হাসপাতালে স্ট্রোকের রোগীর দ্রুত চিকিৎসায় ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালুর পরামর্শ
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অতিথিরা। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:৩৮
দৈনন্দিন জীবনযাপনে অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসই স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের অভাব ও মানসিক চাপের মতো কারণগুলোই দেশে আশঙ্কাজনকভাবে স্ট্রোকের হার বাড়াচ্ছে। তাই, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অন্তত ১০ মিনিটের জন্য ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালুর ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব মত দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সঞ্চালনা করেন নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক সুজন শরীফ।
ঢামেকের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিটই অমূল্য। রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অন্তত ১০ মিনিটের জন্য ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু থাকা উচিত। যেখানে অন্য সব সেবা সাময়িক বন্ধ রেখে চিকিৎসক দল একযোগে কাজ করবেন। এই ১০ মিনিটেই নির্ধারিত হয় রোগী বাঁচবে না স্থায়ীভাবে পঙ্গু হবে।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, বিশ্বে প্রতি চারজনের একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশে। প্রতি মিনিটে প্রায় ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন নিউরন নষ্ট হয়। তাই কেউ স্ট্রোক করার সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া ও চিকিৎসা শুরু করা জরুরি।
অধ্যাপক শফিকুলের মতে, দেশে দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে, তবে স্ট্রোক ইউনিট ছাড়া শতভাগ চিকিৎসা সম্ভব নয়। ঢাকার বাইরে প্রতি ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটারে একটি করে এবং রাজধানীতে প্রতি ২৫ লাখ মানুষের জন্য অন্তত একটি স্ট্রোক সেন্টার থাকা দরকার।
ঢামেকের সহকারী অধ্যাপক সুমন রানা বলেন, ‘স্ট্রোক কোনো একদিনের রোগ নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ফল। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে স্ট্রোকের সরাসরি সম্পর্ক নেই, কিন্তু এটি মানুষের হাঁটা, নড়াচড়া ও ব্যায়ামের অভ্যাস কমাচ্ছে। ফলে শরীরের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে।’ তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা রেডিয়েশনের সঙ্গে স্ট্রোকের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক এখনও পাওয়া যায়নি।
এন্ডোভাসকুলার অ্যান্ড স্ট্রোক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক মোতাশিমুল হাসান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ফাস্ট ফুড এখন তাদের প্রধান খাবার, সে তুলনায় ব্যায়াম বা খেলাধুলা নেই। ফলে অল্প বয়সেই রক্তনালী শক্ত হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।
ঢামেকের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মনিরুজ্জামান বলেন, যত দ্রুত পুনর্বাসন শুরু করা যায়, রোগীর আরোগ্য তত ত্বরান্বিত হয়। রক্ত জমাট বাঁধাজনিত স্ট্রোকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনর্বাসন শুরু করা উচিত। আর রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে এক সপ্তাহ পর থেকে শুরু করা ভালো।
মনিরুজ্জামানের মতে, স্ট্রোক পুনর্বাসন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া; যেখানে চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল ও স্পিচ থেরাপিস্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়।
- বিষয় :
- সেমিনার
- চিকিৎসা
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
