ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বাবা, তোমার দীর্ঘ ছায়া

এক ব্যতিক্রমী মানুষ

এক ব্যতিক্রমী মানুষ
×

রওনক জাহান

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৩ | ১৮:০০

আমরা ছয় ভাইবোন। ছয়জনই স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমরা পড়াশোনায় ভালো ছিলাম। ভাইবোনেরা একজন আরেকজনকে সাপোর্ট করতাম। ছোটবেলা থেকেই ছিল আমাদের লেখাপড়ায় ক্যারিয়ার গড়ার প্রত্যয়। পঞ্চাশের দশকে আমরা যখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি, তখন খুব কম মেয়েই লেখাপড়া করত। আমার নিজেরও প্রবল ইচ্ছা ছিল কিছু একটা করার। আমি জানতাম– যদি আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, তাহলে লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই এবং লেখাপড়ায় আমাকে খুব ভালো হতে হবে। তা না হলে আমি নিজের পরিচয়ে দাঁড়াতে পারব না। বরাবরই আমার রেজাল্ট খুব ভালো ছিল। কারণ আমি জানতাম– পরিবারের সে রকম টাকা-পয়সা নেই। স্কলারশিপ নিয়েই আমি উচ্চশিক্ষা লাভ করেছি।

আমার গড়ে ওঠা, উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থনই ছিল মুখ্য। তবে বাবার সমর্থনটা ছিল ভিন্ন। আমার বাবার নাম আহমদ উল্লাহ। সরকারি চাকরি করতেন। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনি ছেলেমেয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না। ভাবতেন, তাঁর মেয়েরাও সমানভাবে লেখাপড়া করবে। এ ক্ষেত্রে আমার বাবার সঙ্গে মায়েরও অনেক সমর্থন আমরা পেয়েছি। বাবা ছিলেন ব্যতিক্রমী এক মানুষ।


বাবার বদলি সূত্রে অনেক স্কুলে পড়েছি। কুমিল্লায় ফয়জুন্নেসা স্কুলে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু। এরপর বাগেরহাটে পড়েছি চার বছর। বাবা বদলি হলেন ভোলায়। আমি তখন নবম শ্রেণিতে পড়ি। সেখানে মেয়েদের কোনো স্কুল ছিল না। বাবা যেহেতু সরকারি কর্মচারী ছিলেন, সরকারি কর্মচারীর সন্তান হিসেবে আমাকে সরকারি ছেলেদের স্কুলে ভর্তি করা হয়। তবে সেখানে ক্লাস করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শুধু পরীক্ষার সময় এসে পরীক্ষা দিয়ে যেতাম হেডমাস্টারের ঘরে বসে। তারপর আমার বাবা বদলি হন মুন্সীগঞ্জে। এরপর নারায়ণগঞ্জে। মুন্সীগঞ্জে স্কুলের স্যাররা জানতেন আমি পড়াশোনায় ভালো। তাই তাঁরা বাবাকে অনুরোধ করলেন, আমি যেন ওই স্কুল থেকেই ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিই। নারায়ণগঞ্জে স্কুলে ভর্তি হইনি। আমার স্কুলজীবনে আমি বিভিন্ন স্কুলে পড়েছি। আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষক ছিলেন বাবা। তিনিই আমার লেখাপড়ার মূল তদারকি করতেন। ম্যাট্রিকে রেজাল্ট খুব ভালো হয়েছিল। আমি মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়েছিলাম। সম্মিলিত মেধায় সপ্তম হয়েছিলাম।

আরও পড়ুন

×