বা বিএনপির নেতাদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনার নজির পাওয়া যায়। 'জোর যার মুল্লুক তার' চলছে। এটাই এখন রাজনীতির অংশ হয়ে ঊঠেছে। এটা পুরোপুরি বেআইনি কাজ। এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। মূলত শাস্তি হয় না বলেই আরেকটা ঘটনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। এ অবস্থা যদি সবার মধ্যেই চলতে থাকে, তাহলে আশাবাদী হওয়ার জায়গাটাও তো থাকে না।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনায় হাইকোর্ট থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিক। আমরা সে জন্য অপেক্ষা করছি। ওই প্রতিবেদন যেন ভুয়া, বিভ্রান্তিকর তথ্যে ভরা না হয়। ফরমায়েশি প্রতিবেদন না হয়ে যদি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন হয়, তাহলে ভবিষ্যতে র্যাগিংয়ের নামে নির্যাতন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে আমি আশাবাদী। া